স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গৃহপ্রবেশ’ (Grihoprobesh) -এর আজকের পর্ব আবেগ, আর উত্তেজনায় ভরপুর! কেশবের জন্মদিন উপলক্ষে রায় বাড়ি গমগম করছে অতিথিদের কোলাহলে। সবাই মেতে উঠেছে আনন্দে, আর সেই আনন্দের মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন মিস্টার সেন। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হঠাৎই তিনি গাইলেন এক মন ছুঁয়ে যাওয়া গান, যা শুনে অবাক গোটা রায় পরিবার! রঞ্জিনী অবাক হয়ে বলল, “আপনার যে এত সুন্দর গানের প্রতিভা আছে, জানা ছিল না!”
উত্তরে মিস্টার সেন হাসিমুখে বলেন, “বাচ্চাদের জন্য গান গাইতে আমার বরাবরই ভালো লাগে, বিশেষ করে কেশবকে আমি ভীষণ পছন্দ করি।” রঞ্জিনী সঙ্গে সঙ্গে কটাক্ষ করে বলে বসে, “তাহলে দেখে রাখবেন, আমাদের বাড়ির ছেলেকে যেন ব্যাগে ভরে নিয়ে না চলে যান!” এই কথা শুনে সবাই চমকে যায়, তবে মিস্টার সেন কিছু না বলে হাসিমুখেই পরিস্থিতি সামাল দেন। অন্যদিকে, মোহনা, আদৃত (আয়ান) ও তাঁর মা রায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু ঠিক তখনই মোহনা খেয়াল করে, আদৃত আজও ওষুধ খায়নি! রাগের মাথায় সে আদৃতকে বকতে শুরু করে, ঠিক তখনই তার মা শুভর হাতে বানানো নাড়ু এনে দেয় আদৃতকে। নাড়ু খাওয়ার পর হঠাৎই তার শরীর খারাপ হয়ে যায়, সে অসুস্থ হয়ে পড়ে! মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাড়িতে। মোহনা কিছুতেই তাকে ফেলে যেতে চায় না, তাই মাকে একা পাঠিয়ে সে আদৃতের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। মোহনার মা দেরি করেই পৌঁছায় রায় বাড়িতে, ততক্ষণে জন্মদিনের অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে।
জন্মদিনের আড়ম্বর মিটতেই অতিথিরা একে একে বিদায় নিতে শুরু করে, কিন্তু মোহনার মা তখনও গল্পে ব্যস্ত! সবাই যখন শুভর একাকিত্ব নিয়ে গোপনে কথা বলছে, তখনই মোহনার মা ঠাম্মির সামনে এক প্রস্তাব রাখেন! তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ির ছেলে তো এখন আপনাদের বাড়ির ছেলে হয়ে উঠেছে, এবার আমি চাই আপনাদের বাড়ির মেয়েও আমাদের বাড়ির বউ হয়ে আসুক!” এই কথা শুনে ঠাম্মি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যান।
তিনি জানতে চান, “কোন মেয়ের কথা বলছেন?” উত্তরে মোহনার মা স্পষ্টই জানিয়ে দেন—তিনি শুভকেই নিজের বউ করে আনতে চান! এই প্রস্তাবে মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে যায় গোটা রায় পরিবার! শুভ হতবাক হয়ে যায়! সে কিছুই বলতে পারে না, শুধু ছুটে চলে যায় নিজের ঘরে! আদৃতের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে, ভাগ্যকে দুষতে থাকে। এই প্রস্তাবে গোটা পরিবার আপত্তি জানাতে থাকে, কেউ চাইছে না শুভকে অন্য বাড়িতে যেতে!
দাদু-ঠাম্মিও বুঝতে পারেন, শুভর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই ভাবছে, কিন্তু তার মনের কথা কেউ শুনছে না! শুভর মাত্র কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবন, তার পর থেকেই সে একা সন্তানকে নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে! ঠাম্মি বলেন, “পরিবার যতই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত মানুষ একাই হয়ে যায়…” শেষমেশ শুভ দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়—সে আদৃত ছাড়া আর কাউকে নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবে না! চোখের জল মুছে সবাইকে জানিয়ে দেয়, “আমাকে যদি এই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়,
আরও পড়ুনঃ ছেলেবেলাতে হারান মা-বাবাকে! অর্থ কস্টে বস্তিতে জোটে ঠাঁই! পরবর্তীতে তিনিই হয়ে ওঠেন টলিউডের সেরা অভিনেত্রী! সন্ধ্যা রায়ের জীবনের গল্প চোখে জল আনবে আপনার
তবুও আমি আর কাউকে বিয়ে করব না!” এরপর শুভ সিদ্ধান্ত নেয়, আকাশের বাড়ি গিয়ে তাকে সব জানিয়ে আসবে! শুভর হঠাৎ আসা দেখে আকাশ হতভম্ব হয়ে যায়! শুভ বলে, “আপনার সাথে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।” অন্যদিকে, মোহনা ও আদৃতও খবর পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে! তবে কি এবার আদৃত ও শুভর বহু প্রতীক্ষিত মুখোমুখি হওয়া? শুভ কি পারবে তার অতীত ও বর্তমানের মাঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে? জানতে হলে চোখ রাখুন স্টার জলসার ‘গৃহপ্রবেশ’-এ, রাত ৮:৩০-এ!