গত বছরকে এক কথায়, বিচ্ছেদের বছর বললে ভুল হবে না! সেই সঙ্গে আবার বহু সম্পর্ক তৈরিও হয়েছে। যদিও গতবছর নয়, তার আগেই বিচ্ছেদ এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mallick) ও ‘শ্রীময়ী চট্টরাজ’ (Sreemoyee Chattoraj)। তবুও, বেশ কয়েক বছর ধরে নানান সময় বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছেন দম্পতি! মূলত, তৃতীয়বার বিয়েটাই যেন অভিনয় বা ব্যক্তিত্বে সব থেকে বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শ্রীময়ীকে বিয়ে করার পর থেকেই প্রশ্ন, কটাক্ষ আর বিচার যেন আরও তীব্র হয়েছে! অনেকেই ধরে নিয়েছেন, পিঙ্কি আর কাঞ্চনের সুখী দাম্পত্যে শ্রীময়ী নাকি কাঁটার মতো ঢুকে পড়েছিলেন!
যদিও কাঞ্চন ও শ্রীময়ী দু’জনেই বারবার স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের পরিচয় প্রায় ১৫ বছরের, বন্ধুত্ব থেকেই সম্পর্কের রূপ বদলেছে এবং কোনও সম্পর্কের মধ্যে থেকে অন্য সম্পর্ক তৈরি হয়নি! তবু এই ব্যাখ্যাগুলোও বহু মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি, এই বিষয়ে আবার মুখ খুললেন কাঞ্চন। এদিন তাঁর বক্তব্যে কোনও অভিযোগের সুর ছিল না, বরং ছিল একধরনের উপলব্ধি। তিনি বলেন, “মানুষ আজকাল ভেতরটা না জেনে বিচার করে। কিন্তু নৌকার আসল অবস্থা বোঝে একমাত্র মাঝি! কারণ, সেই প্রতিদিন ওই নৌকাটা চালায়।”
তাঁর মতে, বাইরে থাকা মানুষ নানান কথা বলতেই পারে, কিন্তু সম্পর্কের ভেতরের ফাটল বা ক্ষয় এবং শূন্যতা বোঝে কেবল সেই মানুষগুলোই, যারা ওই সম্পর্কে ছিল। তাই সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র সংখ্যা দিয়ে বিচার করা তিনি মানতে পারেন না। বিয়ে, ফুলশয্যা বা সম্পর্কের সংখ্যা নিয়ে সমাজের দ্বিচারিতাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন কাঞ্চন। তাঁর কথায়, “অনেকেই তো আছে যাদের আমি জানি, তিরিশবার ফুলশয্যা ও চল্লিশবার হানিমুন হয়েছে! আমি মাত্র তিনবার করেই আমাকে রোজ শুনতে হয়!”
সেদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আইনি বিয়েই বিচার্যের মাপকাঠি, অথচ গোপন বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে সমাজ এত নীরব? কাঞ্চনের বিশ্বাস, একটা সময় যখন সম্পর্কে আর কিছু থাকে না তখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো! তাঁর মতে, প্রাণহীন সম্পর্কে জোর করে টিকে থাকা আসলে সততার পরিচয় নয়, বরং ভণ্ডামি। কাঞ্চন এটাও স্বীকার করেন যে কোনও সম্পর্ক ভাঙার দায় একতরফা হয় না, প্রতিটি ভাঙনের পেছনে দু’পক্ষেরই ভূমিকা থাকে। কিন্তু সেই অতীত খুঁটিয়ে ব্যাখ্যা করতে তিনি আজ আর রাজি নন।
আরও পড়ুনঃ “আমি মেয়েদের নিয়ে ছুক’ছুকানি করি না!” “বাড়িতে বর-বউ রেখে বাইরে আপনাদের চলতেই পারে!” দাদা-বৌদির জীবনের পর এবার দেবলীনার সংসারে জুটেছে তৃতীয় ব্যক্তি তকমা! সংসার ভা’ঙার দায়ে, চরিত্রহ’ননের অভিযোগে বিস্ফো’রক সায়ক চক্রবর্তী!
কারণ, তাঁর মতে পুরনো সম্পর্ক নিয়ে বারবার কথা বলতে গেলে সেগুলো আরও ক্ষতবিক্ষত হয়। তাই তিনি বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মান আর নীরবতাকে। নিজের জীবনকে আর জনতার আদালতে টেনে আনার ইচ্ছা তাঁর নেই। এই কথোপকথনে শ্রীময়ীর প্রসঙ্গ এলেই কাঞ্চন অকপটে বলেন, জীবনের এক অন্ধকার সময়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন, তখন শ্রীময়ী তাঁর ভাঙা সত্তাটাকে জোড়া লাগাতে সাহায্য করেছেন। আজ তাঁরা একসঙ্গে কন্যাসন্তান কৃষভির মা-বাবা। তবু কটাক্ষ থামেনি, এমনকি কথা বলতে না শেখা শিশুটিকেও রোজ পড়তে হয় কটাক্ষের মুখে!






