“একদিন এই চোখের জলের অভি’শাপ লাগবে, আমার চোখের জল ফেলার কারণ হচ্ছেন আপনি!” ভিডিওবার্তায় ক্ষো’ভ উগরে, কান্নাভেজা কণ্ঠে কাকে নিয়ে বি’স্ফোরক দেবলীনা নন্দীর মা?

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কাটিয়ে এখনও নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy)। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি এমন কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেবলীনার দাবি, বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর স্বামী প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে যে ফ্ল্যাটে তিনি থাকতেন, সেখান থেকে নিজের জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, আদালতের নির্দেশ মেনে ওই কাজ করতে গিয়েও যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলেই অভিযোগ তাঁর।

দেবলীনার সেই অভিযোগ ঘিরে পোস্টের পর ফের আলোচনা শুরু হয় তার দাম্পত্য জীবন এবং তাকে ঘিরে অশান্তি নিয়ে। অনেকেই গায়িকাকে সমর্থন করলেও, একটা বড় অংশ এখনও সমালোচনায় মুখর। এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন দেবলীনার মা। এদিন গায়িকার ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে তার মাকে এবং ক্যাপশনে লেখা, ‘মায়ের কিছু কথা, গুছিয়ে বলতে পারে না, তাই একটু অগোছালো’। ভিডিওটিতে দেবলীনার মা তার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমাধান হওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের সাহায্য চান।

Debolina Nandy, Suicide Attempt, Live Video, Big Decision, Relationship Controversy, Mental Health, Debolina Husband, Prabha Nandy, Marriage Issue, Sayak Chakraborty, Social Media, Emotional Statement, দেবলীনা নন্দী, আত্মহত্যার চেষ্টা, লাইভ ভিডিও, বড় সিদ্ধান্ত, সম্পর্কের বিতর্ক, মানসিক চাপ, দেবলীনার স্বামী, প্রবাহ নন্দী, সায়ক চক্রবর্তী, সামাজিক মাধ্যম, আবেগঘন স্বীকারোক্তি, বিনোদন সংবাদ

তিনি এদিন বলেন, “আজকে আমি কিছু কথা বলতে চাই, মা হিসেবে…আমার মেয়েকে নিয়ে যন্ত্রণা আজকে, যার হয়েছে সেই জানে। সায়নী চলে গেছে যেমন ওর মা বুঝতে পারছে যন্ত্রণাটা। আমিও যেদিন এই খবরটা পাই, আমার মনে হয়েছিল যেন এটা আমারই ঘটনা আবার ঘটেছে। বারবার করে মনে হচ্ছে একদিন এটা আমার সঙ্গেও হতে পারত…জানুয়ারির ৩ তারিখ, আজকে কত মাস হয়ে যেতে।” এবার মূল ঘটনা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা প্রতিনিয়ত ঘটে অত্যাচার, সাহায্য চেয়েও পাচ্ছি না। সোনারপুর থানার একজন ইন্সপেক্টর সন্তু মন্ডল এই কসটা দেখছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ ওনাকে সঙ্গে করে আমরা নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে গেছিলাম, পোশাক সহ যতটা যা জিনিস পারি নিয়ে আসতে। তার জন্য ইন্সপেক্টরকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এগুলোর কোনও প্রমাণ নেই, উনি শুধু টাকাটা পেয়ে জিনিস গুলো নিয়ে দিয়েছে। জানুয়ারিতে মেয়ের সঙ্গে ওই ঘটনা হয়েছে। তারপর এতদিন হয়ে গেলে কিন্তু চন্দননগরের বাড়ি থেকে কোনও জিনিস তিনি ফেরত আনাতে সাহায্য করেননি। সাহায্য পাচ্ছি না তার একটা কারণ যে মেয়ে যখন অসুস্থ ছিল, মদন মিত্র দেখা করতে এসেছিল। অনেকেই তখন হাসপতালে দেখা করতে গেছিলেন।

শুধু মদন মিত্র নন, বিজেপির এবং সিপিএমেরও কিছু লোকজন গেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর কোনও ভিডিও বা ছবি প্রমাণ নেই আমাদের কাছে। যেহেতু মদন মিত্রের প্রসঙ্গটা বারবার দেখানো হয়েছে এতে অনেকেই রাজনীতির রং লাগাতে শুরু করেছেন। যদিও কেউ তখন রাজনীতি নয়, মানুষ হিসেবেই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আমার ধারণা। কিন্তু মদন মিত্র গেছিল বলেই নাকি আমাদের অপরাধ, বর্তমান সরকার কোনও রকম সাহায্য করবে না, এটাই সন্তু বাবুর বক্তব্য। বিপদে পড়লে মানুষ চারিদিকে সাহায্য হাত বাড়ায়। এবং সেই সময়ে যারা পাশে থাকেন তারাই প্রকৃত ঈশ্বর।

কিন্তু এখন আমাদের দোষ যে মদন মিত্র কেন দেখা করেছে। আমি সোজাসুজি সন্তু বাবুর উদ্দেশ্যেই বলছি, আপনি আগে ভালো মানুষ হন, পোশাকের মর্যাদা রাখুন। আপনার ভেতরে মানবিকতাটা অন্তত কাজ করা উচিত ছিল। আজকে যে আপনি আমার চোখের জল ফেলার কারণ হচ্ছেন, দেখবেন ভবিষ্যতে না অভিশাপ হয়ে আপনার লাগে। আজকে আমার যে ঘটনাটা ঘটেছে, এটা যদি আপনার পরিবারের কোনও মহিলা সদস্যদের সঙ্গে ঘটত, তখন কী আপনি পারবেন সহ্য করতে? আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি, আমার মেয়েও তাই। কিন্তু এখনও সেটা নিয়ে মানুষ খুব বাজে বাজে কটাক্ষ করে আনার মেয়েকে।

আরও পড়ুনঃ ‘বেড পার্টনার’ হাওয়া থেকে ‘মেয়ে সাপ্লাই’ দেওয়া! স্বরূপের নেক নজরে থাকতে করতে হত এইসব কাজ! না হলেই মে’রে ঝুলি’য়ে দেওয়ার কোন হু’মকি! বিশ্বাস ব্রাদার্সের নামে বিস্ফো’রক অভিযোগ

আমরা প্রতি মাসে কোর্টের অর্ডার বের করেছি জিনিস গুলো ফিরিয়ে আনতে, কিন্তু সন্তু বাবুর ইচ্ছা করে ডেট পাল্টাচ্ছেন। আমার মেয়ে শিল্পী সঠিক দিনে সময় দিয়েও না করলে ওকে কাজ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষ আমার মেয়েকে ভালোবাসা দিয়েছে, সাহস দিয়েছে লড়াই করার। কিন্তু কিছুজন তো উল্টোদিকে আমার মেয়েকে মারতে চাইছে রোজ। এখনও ৭৮ করে করে মানসিক আঘাত দিয়ে যাচ্ছে। নিজের কানে শোনা একজন ভদ্রলোক ওকে বললেন এতগুলো ওষুধ খেয়ে কী করে বেঁচে গেল! আরে আপনারা কি খুশি হতেন আমার মেয়েটা মরে গেলে? আমার মেয়ে বলে বলছি না, এমন অনেক দেবলীনা নন্দী রোজ জ্বলছে। হয়তো কেউ লাইভে এসে সেটা বলে বা অধিকাংশই নিজের মনে চেপে রাখে। আমি অনুরোধ করছি, বাঁচতে দিন এই মেয়েগুলোকে!”

You cannot copy content of this page