ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হার মেনে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল প্রত্যাশামতো খেলতে না পারায় হতাশ হয়েছেন অসংখ্য সমর্থক। রাত জেগে খেলা দেখেছিলেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে তারকারাও। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ মজার ছলেই এমন একটি মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি, মেসি ভক্ত হতে পারি, তবে আজকে ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের ওয়ার্ল্ডকাপে দেখা হবে। তখন না হয় কথা হবে।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়েই শুরু হয় নতুন আলোচনা।
এরপর রুদ্রনীল আরও এক ধাপ এগিয়ে রসিকতার সুরে বলেন, “অনেকে বলছে যে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির না দেখা হত, তাহলে রেজাল্ট অন্যরকম হত। দুঃখ পেয়েছি কী আর করা যাবে।” এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্র শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। যদিও বক্তব্যটি ছিল স্পষ্টতই ব্যঙ্গাত্মক, তবুও তা ঘিরে পুরনো বিতর্ক আবার সামনে চলে এসেছে। অনেকেই সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন।
রুদ্রনীলের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ‘মেসি জিওএটি ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠে সাধারণ দর্শকদের বদলে বহু ভিআইপি প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে মেসির সঙ্গে মাঠে ঘুরে বেড়াতেও দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং বহু ফুটবলপ্রেমী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনেক দর্শকের অভিযোগ ছিল, মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও তাঁরা প্রিয় ফুটবলারকে কাছ থেকে দেখতে পারেননি। অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়। এরপর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। চেয়ার ভাঙা, মাঠের দিকে বোতল ছোড়ার মতো ঘটনাও সামনে আসে। পরে এই ঘটনার জেরে অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই বিতর্কই এখনও অনেকের মনে রয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “শুধু ‘কৌশিক-পুত্র’ নয়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের সন্তানও আমি!” “বাবার নামই সবাই জানবে আর আমার মায়ের পরিচয়টা বাদ পড়ে যাবে কেন?” নিজের পরিচয়ের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে মন জিতলেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়! ‘আজকের প্রজন্মের কাছে দারুণ বার্তা, এটাই আসল শিক্ষার পরিচয়’ অভিনেতার ব্যতিক্রমী চিন্তাধারায় মুগ্ধ নেটপাড়া!
তবে এরই মধ্যে আবারও কলকাতায় লিওনেল মেসির আসার সম্ভাবনার খবর সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত ফের মেসির সফর নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় রয়েছেন এবং জানিয়েছেন, শুধু বিশ্বকাপ দেখতে নয়, মেসির টিমের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ভবিষ্যতে মেসি আবার কলকাতায় আসতে পারেন। এমনকি এবার শহরে একটি ম্যাচ খেলতেও দেখা যেতে পারে তাঁকে। ফলে রুদ্রনীলের মন্তব্য যেমন পুরনো বিতর্ককে ফের সামনে এনে দিয়েছে, তেমনই মেসির সম্ভাব্য কলকাতা সফর নিয়েও নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।






