“ওটা আমার ভিটামিন, সারাদিনে চাই-ই চাই!” বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাতনি ময়ূরাক্ষী নিয়ে আবেগঘন আলোচনায় আবিরের মা, রুমকি চ্যাটার্জী! নাতনির সঙ্গে ঠাকুমার সম্পর্ক কেমন? হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার গল্প শোনালেন অভিনেত্রী!

বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের জীবনযাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা হয়। তবে তাঁদের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং পরিবারকে ঘিরে আবেগ কোনও অংশে কম নয়। পরিবারের স্নেহ, যত্ন এবং গ্রহণযোগ্যতাই তাঁদের বড় হয়ে ওঠার প্রধান শক্তি। সমাজে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শিশুদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। আর সেই কারণেই আজ অনেক পরিবার খোলাখুলিভাবে তাঁদের সন্তানদের কথা বলতে এগিয়ে আসছেন, যাতে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে অযথা সংকোচ বা ভুল ধারণা দূর হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ অভিনেত্রী রুমকি চ্যাটার্জী নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন এবং নিজের নাতনিকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। দীর্ঘদিন পর তিনি ছোটপর্দায় ফিরেছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর মাধ্যমে। অভিনয় জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে এখনও সমান উৎসাহে কাজ করে চলেছেন তিনি। শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিয়মিত কাজের মধ্যে থাকার আনন্দের কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তবে কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের প্রতি তাঁর টান যে সবসময়ই অটুট, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর কথায়।

আলোচনায় উঠে আসে তাঁর নাতনি ময়ূরাক্ষী চ্যাটার্জীর প্রসঙ্গও। টলিউড অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র মেয়ে ময়ূরাক্ষী চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু। এই বিষয়টি নিয়ে অভিনেতা আবির নিজেও একাধিকবার খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, বাবা হিসেবে কিছু মুহূর্ত তিনি মিস করেন। যেমন নিজের অভিনীত সিনেমা মেয়ের সঙ্গে বসে দেখার ইচ্ছে থাকলেও ময়ূরাক্ষীর আগ্রহ অন্য বিষয়ের দিকে বেশি। তবুও মেয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং গর্বের কোনও অভাব নেই।

আরও পড়ুন: “এটা করবে না, ওটা করবে না.. মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারত না, আমাদের স্পেস দেওয়া হত না” “জীবনে ব্যক্তিগত বলে কিছুই ছিল না, আমরা খুব কম সময়ই একা থাকতে পেরেছি” প্রবাহর দাবিতে নতুন করে সরগরম নেটপাড়া! ফের প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সত্যিই মায়ের অতিরিক্ত গা ঘেঁষাঘেঁষি ভেঙে দিল দেবলীনা ও প্রবাহর সম্পর্ক?

একই সঙ্গে আগেই জানা গিয়েছিল, বড় কোনও জনসমাগম বা অনুষ্ঠানে তিনি সচরাচর মেয়েকে নিয়ে যান না। কারণ, সেখানে তাঁকে ঘিরে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহ বা ভিড় ময়ূরাক্ষীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে মেয়ের কাছ থেকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান অভিনেতা। তাঁর কথায়, ময়ূরাক্ষীর মধ্যে এমন এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে সে সহজেই চারপাশের মানুষের ভালোবাসা জিতে নিতে পারে।

পরিবারের প্রসঙ্গ উঠতেই রুমকি চ্যাটার্জী জানান, ধারাবাহিকের কাজ যতই ভালো লাগুক না কেন, বাড়িতে নাতনির সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। তিনি বলেন, ছোটবেলায় ময়ূরাক্ষী নিজের ঠাকুমা বা বাবা আবির চট্টোপাধ্যায়কে টেলিভিশনের পর্দায় দেখলেও তেমন কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেখাত না। তবে এখন অভিনেতা দেবকে পর্দায় দেখলে সে বেশ আনন্দিত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ধারাবাহিকের সেটে হওয়া আড্ডা তাঁর কাছে যেন এক ধরনের ‘ভিটামিন’, যা সারাদিনের জন্য তাঁকে মানসিকভাবে চাঙা রাখে। তাই কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও সেই আড্ডা তাঁর চাই-ই চাই। মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, গল্প করা এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় সুখ খুঁজে পান।

You cannot copy content of this page