স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর টলিউডের অন্দরে বহু পুরনো বিতর্ক আবারও সামনে আসতে শুরু করেছে। এই আবহেই অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়। সেই পোস্টে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের একটি বৈঠক এবং প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে মত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী ‘রূপাঞ্জনা মিত্র’ (Rupanjana Mitra)। তিনি জানান, ওই ঘটনার অনেক দিক রয়েছে যা বাইরে থেকে দেখা বা বোঝা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি রাজনীতি মুক্ত বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পক্ষেও মত দেন। তবে সেই মন্তব্যের পর অরিত্র ও রূপাঞ্জনার মধ্যে বাক্যবিনিময় শুরু হলে বিষয়টি দ্রুত নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
অরিত্রর মন্তব্যের জবাবে রূপাঞ্জনা যে ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে তাঁর সেই মন্তব্য, “বয়স কম যখন বেশি বুঝতে এসো না, এক চড় খেলেই বুঝিয়ে দেবো আমি কে আর এতদিন কি করেছি”, সমাজ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার একজন পরিচিত শিল্পীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। এরপর থেকেই অভিনেত্রীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পুরনো রাজনৈতিক অবস্থান, দলবদল এবং অতীতের বিভিন্ন মন্তব্যও আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ফলে একটি সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্য থেকেই বিতর্ক আরও বড় আকার নেয়।
তবে সমালোচনার মুখে চুপ করে না থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফের একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন রূপাঞ্জনা মিত্র। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি লেখেন, “২০১৯-এ আপনারা মুখ খুলে বলতে পারেননি কেন? আজ খুব কথা বেরোচ্ছে যে…বেশ বেশ! ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সব প্রমাণ তুলে রাখা আছে।” একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “যুদ্ধের ডাক! সাহস আসল সময়ে দেখাতে হয়। অন্যরা কাজ করে দেবে আর নিজেরা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা আর হবে না।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, অভিনেত্রী সরাসরি না বললেও অতীতের কিছু ঘটনা এবং বর্তমানের সমালোচকদের উদ্দেশেই এই বার্তা দিয়েছেন।
নিজের পোস্টে প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন রূপাঞ্জনা। তিনি লেখেন, “সৌমিত্র জেঠু ভাগ্যিস আর্টিস্ট ফোরামকে স্বশাসিত করে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি দূরদর্শী ছিলেন। তখনও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা রাখতেন।” পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের পাশে যারা কঠিন সময়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের ভূমিকা খাটো করে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “যাঁরা সঠিক সময়ে সহশিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের শক্তিকে হালকাভাবে নেবেন না।” এই অংশটিও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সবার।
আরও পড়ুনঃ “একদিন এই চোখের জলের অভি’শাপ লাগবে, আমার চোখের জল ফেলার কারণ হচ্ছেন আপনি!” ভিডিওবার্তায় ক্ষো’ভ উগরে, কান্নাভেজা কণ্ঠে কাকে নিয়ে বি’স্ফোরক দেবলীনা নন্দীর মা?
পোস্টের শেষাংশে রূপাঞ্জনা আরও লেখেন, “বাকিটা বোঝানোর চেষ্টা করবেন না। বিষয়টা অনেক গভীর এবং ভারী। যারা শুধু উপরিভাগ দেখে বা সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, তাদের পক্ষে সেটা বোঝা সম্ভব নয়।” অভিনেত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আবারও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সরব হয়েছেন, আবার অনেকে নতুন করেও সমালোচনা করেছেন। স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতারির আবহে টলিউড, আর্টিস্ট ফোরাম এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যখন নানান আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই রূপাঞ্জনার এই নতুন পোস্ট ফের সেই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।






