“বাবিলের মতো ‘মেরুদণ্ডহীন’ ছেলে, মিটিলকে ডিজার্ভ করে না!” “আজ মিটিলের জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে, এতদিন নিজের কষ্ট আড়াল করা মেয়েটি আজ ভেঙে পড়ল!” ‘চিরসখা’য় বাবিলের সত্য প্রকাশে মিটিলের কান্নায়, দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া!

স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবাহিকটা বেশ কিছুদিন ধরেই সবকিছু ঠিক থাকায়, দর্শকদের মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি তৈরি করছিল। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে গল্পে বড় কোনও বিস্ফোরণ না ঘটলেও, চরিত্রগুলোর ব্যবহারে সূক্ষ্ম ফাটল ধরছে। প্রথমেই সেটা স্পষ্ট হয়, মিঠির অপহরণের ঘটনায়। তারপর বাবিলের বদলে যাওয়া আচরণ যেন আরও বাড়িয়ে দেয় সন্দেহ। হঠাৎ করে মিটিলের সামনে অপ্রস্তুত হয়ে ওঠা, কথাবার্তায় অনাগ্রহ মিলিয়ে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হচ্ছিল।

এই আবহের মাঝেই কিছুদিন আগের পর্বটা যেন সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে দিয়ে দিল। খুব সাধারণ কথোপকথনের মধ্যেই বাবিল নিজের সত্যিটা প্রকাশ করল। মিটিলের হাত ধরে সে জানাল, তার জীবনে অন্য কেউ এসেছে। সেই মেয়েটির নাম কোয়েল এবং তাঁর সঙ্গে রাত কাটিয়েছে বাবিল! মিটিল কোনও চিৎকার বা কোনও বড় অভিযোগ না করে শুধু একটা ভাঙা প্রশ্ন করে, তাহলে কি তাদের ভবিষ্যৎ বলে আর কিছু নেই? বাবিলের কথার ভঙ্গি আর যুক্তি সেই আঘাতকে আরও গভীর করে এরপর।

গল্পটা এখানেই থেমে থাকেনি! বাবিল নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমন কিছু কথা বলেছে, যা শুনে দর্শকদের বিরক্তি চেপে রাখা কঠিন। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে নিজের সুবিধা, নিজের দ্বিধা এবং নিজের ‘সঠিক’ থাকার চেষ্টা। অথচ এই পুরো সময়ে মিটিলের অনুভূতির জায়গাটা যেন তার কাছে গৌণ! দায়িত্ব, সম্মান বা মানসিক উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো যে একটা সম্পর্কের এই মৌলিক, তা বাবিলের ভাবনায় খুব একটা জায়গা পায়নি, সেটাও ক্রমে আরও পরিষ্কার হয়েছে।

মিটিলের চরিত্রটাই যে জায়গায় দর্শকদের সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। সে কেবল প্রেমিকা ছিল না, বাবিলের পরিবারের অংশ মনে করত নিজেকে। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে বারবার পিছনে রেখে সে সম্পর্কটাকে আগলে রাখতে চেয়েছে। এতদিন নিজেকে শক্ত করে রাখলেও, সম্প্রতি পর্বে এসে নতুন কাকুর সামনে তার কান্নায় ভেঙে পড়াটা অনেকের কাছেই খুব বাস্তব লেগেছে। সমাজ মাধ্যমে দর্শকরা লিখছেন, “আজ মিটিলের জন্য সত্যিই খারাপ লেগেছে, কারণ সে কখনও নিজের কষ্টটা দেখাতে চায়নি, কিন্তু আজ আর পারল না।”

আরও পড়ুনঃ স্ত্রীকে নিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘট’নার কবলে অভিনেতা আশিষ বিদ্যার্থী! গুরুতর অবস্থায় অভিনেতা ও তাঁর স্ত্রী, ভর্তি হাসপাতালে! এখন কেমন আছেন তাঁরা?

কেউ বলছেন, “একজন বাগদত্তা থাকা সত্ত্বেও কি করে অন্য মেয়ের সঙ্গে রাত কাটিতে প্রেগন্যান্ট করে দেওয়া যায়!” সব মিলিয়ে এই পর্বের পর দর্শকদের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে বাবিলের ওপরেই। কেউ বলছেন, “এমন মানসিকতা নিয়ে কেউ মিটিলের মতো মানুষকে ডিজার্ভ করে না” বিয়ের প্রতিশ্রুতি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার যুক্তি, আর নিজের ভুলকে নৈতিকতার মোড়কে ঢাকার চেষ্টা বাবিলকে আরও দুর্বল করে তুলেছে দর্শকের চোখে। কেউ কেউ তো রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, “এতদিন মিটিল কেবল কমলিনীর প্রতি ভালোবাসার কারণেই এই সম্পর্কটা ধরে রেখেছিল, নাহলে অনেক আগেই সরে যাওয়া উচিত ছিল।”

You cannot copy content of this page