মাটির ভাঁড়ে চা নয়, তাঁর চাই রেড ওয়াইন! ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে পা রাখতেই যাঁকে ঘিরে এত চর্চা, মনামী-সৃজলাদের ভিড়ে নজর কাড়ছেন কে এই বাঙালি কন্যা, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়? জানুন, তাঁর আসল পরিচয়ের খুঁটিনাটি!

অভিনয়, সঞ্চালনা এবং সমাজ মাধ্যমের বিভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু তৈরি করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন জয়িতা চট্টোপাধ্যায়। এবার তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলা বিগ বসের মতো জনপ্রিয় বাস্তব অনুষ্ঠান। ৩০ অগস্টের গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারের মাধ্যমে বিগ বস বাংলা সিজন ৩-এর ঘরে প্রবেশ করেছেন তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় বহু প্রতীক্ষিত এই নতুন মরশুমের শুরু থেকেই নজরে রয়েছেন জয়িতা। তবে অনুষ্ঠান যত এগোচ্ছে, তাঁকে ঘিরে ঘরের সম্পর্ক এবং মতের অমিলও সামনে আসছে। সম্প্রতি নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। তার পরেই মনোনয়ন পর্বে একাধিক প্রতিযোগীর ভোট পাওয়ায় চাপও বেড়েছে তাঁর উপর।

অভিনেত্রী হিসেবে জয়িতার পরিচিতি তৈরি হয়েছে ‘ক্লাস অফ ২০২০’-এর মতো ওয়েব সিরিজ-সহ একাধিক কাজের মাধ্যমে। টেলিভিশনেও কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে তাঁর নিজস্ব দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে। জীবনযাপন, পোশাক এবং বিনোদন নিয়ে নানা ধরনের বিষয়বস্তু প্রকাশ করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন জয়িতা। সেই পরিচিতির বাইরে এবার তাঁকে দেখা যাচ্ছে বিগ বসের ঘরে সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে। এখানে অভিনয় করা কোনও চরিত্র নয়, বরং তাঁর নিজের মতামত, রাগ, অভিমান এবং অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর ধরনই দর্শকদের সামনে আসছে। ফলে পর্দার বাইরের জয়িতাকে নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন কৌতূহল।

সম্প্রতি ফল পরিষ্কার করার সময় নিরঞ্জন মণ্ডল জয়িতাকে কাজটি একটু সাবধানে করতে বলেছিলেন। সেই কথাতেই বিরক্ত হয়ে ওঠেন জয়িতা। পরে নিরঞ্জনকে নিয়ে কটাক্ষ করতে গেলে তাঁর কথাবার্তায় আপত্তি জানান মনামী ঘোষ। তিনি জয়িতাকে শব্দ বেছে কথা বলার বিষয়েও সতর্ক করেন। যদিও নিরঞ্জন স্পষ্ট করে জানান, তিনি জয়িতাকে কখনও ‘অপরিচ্ছন্ন’ বা ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানা’ বলে মন্তব্য করেননি। অর্থাৎ একটি সাধারণ মন্তব্য থেকেই দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং তা ধীরে ধীরে বাকবিতণ্ডার দিকে এগোয়। এই ঘটনার পরই তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই মনোনয়ন পর্বে বারবার উঠে আসে জয়িতার নাম। নিরঞ্জন মণ্ডল, ভারত, সোনামণি, সোহিনী এবং সায়কের মতো একাধিক প্রতিযোগী তাঁকে ডাগআউটে পাঠানোর জন্য ভোট দেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, জয়িতা ডাগআউটে গেলে খেলায় বিশেষ কোনও প্রভাব পড়বে না। ফলে একাধিক ভোট পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নিরঞ্জনের ভোট দেওয়ার বিষয়টি। কিছুক্ষণ আগেই তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও তিনি জয়িতার বিরুদ্ধেই ভোট দেন। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে অনুশোচনায় ভুগতেও দেখা যায় এবং বিষয়টি তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

আরও পড়ুনঃ “এখানে তুই বিপ্লব নস, আমিও উত্তমকুমার নই” কব্জিতে চাপড় মে’রে ছাড়ান হাত, প্রথম দেখাতেই মহানায়কের কলার ধরেছিলেন নবাগত বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়! প্রথম ছবির শুটিংয়ে উত্তম কুমারের সঙ্গে কী এমন ঘটেছিল, যে অজানা স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি বর্ষীয়ান অভিনেতা?

বিগ বসের ঘরে প্রতিটি ভোটই খেলার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই জয়িতাকে ঘিরে মনোনয়ন পর্বের এই ঘটনা আগামী দিনে তাঁর অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিরঞ্জনের অনুশোচনাও তাঁদের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি করেছে। গেম যত এগোবে, প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মতের অমিল আরও প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জয়িতার ক্ষেত্রেও পর্দার পরিচিতির বাইরে তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনই এখন দর্শকদের নজরে। ফলে বিগ বস বাংলার তৃতীয় মরশুমে জয়িতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণ কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

You cannot copy content of this page