‘ছোট থেকেই কে’লি, কে’ল্টি, কা’লুয়া ডাকেই অভ্যস্ত প্রবাহ!’ ‘বাড়ির কাজের মানুষগুলোকেও ছাড়ত না, দেবলীনার বর অন্যকে অপ’মান করে মজা পায়!’ দেবলীনার আ’ত্মহ*ত্যা চেষ্টার পর, নতুন করে উঠে এল বিয়ের পর প্রবাহর আচরণ নিয়ে বিত’র্কিত ভিডিও!

গত রবিবার ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টার ঘটনার পর, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই, মুহূর্তে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সবার মনে হাজারো প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, উত্তর খুঁজতে অনেকেই তখন দেবলীনার সমাজ মাধ্যমের পাতায় ঘাটাঘাঁটি শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে একটি লাইভ ভিডিওতে দেবলীনা দাবি করেছিলেন যে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির তরফে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক-শারীরিক নির্যা’তনের শিকার। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ অতীতের বিভিন্ন ভিডিও টেনে এনে তাঁর স্বামী প্রবাহের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নানা মন্তব্য শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, আজ যেখানে মাকে কালো এবং অশিক্ষিত বলে অপমান করার এতটা আঘাত পেয়েছেন দেবলীনা। অতীতে দেবলীনাই নাকি স্বামীর আচরণকে ‘মজার ছলে বলা’ বলে আড়াল করেছিলেন! সেই ভিডিও আজও গায়িকার প্রোফাইলে জ্বলজ্বল করছে! কী ছিল সেখানে?প্রসঙ্গত, ঠিক বিয়ের পর পরই একটি ভিডিও সেই সময় খুব সাড়া ফেলেছিল। যেখানে, একদম নতুন বউয়ের মতো শাড়ি আর সিঁথি ভর্তি সিঁদুর পরে দেবলীনা সমাজ মাধ্যমে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুর বাড়িকে নিয়ে চলা কটাক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

ভিডিওটি ২০২৪ এ তাঁদের বিয়ের কয়েকদিন পরেই, প্রবাহর বাড়িতেই করা। যেখানে দেবলীনাকে বলতে শোনা যায়, “অনেকদিন ধরে কথাগুলো বলব ভাবছি, কিন্তু সবাই বারণ করেছিল তাই বলিনি। তবে, আজকে মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছি! আমাদের বিয়ের দুদিন পরে একটি কেক কাটার ভিডিও দেখে অনেকেই হাসির কারণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাদের বলে রাখি যে, কেকটা একটা বোন অনেক যত্ন করে পাঠিয়েছিল। সময়ের অভাবে আর কাটা হয়নি বলে, সেদিন জ্বর অবস্থায় কেটেছি। কেকটা খুবই ভালো ছিল, অপছন্দ হয়েছে বলে প্রবাহ হেসেছে এটা নয়!”

এরই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “তারপর বিয়ের উপহার খোলার একটা ভিডিও দিয়েছিলাম। সেখানে বাড়ির কিছু জনের সঙ্গে প্রবাহের কথা বলার ধরন নিয়ে, আপনারা অনেক খারাপ কথা বলছেন। প্রথমত, প্রবাহ কারোর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি! দ্বিতীয়ত, আমরা শুধু মজা করছিলেন তাদের সঙ্গে। প্রবাহের বাড়িতে ওর জন্মের আগে থেকে তিনজন পরিচারিকা রয়েছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই ছোট থেকে তাদের সঙ্গে প্রবাহ বাড়ির মানুষের মতো মিশে এসেছে। ওই তিনজনকে আমি বিয়ের আগে যখনই আসতাম, এই বাড়িতে দেখতাম।

ওরা আমাদের আত্মীয়ের মতো। এমনকি তিনটে ঠাকুর উপহার দিয়েছে, যেগুলো আমি ফ্ল্যাটে প্রতিষ্ঠা করেছি। ওদের মধ্যে আরতি পিসিকে, ছোট থেকেই প্রবাহ ‘কেলী’, ‘কেল্টি’, ‘কালুয়া’ বলেই ডাকে! ওরাও বলে, এমন না বললে ভালো লাগে না।” এরপর দেবলীনা আরতি পিসিকে ভিডিওতে আনেন। তিনিও বলেন, “দাদাবাবুর কথায় আমার খারাপ লাগে না। ছোট থেকেই ওরম বলে, ওদের পরিবার খুব ভালো। দাদাবাবুও খুব ভালো। ওরা না থাকলে আমরা এত বছর খেয়ে-পড়ে বাঁচতাম না!” আজ দেবলীনার এই প্রকাশ্যে আসতেই অনেকে তাই বলছেন, ‘যখন প্রবাহ ওদের বাড়ির কাজের মানুষগুলোকে ছোট করেছিল, আর সবাই প্রবাহকে কটাক্ষ করেছিল।

আরও পড়ুনঃ “কতজন তো ৩০ বার ফুলশ’য্যা আর ৪০ বার হানিমুন করেছে, আমি মাত্র ৩ বার করেই রোজ শুনতে হয়!” তৃতীয় বিয়ে নিয়ে কটাক্ষ, পিঙ্কির সঙ্গে বিচ্ছেদ ও শ্রীময়ী প্রসঙ্গে অকপট কাঞ্চন!

তখন দেবলীনা প্রবাহর দোষটা সবার কাছে চাপা দিয়েছিলো। সেদিন সবাই থেকে বড়ো ভুল করেছিল দেবলীনা!’ অন্যজনের কথায়, ‘দেবলীনার বরের অন্যকে অপমান করার যে একটা প্রবনতা আছে, সেটা যারা ভিডিও দেখে তারা জানে। কাজের দিদি কালো বলে, তাকে অপমান করেছিল। দর্শকরা আপত্তি প্রকাশ করায় দেবলীনা ভিডিওতে জানায়, এমনি মজা করে এইসব বলে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি অন্যকে অপমান করার অভ্যাস ওনার অনেক আগে থেকেই ছিলো!’ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রশাসনিক তদন্তের অধীন। তবে, আপনাদের কী মতামত এই বিষয়ে?

You cannot copy content of this page