গত কয়েকদিন ধরে ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) খবর ঘিরে উত্তাল সমাজ মাধ্যম। গায়িকা তথা অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন যে এতটা গভীর আকার নিতে পারে, তা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনাকে ঘিরে উদ্বেগ যেমন রয়েছে, তেমনই পরিবারের দুশ্চিন্তার মূল জায়গা এখন তাঁর মানসিক অবস্থা। শারীরিক দিক থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও, মানসিকভাবে তিনি যে এখনও স্থিতিশীল নন। আর তা বারবার উঠে আসছে পরিবারের কথায়, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেও!
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার হাসপাতালে দেবলীনাকে দেখতে যান শাসকদলের কামারহাটি এলাকার বিধায়ক ‘মদন মিত্র’ (Madan Mitra)। দীর্ঘদিন ধরেই দেবলীনাকে চেনেন বলে জানান তিনি। দেবলীনাকে দেখে বেরিয়ে এসে তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মদন মিত্র বলেন, “মেয়েটিকে আমি অনেক আগে দিয়েই চিনি। কদিন আগেই বনগাঁ গিয়েছিল অনুষ্ঠান করতে, তখন ওকে একটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কিছু অসামাজিক লোকজন ওর সঙ্গে অসভ্যতা করার চেষ্টা করেছিল।
রাত তিনটের সময় আমায় ফোন করেছিল, তারপর সঙ্গে সঙ্গে পার্টির সবার তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলাম।” বিধায়ক আরও জানান, হাসপাতালে এসে দেবলীনাকে দেখে তাঁর মনে হয়েছে, শরীর মোটামুটি সাড়া দিলেও মানসিকভাবে এখনও তিনি দুর্বল। চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখন যা দেখলাম তাতে শারীরিকভাবে ভালো থাকলেও, মানসিকভাবে একটু দুর্বল আছে। ডাক্তার অতনু পাল, যার তত্ত্বাবধানে দেবলীনা রয়েছে। তিনি আমারও ডাক্তার, তাই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।
শুধু সমাজ মাধ্যম আর ফোনটা থেকে দূরে থাকতে হবে। শারিরীক শক্তি দিয়ে হয়তো আজকেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাইতে পারবে, তবে মানসিক অবস্থাটা ভালো না।” দেবলীনাকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর কথাও বলেন মদন মিত্র। শিল্পীর কাজে ফেরাই যে মানসিকভাবে তাঁকে শক্ত করবে, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি মন্তব্য করেন, “আমি তো বললাম যে, তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে আমার জন্য কামারহাটিতে একটা অনুষ্ঠান করে দিতে। ওখান থেকেই যেন আবার গান করা শুরু করে।”
আরও পড়ুনঃ “হানিমুনে গিয়ে অশা’ন্তি করে প্রবাহ আমার মেয়ের গায়ে হা’ত তোলে এবং মা’রে*র জন্য কপালে দাগ তৈরি হয়ে যায়”— ফের মুখ খুললেন দেবলীনার মা! সব জেনেও কিভাবে চুপ ছিলেন তারা? সুখী দাম্পত্যের নাটক কিভাবে চালাচ্ছিলেন দেবলীনা? প্রশ্ন তুলছে সমাজ
তাঁর কথায়, বারবার সহানুভূতির কথা শুনলে মন আরও ভেঙে যেতে পারে, বরং ইতিবাচক উৎসাহই প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গেই তিনি আরও বলেন, “দিনে যদি কুড়িটা লোক দেখতে এসে, দেখে দুঃখ হচ্ছে বা কষ্ট হচ্ছে বলে তো কখনোই মানসিকভাবে সুস্থ হতে পারবে না! বরং, কুড়িজনের মধ্যে যদি উনিশজন বলে যে এবার কাজে ফেরো, তাহলে হয়তো জোর পাবে। যেটা হয়েছে খুব দুর্ভাগ্যজনক। একজন ভালো শিল্পীর জন্য দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।” আমাদেরও আশা, তিনি যেন মানসিকভাবে শক্ত হয়ে আবার নিজের জগতে, নিজের সুরে ফিরতে পারেন।






