প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে অরিজিৎ সিংয়ের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই সঙ্গীত মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শুধুই কি সৃজনশীল স্বাধীনতার খোঁজ, নাকি এর আড়ালে রয়েছে বলিউড রাজনীতির দীর্ঘ ছায়া, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। অরিজিৎ নিজে জানিয়েছেন, তিনি স্বাধীনভাবে গান করতে চান, সিনেমার গানের গণ্ডির বাইরে নিজের সুরের জগৎ তৈরি করতে চান। কিন্তু নেটদুনিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের গুঞ্জন বলছে, বিষয়টি হয়তো এতটা সরল নয়। একের পর এক বিতর্ক, দলাদলি আর অদৃশ্য চাপ কি শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত করে দিল জিয়াগঞ্জের এই শিল্পীকে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছেই।
অরিজিৎ সিং নামটা আজ বাঙালির আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতীয় সঙ্গীতজগতে তাঁর কণ্ঠ মানেই আলাদা এক অনুভূতি। তাই এমন একজন শিল্পীর প্লেব্যাক জগত থেকে বিদায় নেওয়ার খবরে স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মনে প্রশ্নের ঝড়। অরিজিতের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নতুনভাবে শেখার সুযোগ তৈরি করতে চান এবং নিজের মতো করে সঙ্গীতচর্চায় মন দিতে চান। তবে নেটিজেনদের একাংশের দাবি, বছরের পর বছর বলিউডের অন্দরমহলের রাজনীতি আর লবির চাপের সঙ্গে লড়তে লড়তেই হয়তো মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এই শিল্পী।
অরিজিতের কেরিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্ক নিঃসন্দেহে সলমন খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ২০১৪ সালের এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হালকা মজা থেকেই শুরু হয় সেই মনোমালিন্য। সেই ঘটনার পরেই একের পর এক বড় প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়ে তাঁর গান। বিশেষ করে সুলতান ছবিতে তাঁর গাওয়া জগ ঘুমেয়া গানটি সরিয়ে অন্য গায়ককে নেওয়া হয়েছিল, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল বলে শোনা যায়। সলমনের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে দীর্ঘ চিঠি লেখাও সেই সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যদিও অনেক বছর পর আবার এক ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়, তবুও নিন্দুকদের মতে সেই পুরনো তিক্ততার রেশ পুরোপুরি কাটেনি।
বলিউড মানেই নেপোটিজম আর লবির লড়াই, এই অভিযোগ নতুন নয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, গান রেকর্ড হয়ে যাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে অন্য শিল্পীকে এনে বদলে দেওয়া হয়েছে। অরিজিতের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনার গুঞ্জন বহুদিনের। সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো হলেও, প্রযোজকদের সিদ্ধান্তে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে শোনা যায়। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডের অন্ধকার দিক নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে সেই পুরনো ক্ষত যেন আবার নতুন করে নাড়া দিল।
আরও পড়ুনঃ “আমি এর শেষ দেখব…” ক্ষোভ প্রকাশ মিমি চক্রবর্তীর! ‘লগ্নজিতা স্ক্রিপ্টটা মিলল না, এখানে হে’নস্থা কোথায়?’ ‘ব্যর্থতা ঢাকতে নাটক, প্রশাসনিক নিয়ম না মানার দায় কার?’ মঞ্চ বিতর্কে লগ্নজিতা প্রসঙ্গ টানতেই সমালোচনায় সরব নেটিজেনরা?
অরিজিৎ বরাবরই লাইমলাইট এড়িয়ে চলতে ভালোবাসেন। মুম্বইয়ের চাকচিক্যের বদলে পশ্চিমবঙ্গেই বেশি সময় কাটান তিনি। ভক্তদের অনেকেরই ধারণা, বর্তমান সময়ের রিমিক্স সংস্কৃতি আর একঘেয়ে ধারার সঙ্গে তিনি আর মানিয়ে নিতে চাইছেন না। নিজের সৃষ্টিশীলতাকে চুক্তি আর লবির সীমার মধ্যে আটকে না রেখে স্বাধীন শিল্পী হিসেবে পথ চলতেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত। কারণ যাই হোক, অরিজিতের প্লেব্যাক বিদায় বলিউডের রাজনীতি এবং প্রতিভা হারানোর প্রশ্নকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে, যা সহজে থামার নয়।






