আবেগের দৃশ্যে কাঁদানো হয়তো সব শিল্পীর পক্ষেই সহজ, কিন্তু দর্শকদের মুখে নিয়মিত হাসি ফোটানো ততটাই কঠিন! শুভাশিস, কাঞ্চন থেকে বিশ্বনাথ ও খরাজ সেই অসাধ্য সাধনই করে চলেছেন! বাংলা বিনোদন জগতের এই তারকারা প্রমাণ করছেন কৌতুকের অভিনয়ও এক বড় শিল্প! জানেন, জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে আনন্দ দেওয়াও পিছনে কতটা পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে?

বিনোদন জগতে প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজস্ব অভিনয়শৈলী থাকে। কেউ তাঁর সংলাপ বলার ধরন দিয়ে, কেউ চোখের অভিব্যক্তিতে, আবার কেউ চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। পর্দায় একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য। কখনও সেই অভিনয় দর্শককে কাঁদায়, কখনও ভাবায়, আবার কখনও কয়েক মুহূর্তের জন্য জীবনের সমস্ত দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে মুখে হাসি ফোটায়। আর দর্শকের সেই হাসিটুকু ফিরিয়ে আনার কাজটিও নিঃসন্দেহে অভিনয়ের এক বিশেষ ক্ষমতা।

কোনও সিনেমা বা ধারাবাহিকে দুঃখের দৃশ্য কিংবা আবেগঘন মুহূর্ত দেখলে দর্শকের চোখে জল আসা খুবই স্বাভাবিক। একজন দক্ষ অভিনেতা নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে সেই আবেগকে এতটা জীবন্ত করে তুলতে পারেন যে পর্দার চরিত্রের কষ্ট দর্শকের নিজের কষ্ট বলে মনে হয়। অর্থাৎ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে একটি আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু এর ঠিক উল্টো দিকটিও কম কঠিন নয়। যে মানুষগুলো প্রতিনিয়ত দর্শকদের হাসান, তাঁদের অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের চাপ, ক্লান্তি কিংবা মন খারাপ কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যান। তাঁদের উপস্থিতি পর্দাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, আর সেই হাসিই হয়ে ওঠে দর্শকের বিনোদনের অন্যতম বড় কারণ।

এই তালিকায় বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতার নাম উঠে আসে। বিশ্বনাথ বসু, কাঞ্চন মল্লিক, খরাজ মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতারা বছরের পর বছর ধরে তাঁদের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হাসিয়ে চলেছেন। তাঁদের অভিনয়ের বিশেষত্ব শুধু কমেডি সংলাপ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মুখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা, সংলাপ বলার সময়, চরিত্রের অদ্ভুত সব আচরণ সবকিছুকে মিলিয়ে তাঁরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, যা খুব সহজেই দর্শকের মুখে হাসি এনে দেয়। কখনও তাঁদের একটি ছোট্ট অভিব্যক্তি বা সংলাপই হয়ে ওঠে গোটা দৃশ্যের প্রাণ।

আসলে মানুষকে আবেগপ্রবণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ। একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা বিচ্ছেদের দৃশ্য দর্শকের মনে আবেগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু একজন মানুষকে সত্যিকারের হাসানো অনেক বেশি কঠিন। কারণ হাসির জন্য শুধু মজার সংলাপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক সময়জ্ঞান, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা। এই অভিনেতারা সেই কঠিন কাজটাই বারবার করে দেখিয়েছেন। তাঁদের অভিনয়ে কৃত্রিমতার চেয়ে স্বাভাবিকত্ব বেশি, আর সেখানেই তৈরি হয় দর্শকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ।

আরও পড়ুনঃ “স্বপন সাহা ছবি করতেন বলেই ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘর চলত…” বিতর্কিত মন্তব্য জিৎ-এর! জনপ্রিয় পরিচালকের যোগ্যতা নিয়েই তুললেন বড় প্রশ্ন? বাংলা চলচ্চিত্রে ঋতুপর্ণ ঘোষের কৃতিত্বকে কেন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন অভিনেতা? ‘চোখের বালি’, ‘উনিশে এপ্রিল’ থেকে ‘উৎসব’-এর নির্মাতা কি সত্যিই অন্যের সাফল্যের উপর নির্ভর করেই চলতেন?

তাই বাংলা বিনোদন জগতে যাঁরা বছরের পর বছর দর্শকদের হাসিয়ে চলেছেন, তাঁদের অভিনয়কে শুধুমাত্র ‘কমেডি’ বলে সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়তো ঠিক নয়। হাসির আড়ালেও থাকে কঠোর পরিশ্রম, নিখুঁত অভিনয়বোধ এবং দর্শকের মন বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা। পর্দায় তাঁদের কয়েক মিনিটের উপস্থিতিই অনেক সময় একটি গোটা দৃশ্যকে স্মরণীয় করে দেয়। জীবনের ব্যস্ততা, উদ্বেগ আর নানা সমস্যার মাঝেও মানুষকে একটু হাসার সুযোগ করে দেওয়া নিঃসন্দেহে বড় দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বই বিশ্বনাথ বসু, কাঞ্চন মল্লিক, খরাজ মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরা নিজেদের অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার সফলভাবে পালন করে চলেছেন।

You cannot copy content of this page