‘থ’লথলে চেহারা…এ কেমন পোশাক!’ সমাজ মাধ্যমে চরম সমালোচনার মুখে আইরা খান! আমির কন্যার পাশে দাঁড়ালেন অভিনব শুক্লা!

সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। পোশাক থেকে শুরু করে শারীরিক গঠন সব কিছু নিয়েই একাংশ নেটিজেনের কুরুচিকর মন্তব্য থামছেই না। এবার সেই ট্রোলিংয়ের শিকার হলেন আমির খানের কন্যা আইরা খান। সম্প্রতি একটি ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়ার পর তাঁর ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় সমালোচনা। আইরার পোশাকের ফিটিং এবং শরীর নিয়ে একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন নীতি পুলিশরা। বডি শেমিংয়ের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন বহু মানুষ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলেন অভিনেতা অভিনব শুক্লা। বিগ বস খ্যাত এই অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কারও শরীর বা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই। অভিনবের মতে, যারা অন্যকে বডি শেমিং করে তারা আসলে নিজেদের মানসিক দুর্বলতাই প্রকাশ করে। তিনি বলেন, আইরা কী পরবেন বা কীভাবে থাকবেন, সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। সেখানে বাইরের লোকের নাক গলানোর কোনও জায়গা নেই।

অভিনব আরও জানান, ইন্টারনেটের আড়ালে বসে কাউকে অপমান করা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবে সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হলে এই ধরনের বিষাক্ত মানসিকতা বদলানো জরুরি। তিনি ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগে নিজেদের চিন্তাভাবনা এবং আচরণ নিয়ে কাজ করা দরকার। তাঁর এই মন্তব্য অনেক নেটিজেনের মন ছুঁয়ে যায় এবং আইরার পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ অভিনবের বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

আইরা খান এমনিতেই মানসিক স্বাস্থ্য এবং বডি পজিটিভিটি নিয়ে সবসময় খোলাখুলি কথা বলেন। এর আগেও তিনি জানিয়েছেন, নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। নিজেকে যেমন তিনি গ্রহণ করেছেন, তেমনই থাকতে চান। এবার অভিনব শুক্লার মতো পরিচিত অভিনেতার প্রকাশ্য সমর্থন পেয়ে আইরার সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন অনেকে। এই ঘটনা ফের একবার দেখিয়ে দিল, সচেতন কণ্ঠস্বর কতটা প্রয়োজন সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায়।

আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে আইনি জালে জর্জরিত হিরণ! জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের! জেল হতে পারে ৭ বছর!

প্রসঙ্গত, এক প্রাক্তন ব্যবহারকারীর টুইট দেখে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিলেন অভিনব। সেই টুইটের জবাবে তিনি লেখেন, আইরা একজন বাস্তব এবং ডাউন টু আর্থ মানুষ। কোনও ভান নেই, কোনও কনভয় নেই, সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করেন। সাধারণ পোশাক পরা বা সক্রিয় থাকার চেষ্টায় দোষ কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন অভিনেতা। এই প্রতিবাদ শুধু আইরা খানের জন্য নয়, বরং ট্রোলিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক শক্ত বার্তা হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page