খাস কলকাতায় এক গৃহপরিচারিকার উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সম্রাট মুখার্জী। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার টালিগঞ্জের ধাড়াপাড়া জোড়াপুকুর সংলগ্ন এলাকায়, অভিনেতার বাড়িতে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে ওই মহিলা সেখানে পরিচারিকার কাজ করছিলেন। অভিযোগ, বাড়িতে কোনও জিনিস হারালেই সন্দেহ করা হতো তাঁকেই। নানা অপমানজনক কথা শুনতে হলেও সংসারের চাপে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু ২৭ মে বিকেলে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ অভিনেতার বাড়ি থেকে একটি আংটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সারা বাড়ি তল্লাশি করেও সেটি উদ্ধার করতে পারেননি। এমনকি পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপরই সমস্ত সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই গৃহপরিচারিকার উপর। অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, জোর করে তাঁর পরনের পোশাক খুলিয়ে এবং ব্যক্তিগত ব্যাগ তল্লাশি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তল্লাশির পরও কোনও আংটি বা মূল্যবান জিনিস পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু না পাওয়ার পর অভিনেতা সম্রাট মুখার্জী বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে অ্যাসিড এবং লাঠি আনতে বলেন। যদিও অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়নি, তবে দারোয়ান লাঠি এনে দেওয়ার পর সেই লাঠি দিয়েই ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, মাথায় একের পর এক আঘাতের ফলে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাথায় পাঁচটি সেলাই করতে হয়। শুধু মাথাই নয়, শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে মেঝেতে ফেলে কানে, মাথায় বুট দিয়ে চাপ দেওয়া হয় এবং বুকে, পিঠে ও পেটে লাথি মারা হয়। এমনকি দেওয়ালে কপাল ঠুকে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতিতা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁর হাতের আঙুলেও গুরুতর চোট লাগে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, লাঠি আটকাতে গিয়ে আঙুলে আঘাত পান তিনি এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ঘটনার পর বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ তাঁকে আহত অবস্থাতেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। প্রবল যন্ত্রণার মধ্যে রাস্তার একটি দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে ফোলা জায়গায় চেপে ধরে কোনওমতে বাড়ি ফেরেন ওই মহিলা। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রাতেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ “বিদেশের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝকঝকে লাগে, বাস্তবে ততটা সহজ নয়” “সফল হওয়াটাই সব নয়, যে মানুষগুলো তোমার জন্য জীবন কাটিয়ে দিল তাদের দিকেও তাকাতে হবে” কলকাতা বৃদ্ধাশ্রমে রূপান্তরিত হচ্ছে! নিজের উন্নতিতে যেন বাবা-মায়ের একাকীত্ব লুকিয়ে না থাকে, নতুন প্রজন্মকে কী বার্তা মমতা শঙ্করের?
এই ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত অভিনেতার দ্রুত গ্রেফতারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় যাতে তদন্তে কোনও চাপ তৈরি না হয়, সেই দিকেও নজর রাখা উচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে নারী নির্যাতনের ভয়ংকর উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতা সম্রাট মুখার্জীর তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।






“বিদেশের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝকঝকে লাগে, বাস্তবে ততটা সহজ নয়” “সফল হওয়াটাই সব নয়, যে মানুষগুলো তোমার জন্য জীবন কাটিয়ে দিল তাদের দিকেও তাকাতে হবে” কলকাতা বৃদ্ধাশ্রমে রূপান্তরিত হচ্ছে! নিজের উন্নতিতে যেন বাবা-মায়ের একাকীত্ব লুকিয়ে না থাকে, নতুন প্রজন্মকে কী বার্তা মমতা শঙ্করের?