“এটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের সমস্যা…রিল আজ শর্টকাট তারকাখ্যাতির রাস্তা!” “কয়েক মিনিটের রিল, বহু বছরের থিয়েটার অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে!” বিনোদন জগতে রিল-নির্ভর জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রেশমি সেনের! সমাজ মাধ্যমের অন্ধ দৌড় শিল্পের কতটা ক্ষতি করছে?

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী চিত্রা সেন এবং প্রয়াত নাট্যকার শ্যামল সেনের পুত্রবধূ, ‘রেশমি সেন’ (Reshmi Sen) আজ নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বহু মানুষের মন জয় করেছেন। ছোটপর্দা, বড়পর্দা কিংবা থিয়েটার, সব ক্ষেত্রেই তিনি সাবলীল অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। স্বামী কৌশিক সেনের সঙ্গে তার বিয়ের পর থেকেই পর্দায় আত্মপ্রকাশ হলেও, তার অভিনয় জীবনের শুরু নাটকের মঞ্চেই। সেখান থেকেই তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

বর্তমানে রেশমি স্টার জলসার ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তার পারদর্শিতা এবং অভিনয়ের গভীরতা আরও ভালোভাবে তুলে ধরছে। তবে, সম্প্রতি বিনোদন জগতে সমাজ মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, “সমাজ মাধ্যমের অবশ্যই একটা ভালো দিক আছে যে মানুষ অনেক কাজ পাচ্ছে, নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে পারছে। কিন্তু খারাপ দিকটা অতি প্রবল!

শুধু সেটা আমাদের ভারতবর্ষে নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে সামাজিক মাধ্যমে খারাপ দিকটা ভয়ানক ভাবে উঠে এসেছে। মানুষ এখন কয়েক মিনিটের রিল বানিয়ে কাজ পাচ্ছেন বিনোদন জগতে। যেটা আমাদের কাছে একদম অপ্রত্যাশিত আর ভাবতেও অবাক লাগে যে, এমন একটা সময় যখন মানুষ তাবড় তাবড় থিয়েটার দলে কাজ করেছেন বা করছেন। তখন অন্যদিকে, অভিনয় না শিখে রিল বানিয়েই অনেকে অভিনেতা হয়ে যাচ্ছে! এটা একটা অসম্ভব খারাপ দিক।”

এছাড়া, অভিনেত্রী আরও যোগ করেছেন, “কিন্তু যাঁরা গুণী শিল্পী আছেন, যাদের হাতের কাজ খুব ভালো কিন্তু পয়সার অভাবে সেভাবে প্রচারের আলোয় আসতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে এই সমাজ মাধ্যম এবং রিল একটা অত্যন্ত ভালো প্ল্যাটফর্ম। ভালো-খারাপ দু’দিকই থাকবে তবে, আমাদের বেছে নিতে হবে কোনটা আমরা প্রাধান্য দেব।” এই বক্তব্যে তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, যারা অভিনয়ের ক্ষেত্রে পেশাদার এবং অভিজ্ঞ, তাদের ক্ষেত্রে এই সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নির্দিষ্ট সুবিধা প্রদান করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ “বাবিলের মতো ‘মেরুদণ্ডহীন’ ছেলে, মিটিলকে ডিজার্ভ করে না!” “আজ মিটিলের জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে, এতদিন নিজের কষ্ট আড়াল করা মেয়েটি আজ ভেঙে পড়ল!” ‘চিরসখা’য় বাবিলের সত্য প্রকাশে মিটিলের কান্নায়, দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া!

এদিন রেশমি আরও যোগ করেন, “আমি না খুব নন-টেকনিক্যাল মানুষ। আমি ফেসবুকেও নেই, একটু পুরনো দিনের মানুষ তো! তবে, আমার সহশিল্পীরা যদি শুটিং সেটে রিল বানায় বা সমাজ মাধ্যম ব্যবহার করে, আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই।” রেশমি সেনের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, যদিও এই পরিবর্তিত মিডিয়া সত্ত্বা নিয়ে কিছুটা রক্ষণশীল, কিন্তু তিনি জানেন যে এটি বর্তমান প্রজন্মের জন্য কীভাবে উপকারী হতে পারে।

You cannot copy content of this page