সোশাল মিডিয়ায় যাঁরা নিয়মিত সময় কাটাতেন, তাঁদের কাছে সায়নী চক্রবর্তী এবং তাঁর আদরের গরু ‘সুন্দরী’ ছিল অত্যন্ত পরিচিত নাম। ফেসবুক খুললেই দেখা যেত প্রাণখোলা হাসি, পোষ্যদের সঙ্গে মজার মুহূর্ত আর ইতিবাচক বার্তায় ভরা ভিডিয়ো। কিন্তু সেই হাসিখুশি মেয়েটির রহস্যমৃত্যুর খবর হঠাৎ করেই নাড়িয়ে দিয়েছে নেটদুনিয়াকে। সমাজমাধ্যম সূত্রে খবর, আর বেঁচে নেই জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। মৃত্যুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেও নিজের পেজ থেকে ‘সুন্দরী’কে নিয়ে ভিডিয়ো আপলোড করেছিলেন তিনি। সেই স্বাভাবিক পোস্টের পর আচমকা এমন ঘটনার খবর মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন সায়নী। যদিও এখনও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ত্রিবেণীর বাসিন্দা মলি চক্রবর্তী এবং তাঁর মেয়ে সায়নী সোশাল মিডিয়ায় একসঙ্গে কনটেন্ট তৈরি করতেন। তাঁদের পোষ্যদের ঘিরে তৈরি নানা ভিডিয়ো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যেত। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের গরুটিকে কেন্দ্র করে তৈরি কনটেন্ট দর্শকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। পোষ্যদের খাওয়ানো, আদর, খুনসুটি আর মা মেয়ের সহজ সম্পর্কই ছিল তাঁদের ভিডিয়োর মূল আকর্ষণ।
বহু মানুষ নিয়মিত তাঁদের পেজ ফলো করতেন এবং উপহারও পাঠাতেন। সদ্য আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন সায়নী। এলএলবি পাশের আনন্দও অনুগামীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা সেই তরুণীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি অনেককেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, বাইরে এত প্রাণবন্ত দেখালেও ভিতরে কী এমন যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল? পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই কোনও গভীর মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন সায়নী। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা প্রেমঘটিত কোনও সমস্যা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণ বা সোশাল মিডিয়ার সাম্প্রতিক পোস্টগুলি নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে। কারণ, শেষ দিন পর্যন্তও তিনি স্বাভাবিকভাবেই কনটেন্ট তৈরি করছিলেন। ফলে আচমকা এই মৃত্যুর খবর আরও বেশি ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। কাছের মানুষদের অনেকেই দাবি করছেন, বাইরে থেকে তাঁকে দেখে কোনওভাবেই বোঝা যায়নি তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। সেই কারণেই পুরো ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ। সায়নীর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকদিন আগের একটি বিতর্কিত ঘটনা। নৈহাটির বড়মার মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে চরম হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সায়নী এবং তাঁর মা।
মন্দিরের ভিতর থেকেই ফেসবুক লাইভ করে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, মন্দিরের অব্যবস্থা এবং ছবি তোলা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা বাধে। সেই লাইভ ভিডিয়ো ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। একাংশের দাবি ছিল, ভাইরাল হওয়ার জন্যই তাঁরা এমন কাজ করেছেন। যদিও সায়নী এবং তাঁর মা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নতুন করে ভাইরাল হওয়ার কোনও প্রয়োজন তাঁদের নেই। ঘটনার পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, সেই বিতর্কের মানসিক প্রভাবও তাঁর উপর পড়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত। এই মুহূর্তে সায়নীর মৃত্যু ঘিরে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়।
আরও পড়ুনঃ ‘ছিঃ! এরাও শিল্পী?’ চোর সন্দেহে বাড়ির পরিচারিকাকে অ্যা’সিড, লা’ঠি দিয়ে বেধড়ক মা’র! অভিনেতা সম্রাট মুখার্জির মারে গুরুতর আহত মহিলা! নৃ’শংস ঘটনার অভিযোগে ছিছিকার টলিপাড়ায়!
যাঁরা প্রতিদিন তাঁর ভিডিয়ো দেখে দিন শুরু করতেন, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এত প্রাণবন্ত একটি মুখ আর ফিরবে না। ‘সুন্দরী’কে নিয়েও বহু মানুষ আবেগঘন পোস্ট করছেন। মা মেয়ে জুটির সহজ সরল জীবনযাপন এবং পশুপ্রেমের জন্য তাঁরা আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তাই এই ঘটনার পর বহু অনুরাগী মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিবারও এখনও নীরব রয়েছে। ফলে কী কারণে এই মর্মান্তিক পরিণতি, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তবে সায়নীর হঠাৎ চলে যাওয়া যে তাঁর অনুরাগীদের মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।






