“রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমি প্ল্যানচেটে কথা বলেছি, সেটার প্রমাণ…” দাবি ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের! মায়ের মৃ’ত্যুর পর তাঁকে ডাকতেই প্ল্যানচেট শুরু, সেই থেকে বহু বিখ্যাত মানুষদের আত্মাকে ডেকে এনেছেন তিনি! তাদের সঙ্গে হয়েছে কী কথা? নিজের অভ্যাসের কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন অভিনেতা?

বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত ও অভিজ্ঞ অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৯৮ সালে ‘জলতরঙ্গ’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু হয়। সেই শুরু থেকেই ধীরে ধীরে তিনি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে একের পর এক সফল ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বহুমুখী চরিত্রে অভিনয় দক্ষতা তাঁকে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলেছে।

গত প্রায় ২৮ বছরের কর্মজীবনে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ১১১টিরও বেশি টেলিভিশন ধারাবাহিকে কাজ করেছেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি তিনি বাংলা চলচ্চিত্র ও কিছু হিন্দি প্রজেক্টেও অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকগুলির মধ্যে রয়েছে ‘জন্মভূমি’, ‘মায়ের বাঁধন’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘মা’, ‘ইষ্টি কুটুম’, ‘বিন্নি ধানের খই’, ‘গৌরী এলো’ এবং ‘গোধূলি আলাপ’। বড় পর্দাতেও তিনি ‘আলো’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’ এবং ‘মহালয়া’-র মতো ছবিতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তিনি ‘ব্যোমকেশ’-এ অজিত চরিত্র, ‘রক্তকরবী’ এবং ‘টুথ পরি’-র মতো প্রজেক্টে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি জানান, লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ অনেক দিনের হলেও লকডাউনের সময় এই অভ্যাস আরও গভীরভাবে তৈরি হয়েছে। সেই সময় বাড়িতে থাকার কারণে তিনি নিয়মিত লিখতে শুরু করেন এবং নিজের ভাবনাগুলিকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে থাকেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশ বাবুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। অভিনেতার কথায়, তিনি মহেশ বাবুর অভিনয়ের বড় ভক্ত এবং তাঁর সিনেমা মূল ভাষাতেই দেখার জন্য তিনি তেলেগু ভাষা শেখার চেষ্টা করেছেন। শুধু শোনা নয়, তিনি তেলেগু ভাষায় লেখালেখিও করতে পারেন বলে দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর আধ্যাত্মিক ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে করা মন্তব্য। ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই ‘প্ল্যানচেট’ করার অভ্যাসের সঙ্গে পরিচিত, যা তিনি পারিবারিক সূত্রে শিখেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, তাঁর বাবা এই বিষয়ে জানতেন এবং সেখান থেকেই তাঁর এই অভ্যাসের শুরু। তিনি আরও বলেন, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলে অনুভব করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমনও দাবি করেন যে তিনি একবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সিগনেচার তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, যা তাঁর মতে অনন্য এবং সহজে নকল করা সম্ভব নয় এই কারণেই তিনি ওই অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুনঃ “মৃ’ত্যুভয় পেরিয়ে আজও দাঁড়িয়ে, এটাই আমার সাহসের মুকুট” অভিনেত্রীর সারা শরীরে ছড়িয়ে ক্যা’ন্সারের ক্ষ’তচিহ্ন, লুকোলেন না কিছুই! ছবিতে সবটা দেখিয়েই দিলেন লড়াই জয়ের বার্তা! চোখে জল এনে দিল তাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প!

একই সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু নামি তারকার সঙ্গে কাজ করার পর তাঁর মধ্যে কখনও অহংকার বা নিজেকে বড় ভাবার প্রবণতা এসেছে কি না। উত্তরে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর মধ্যে এমন কোনো অনুভূতি কখনও তৈরি হয়নি। তিনি নিজেকে সবসময় একজন ‘লার্নার’ বা শেখার পথে থাকা মানুষ হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি নতুন কিছু শিখতে চান এবং সেই মানসিকতাই তাঁকে স্থির ও স্বাভাবিক রেখেছে। এই সরল দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অন্যতম শক্তি বলে তিনি মনে করেন।

You cannot copy content of this page