ছিন্নমস্তা সাজে চুল সরিয়ে বিতর্কিত ভঙ্গি ও ন*গ্ন পশ্চাৎ প্রদর্শন! হিন্দু দেব-দেবীকে ব্যবহার করে সস্তার পাবলিসিটি নিয়ে নেটপাড়ায় তুমুল সমা’লোচনা, ছিছিক্কার! বিতর্কের মুখে পরেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন নৃত্যশিল্পী! জানেন, সেদিন মঞ্চে উপস্থিত ওই শিল্পীর পরিচয়?

সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নৃত্য পরিবেশন ঘিরে বর্তমানে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ছিন্নমস্তার রূপে এক নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনের একটি অংশ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভিডিওতে দেখা যায়, দেবীর সাজে থাকা শিল্পী চুল সরিয়ে শরীরের পশ্চাৎ অংশ প্রদর্শন করছেন। এই দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। পরে জানা যায়, ওই অনুষ্ঠানে ছিন্নমস্তার ভূমিকায় ছিলেন কলকাতার নৃত্যশিল্পী দেবরাজ চৌধুরী। তিনি সমাজমাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ এবং আগে ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন। তাঁর নাচের সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান দেবরাজ। সেখানে তিনি জানান, ছিন্নমস্তার চরিত্রে অভিনয়ের সময় অনুষ্ঠানের পরিচালকের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর সাজপোশাক নির্ধারিত হয়েছিল। দেবরাজের কথায়, তাঁর দিগম্বরী রূপ দেখানোর বিষয়টিও সেই পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে চুল সরিয়ে শরীরের পশ্চাৎ অংশ তুলে ধরার যে মুহূর্তটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সেটি পরিকল্পিত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই মুহূর্তে উত্তেজনা এবং পরিস্থিতির আবেগে তিনি এমন করে ফেলেছিলেন। ভাইরাল হওয়ার জন্য তিনি এই কাজ করেননি বলেও স্পষ্ট করেন। বরং ঘটনাটির জন্য তিনি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না করার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিজের ভিডিও বার্তায় দেবরাজ বলেন, “আমি ছিন্নমস্তার চরিত্রটি করেছিলাম। সেখানকার সাজ-পোশাক যেটা ছিল, আমার দিগম্বরী রূপ দেখানো হবে, তা পরিচালকের কথা মতো হয়। কিন্তু চুল সরিয়ে যে আমার মুভমেন্টটা, সেটা আমি ভাইরাল হওয়ার জন্য করিনি। আমার ভাইরাল হওয়ার কোনো ইনটেনশনও ছিল না। আমি হিট অফ দ্য মোমেন্টে, এক্সাইটমেন্টে করেছি। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি, আমার এই চুল সরিয়ে ব্যাকপোরশন হাইলাইট করার জন্য। তবে আমি এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি। পরবর্তীতে আমি মাথায় রাখব যাতে এরকম ধরনের ভুল না হয়। আমাকে একটা সুযোগ দিন। ভুল তো মানুষমাত্রই করে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই তাঁকে একাধিক হুমকির ফোন এবং বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, চুল সরিয়ে ওই ভঙ্গিতে পারফর্ম করার বিষয়টির সঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রযোজনা সংস্থা যুক্ত ছিল না এবং সেটি মূল পরিকল্পনার অংশও ছিল না।

তবে দেবরাজ আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তাঁর যে প্রায় নগ্ন সাজটি ছিল, যেখানে শরীরের বেশিরভাগ অংশ গয়না দিয়ে ঢাকা ছিল এবং ছোট একটি অন্তর্বাস পরা ছিল বলে তিনি নিজেই জানান, সেই সম্পূর্ণ সাজ তিনি নিজে ঠিক করেননি। অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রযোজনা সংস্থার তরফেই তাঁর এই রূপ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। নিজের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও তৈরি করার সময় একাধিকবার তাঁকে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতেও দেখা যায়। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে তাঁর নাচের প্রশংসাও করেছেন কেউ কেউ। একজন মন্তব্য করেন, তাঁর নৃত্য পরিবেশন নিয়ে কোনও কথা হবে না, সেটি সত্যিই অনবদ্য। তবে একই মন্তব্যে দেবরাজের বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মকে নিয়ে খেলা করার অভিযোগ তুলে বড়সড় আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ “সে*ক্সিস্ট সমাজে থাকি, আজও মেয়ের ব্লাউজ-শাড়ির আঁচল নিয়েও কটাক্ষ করা হয়…এখানে মেয়েরাই মেয়েদের শ’ত্রু” বি*স্ফোরক তথাগত মুখোপাধ্যায়! প্রেগন্যান্সি কি কোনও রো’গ যে মেয়েকে আলাদা করে রাখতে হবে? পোশাক থেকে মাতৃত্ব, কেন এখনও নারীর জীবনকে স্টেরিওটাইপের ছকে বেঁধে রাখছি? প্রশ্ন তুলে সমাজের মানসিকতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন অভিনেতা!

অন্যদিকে, আরেক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, তাঁর সাজপোশাকের থেকেও চুল সরিয়ে শরীরের পশ্চাৎ অংশ প্রদর্শনের মুহূর্তটিই বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। ফলে দেবরাজের এই পরিবেশন ঘিরে একদিকে যেমন নাচের প্রশংসা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বিতর্কও ক্রমশ বাড়ছে। দেবরাজ নিজের বক্তব্যে বারবার জানিয়েছেন, কাউকে আঘাত করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন। এখন তাঁর প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার পর এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত তৈরি হয়েছে।

You cannot copy content of this page