“শুরু থেকেই চাইতাম, আমার জীবনসঙ্গী যেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়…” টলিউডের দাপুটে অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন শকুন্তলা বড়ুয়া? ছোটবেলা থেকেই পরিচয়, একসময় নাকি প্রেমে পড়েছিলেন? কেন আর বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছল না সেই সম্পর্ক? এতদিনের নীরবতা ভেঙে অজানা অধ্যায় প্রথমবার প্রকাশ্যে আনলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

বিনোদন জগতের সম্পর্কের গল্প বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরও অনেক ব্যক্তিগত স্মৃতি, না বলা অনুভূতি এবং মজার সব ঘটনা। ক্যামেরার সামনে যে সম্পর্ককে দর্শকরা শুধু সহ-অভিনেতা হিসেবে দেখেন, ক্যামেরার পেছনে সেই মানুষগুলির মধ্যে তৈরি হতে পারে দীর্ঘদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব কিংবা একে অপরের প্রতি আলাদা ভালো লাগা। তার অনেকটাই কখনও প্রকাশ্যে আসে না। সময়ের সঙ্গে সেই পুরনো দিনের মানুষরা যখন নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তখনই সামনে আসে বিনোদন জগতের সেই অজানা অধ্যায়গুলি। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়ার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও তেমনই এক পুরনো স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়।

বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ শকুন্তলা বড়ুয়া দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। নায়িকা হিসেবে পথচলা শুরু করলেও তিনি নিজেকে শুধুমাত্র নায়িকার গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। বরং চরিত্রের গুরুত্বকেই বরাবর বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজের সুযোগ থেকে শুরু করে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, মহুয়া রায়চৌধুরী, অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের নানা অজানা গল্প বলতে গিয়ে তিনি ফিরে গিয়েছেন সেই পুরনো দিনের স্মৃতিতেও। সেখানেই উঠে এসেছে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে তাঁর এক মজার এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি।

শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শকুন্তলা বড়ুয়ার পরিচয় অবশ্য সিনেমার সেটে প্রথম হয়নি। অভিনেত্রীর বাবা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলেন এবং তাঁদের কোয়ার্টার মেডিক্যাল কলেজ চত্বরেই ছিল। সেই সূত্রেই ছোটবেলা থেকেই শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে চিনতেন তিনি। সাক্ষাৎকারে পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে শকুন্তলা জানান, তখন শুভেন্দু মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁদের বাড়ি থেকেই নাটকের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হত এবং সেই সময় থেকেই শুভেন্দুকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। পরে যখন সিনেমায় এসে দেখলেন, সেই শুভেন্দুই তাঁর নায়ক, তখন পুরনো পরিচয়ের স্মৃতি আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। অভিনেত্রী মজার ছলে বলেন, ছোটবেলায় শুভেন্দুকে তাঁর এতটাই ভালো লাগত যে মনে মনে ভাবতেন, ভবিষ্যতে যাঁকে বিয়ে করবেন, তিনি যেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের মতো দেখতে হন।

এই কথার পরেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি সত্যিই শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শকুন্তলা বড়ুয়ার বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল? সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অবশ্য এমন কোনও সরাসরি দাবি করেননি। বরং হাসতে হাসতেই তিনি জানান, তখন যদি সাহস করে প্রেম করে ফেলতেন, তাহলে হয়তো সুবিধাই হয়ে যেত! তাঁর কথার মধ্যে ছিল পুরনো দিনের এক মজার স্মৃতি এবং ছোটবেলার ভালো লাগার কথা। অর্থাৎ শুভেন্দু তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এমন কোনও তথ্য তিনি দেননি। বরং নিজের দিক থেকেই শুভেন্দুর প্রতি তাঁর ছোটবেলার পছন্দের কথা মজা করে প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁদের মধ্যে সহ-অভিনেতা হিসেবে কাজের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর বহু কাজের স্মৃতিও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “এমন মা’রলাম পড়ে গেল…নাক ভেঙে গলগল করে র’ক্ত বের হচ্ছে, আমি দেখে চলে গেলাম” “আমাকে বলত ‘বাঙালি জাট’, মে’রে নাক ভেঙে দেওয়াটা আমার খুবই পছন্দের!” একসময় অল্পতেই ঝগড়া বা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তেন, প্রচুর মা’রপিটও করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী! তবে কী এমন ঘটেছিল তাঁর জীবনে যে সম্পূর্ণ বদলে গেলেন তিনি? অকপটে জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা!

তবে এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, শকুন্তলা বড়ুয়ার কাছে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন সহ-অভিনেতা ছিলেন না; তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শৈশবের পরিচয় এবং পুরনো দিনের এক বিশেষ স্মৃতি। একই মানুষকে ছোটবেলায় পছন্দ করা, পরে সিনেমার জগতে এসে তাঁরই বিপরীতে অভিনয় করা গোটা ঘটনাটাই যেন বাংলা চলচ্চিত্রের পুরনো দিনের এক সিনেমার গল্পের মতো। আর অভিনেত্রীর অকপট কথায় সেই স্মৃতিই এত বছর পর নতুন করে সামনে এসেছে। তবে বিয়ের প্রসঙ্গে কোনও নিশ্চিত সম্পর্কের দাবি না থাকলেও তাঁর এই স্বীকারোক্তি দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে তাহলে কি সেই সময়ের মনের ভালো লাগাটা শুধু ভালো লাগাতেই থেমে গিয়েছিল, নাকি ক্যামেরার পেছনে আরও কোনও অজানা গল্প ছিল?

You cannot copy content of this page