আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির আঙিনায় সরগরম হয়ে উঠেছে প্রচারকাণ্ড ঘিরে। এবার নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের সময়, বলা যায় প্রতিবারের মতোই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rachana Banerjee) আচরণ নিয়ে নতুন করে জন্ম হয়েছে বিতর্কের। সম্প্রতি এক প্রচারসভায় তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় তিনি জনতার সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধাবোধ করছেন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করলেও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছেন রচনা!
এই দৃশ্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং এই আচরণকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই রচনার এই আচরণকে অস্বাভাবিক এবং দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই দ্বিধান্বিত আচরণ কিছু মানুষের নেতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভোটাররা একজন জনপ্রতিনিধি থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ এবং আন্তরিক সম্পর্ক প্রত্যাশা করেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন জনপ্রতিনিধি যদি জনতার সঙ্গে সজাগভাবে যোগাযোগ না করেন, তাহলে তা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এমনটাই মনে করছেন সমালোচকরা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর ফলে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। কেউ যেমন বলেছেন, “এটাকে হাত মেলানো বলে না হাতের ছোঁয়া বলে, মোটা বান্ডিল দিলে হয়তো ভালো করে ছুঁতে দিতে পারে।” অন্যজন কটাক্ষ করে বলেন, “মিমি তো গ্লাবস পরে সেকিং করে..রচনার থেকে ভালো হইজেনিক ওম্যান, তারপর তো রচনার কুইন্টাল কুইন্টাল জল লাগবে হাত ধুতে!” একজন আবার বলেছেন, “এমন একটা ভাব করছে যেন কত বড় অভিনেত্রী উনি, ওনার হাতে কি সোনা আছে?”
এদিকে, রচনার এই পরিস্থিতি অনেকের কাছে পুরনো এক বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যা একসময় মিমি চক্রবর্তীকে ঘিরে হয়েছিল। কয়েক বছর আগে মিমি চক্রবর্তী ভোট প্রচারের সময় গ্লাভস পরে জনতার সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখনও অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি জনতার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছেন এবং তাঁর এই আচরণ ট্রলিংয়ের মুখে পড়েছিল। এখন রচনার আচরণ নিয়ে সেই একই বিতর্ক নতুন করে সামনে আসছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি চুপ করলাম, তোমরা সবাই ভালো থেকো…” “ডিপ্লোমেসি রক্তে নেই, কূটনীতি করি না” অভিনেত্রী তুললেন ‘আত্মহ*ত্যা’র কথাও? টলিউডের রাজনীতি নিয়ে, ঠোঁটকা’টা শ্রীলেখা মিত্রের নতুন পোস্টে চাঞ্চল্য!
তবে, কিছু মানুষ আবার মনে করেন যে ভিডিও দেখে পুরো পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। তারা মনে করেন, প্রচারের সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড়ের চাপ, কিংবা ব্যক্তিগত আরাম এবং স্বাচ্ছন্দ্যও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অতএব, শুধু একটিমাত্র ভিডিও দেখে রচনার মনোভাব কিংবা তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুরো ধারণা করা সম্ভব নয়। অনেকের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের প্রেক্ষিতে এমন আচরণ অস্বাভাবিক নয় এবং একে নেতিবাচকভাবে দেখা ঠিক নয়।€a






