নিজের কণ্ঠকেই ঘৃণা করেন অরিজিৎ সিং! জন্মদিনে জীবনে ভুলতে না পারা ‘অত্যা’চারের’ স্মৃতি ভাগ করলেন গায়ক! আজ তাঁর গান মিশে গেছে প্রতিটি অনুভূতিতে! জানেন কি, একসময় মানুষ মোটেই পছন্দ করত না তাঁর গান! কীভাবে বদলে গেল ভাগ্য?

আজ ৩৯ বছরে পা দিলেন গায়ক অরিজিৎ সিং। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা বার্তায় ভরেছে সামাজিক মাধ্যম, তার গানের ভক্তরা দেশ-বিদেশে আবেগে ভাসছেন। অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া গানগুলো মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। ৮ থেকে ৮০, সকল বয়সী শ্রোতাদের মধ্যে তিনি সমান জনপ্রিয়। তবে, জানেন কি যে এক সময় অরিজিৎ নিজেই তাঁর কণ্ঠকে ঘৃণা করতেন? গায়ক এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার কণ্ঠ কখনও তেমন জনপ্রিয় ছিল না, যা আজকের এই ভক্তদের ভালোবাসা পেয়েছে। আসুন জানি, অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠস্বরের এই কঠিন যাত্রার গল্প।

অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠের মধ্যে যে আলাদা একটা টেক্সচার আছে, তা আজকের দিনে সকলেই জানেন। কিন্তু সেই টেক্সচার গড়ে তোলার পিছনে রয়েছে অনেক লম্বা সংগ্রাম। গায়ক নিজেই বলেন, তার কণ্ঠের শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। যখন তিনি গান গাইতেন, তখন মানুষ সেটা পছন্দ করত না। এতটাই খারাপ লাগত যে, তাকে নিজের কণ্ঠের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “আমাকে আমার কণ্ঠ বদলাতে হয়েছিল। আমি নিজেই কণ্ঠের টেক্সচার তৈরি করেছি।” রাতের পর রাত রেওয়াজ করার জন্য তাঁর গলা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত, কিন্তু তারপরও থামতেন না তিনি।

অরিজিৎ সিংয়ের গানের যাত্রা কিন্তু সহজ ছিল না। তিনি ফেম গুরুকুল রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবে সেখানে প্রথম পুরস্কার তিনি পাননি। তবে, তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ‘মার্ডার’ ছবির প্লেব্যাক দিয়ে। ‘ফির মহব্বত’ গানটি ছিল তাঁর প্রথম প্লেব্যাক, যা সাড়া ফেলেছিল। এর পরই তিনি চিনে যেতে লাগলেন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা পুরোপুরি পুঁজি হয়েছিল ‘আশিকী ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটির মাধ্যমে। গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে অরিজিৎ সিংয়ের নাম সিনেমা জগতে অক্ষরে অক্ষরে লেখা হয়েছিল।

তবে এত বড় তারকা হওয়ার পরেও অরিজিৎ সিংয়ের জীবন ছিল সংগ্রামের। মুম্বাইয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে কঠোর পরিশ্রম করতেন। তার আগেও তিনি মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতেন এবং একসময় নিজের স্টুডিও তৈরি করেন। এখানেই তিনি কাজ করেছেন বিখ্যাত সংগীত পরিচালক শঙ্কর-এহসান-লয়, মিঠুন, প্রীতম, বিশাল শেখরদের সঙ্গে। এসব কাজের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পেরেছিলেন তিনি। আর এভাবেই তাঁর কণ্ঠের মধ্যে যে ভিন্নতা ছিল, সেটাই ছিল তার সফলতার চাবিকাঠি।

আরও পড়ুনঃ “আমি কোনও দক্ষিণপন্থী, হিন্দুত্ববাদী বা অসহিষ্ণু দলের সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চাই না” টাকা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনও সম্পর্ক নেই, নির্বাচনের আবহে অকপট ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়! বাংলার আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন, কী জানালেন অভিনেতা?

অরিজিৎ সিং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করেন, তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। তবে তিনি নতুন গান তৈরি করবেন, ছবি বানাবেন, এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। প্লেব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার পরেও তাঁর পুরনো গানগুলো এখনও শোনা হচ্ছে। এর মধ্যে, তাঁর নতুন গাওয়া ‘রানা’ গানটি শ্রোতাদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অরিজিৎ সিংয়ের এই সাফল্য শুধু তার কণ্ঠের শক্তি নয়, তার কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের ফল। ১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্ম নেওয়া অরিজিৎ সিংয়ের জীবনের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সংগ্রাম এবং অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে যে কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

You cannot copy content of this page