“আমি এমন মে’রেছিলাম দাদার মাথায়, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল!” দুই ভাইয়ের অতীতের তুমুল দ্ব’ন্দ্বের কথা প্রকাশ্যে আনলেন সায়ক চক্রবর্তী! কোন ভয়ংকর ঝগড়ার জেরে এই পরিণতি? দাদার মাথায় আজও রয়ে গেছে সেই ফোলা, কী ঘটেছিল সেদিন?

বাংলা টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। ছোটপর্দার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়। ভ্লগিং থেকে শুরু করে অভিনয়—সব ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। তবে গত কয়েক মাসে তাঁর নাম বেশ কয়েকবার বিতর্কের সঙ্গেও জড়িয়েছে। কখনও রেস্তোরাঁয় খাবার নিয়ে অভিযোগ, কখনও আবার ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা—এসব কারণেই একাধিকবার শিরোনামে উঠে এসেছেন এই অভিনেতা। ফলে কাজের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নেটমাধ্যমে কৌতূহল কম নয়।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে বিনোদন জগতে কাজ করছেন সায়ক। বিভিন্ন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পৌরাণিক চরিত্রে তাঁর অভিনয় অনেকেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরিবারের কথাও মাঝেমধ্যে উঠে আসে তাঁর কথাবার্তায়। দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশ ভালো বলেই জানিয়েছেন সায়ক। দাদার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়—বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদের সময়—পরিবার হিসেবে পাশে থাকার কথাও তিনি খোলাখুলিভাবে বলেছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছোটবেলার এক ঘটনা সামনে এনে দর্শকদের খানিকটা অবাকই করে দিয়েছেন অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ছোটবেলায় দাদার সঙ্গে কি কখনও মারপিট হতো? এই প্রশ্ন শুনেই হাসতে হাসতে সায়ক জানান, শুধু ঝগড়া নয়, প্রচণ্ড মারপিটও হতো তাঁদের মধ্যে। ছোটবেলার ভাই-বোন বা ভাই-ভাইয়ের ঝগড়া যেমন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও নাকি ঠিক তেমনই ছিল পরিস্থিতি। কিন্তু সেই স্মৃতির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এমন একটি ভয়ংকর ঘটনা, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি কখনও কারও চরিত্র কেড়ে নিইনি, কিন্তু আমারটাই অন্যরা নিয়ে গেছে” প্রযোজকদের পছন্দের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও, কেন বারবার বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে লিলি চক্রবর্তীর? শি’কার হয়েছিলেন, টলিউডের ক্ষমতাবানদের অদৃশ্য কৌশলের? কাদের নাম সামনে আনলেন অভিনেত্রী?

সায়ক জানান, ছোটবেলায় একবার রাগের মাথায় তিনি একটি টুল তুলে দাদার মাথায় মেরে বসেন। এতটাই জোরে লেগেছিল যে তাঁর দাদার মাথা ফুলে গিয়েছিল। সেই সময় পরিবারের সবাই খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেতা, শুধু তাই নয় হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয়েছিল তার দাদাকে। যদিও পরে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায় এবং ভাইদের সম্পর্ক আবার আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

অভিনেতা আরও জানিয়েছেন, সেই ঘটনার চিহ্ন নাকি এখনও রয়ে গেছে। সায়কের কথায়, দাদার মাথায় সেই ফোলাটা আজও রয়েছে। তবে এখন এসব কথা বলতে গিয়ে হাসিই পায় তাঁদের। ছোটবেলার সেই মারপিটের গল্প আজ পরিবারের কাছে মজার স্মৃতি হয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে, আর সেই কারণেই পুরোনো ঘটনাগুলো আজ আর ঝগড়া নয়—বরং গল্প হয়ে ফিরে আসে।

You cannot copy content of this page