স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সংসারের সংকীর্তন’-এ বর্তমানে জমজমাট পর্ব চলছে। নতুন বৌমার আগমন, পরিবারের মধ্যে একের পর এক অশান্তি, শ্বশুরের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া সব মিলিয়ে গল্পে এসেছে একাধিক নতুন মোড়। এই ধারাবাহিকে ‘শান্তির’ চরিত্রে অভিনয় করছেন মানালি দে এবং নায়ক অর্থাৎ ‘জয়ন্ত’ চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে শুধু ধারাবাহিকের গল্প নয়, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মজার অভিজ্ঞতা, ছোটবেলার স্মৃতি এবং বন্ধুত্বের অজানা কাহিনিও ভাগ করে নিলেন তাঁরা।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই উঠে আসে প্রেম, বন্ধুত্ব এবং বন্ধুদের সাহায্য করার প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মানালি দে জানান, ছোটবেলা থেকে বন্ধুদের নানা বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস তাঁর ছিল। বিশেষ করে কলেজ জীবনে বন্ধুরা যখন প্রেম করত, তখন অনেক সময় তাদের হয়ে নানা পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে তাঁকে। অভিনেত্রী হেসে বলেন, “অনেক সময় বন্ধুদের দেখা করতে যেতে সাহায্য করেছি। কেউ বাড়িতে অন্য কথা বলে বেরিয়েছে, কেউ প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেছে এসব ক্ষেত্রে পাশে দাঁড়াতে হয়েছে।” তবে শুধু সাহায্যই নয়, এর জন্য সমস্যাতেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। মানালির কথায়, “অনেক সময় আমি সাহায্য করতে গিয়ে উল্টে নিজেই ধরা পড়েছি। লোকজন ভেবেছে আমিই বুঝি পুরো পরিকল্পনার মূল কারিগর। ফলে অনেক বকাঝকা খেতেও হয়েছে।”
এরপরই তিনি শোনান তাঁর ছোটবেলার এক বন্ধুকে নিয়ে মজার একটি ঘটনা। অভিনেত্রীর দাবি, সেই বন্ধু আজও একই অভ্যাস বদলাতে পারেনি। মানালি বলেন, “আমার পাড়ার এক বন্ধু এখনও আমাকে ফোন করে বলে, ‘শোন, মা যদি ফোন করে, বলিস আমি তোর সঙ্গে আছি।’ ছোটবেলা থেকে এই কথা শুনে আসছি।” বন্ধুর সেই অভ্যাসের কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেও হেসে ফেলেন। কথোপকথনের মাঝেই প্রশ্ন ওঠে, যদি সেই বন্ধুর মা সরাসরি ফোনে কথা বলতে চান, তাহলে কী করবেন? উত্তরে মানালি মজা করে বলেন, “তাহলে কনফারেন্স কলে নিতে হবে। একজন মিউটে থাকবে, অন্যজন কথা বলবে।” যদিও পরক্ষণেই তিনি জানিয়ে দেন, এগুলো সবই নিছক মজার কথা। বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্কে তাঁর মত, এখনকার ছেলেমেয়েরা আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা। তারা নিজেদের সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লুকোছাপা করতে ততটা বিশ্বাসী নয়।
ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলতে গিয়ে মানালি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। বাস্তব জীবনে তাঁর শ্বশুরের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সম্পর্কটা অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিক। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি কখনও শ্বশুর বলে আলাদা করে ভাবিনি। আমার বাবার সঙ্গে যেমন কথা বলি, ওনার সঙ্গেও ঠিক তেমনভাবেই কথা বলি। কোনও সংকোচ বা দূরত্ব নেই।” তিনি জানান, কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। রাতের খাবারের সময় একসঙ্গে বসে গল্প-আড্ডা দেওয়া তাঁদের নিত্যদিনের অভ্যাস। এই সহজ সম্পর্কের কারণেই শ্বশুরকে পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্যের পাশাপাশি বন্ধুর মতোও মনে করেন তিনি। মানালির এই বক্তব্য অনেক দর্শকের কাছেই বেশ ভালো লেগেছে।
আরও পড়ুনঃ ফের একবার ছোট পর্দায় ধামাল করতে ফিরছেন অভিনেতা রাজদীপ গুপ্ত? বিপরীতে দারুন জনপ্রিয় নায়িকা! কোন চ্যানেলে জানেন?
অন্যদিকে অভিনেতা সব্যসাচী মানালিকে নিয়ে বেশ কিছু মজার কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথমদিকে মানালি খুব কম কথা বলতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বন্ধুত্ব গভীর হয়েছে। শুভাশিসের কথায়, “মানালি খুব চেনা মানুষদের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসে। যাদের আপন মনে করে, তাদের সঙ্গে খুব মজা করে, গল্প করে। তবে প্রথমে ওকে দেখে অনেকেই ভুল বোঝে।” একই সঙ্গে তিনি মজার ছলে বলেন, “আমি একটু বেশি আওয়াজ করে কথা বলি, আর মানালি অনেকটা শান্ত স্বভাবের। তাই দু’জনের স্বভাব একেবারেই আলাদা।” পুরো সাক্ষাৎকার জুড়েই তাঁদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ছবি উঠে এসেছে। পর্দায় যেমন তাঁদের অভিনয় দর্শকদের আনন্দ দেয়, তেমনই বাস্তব জীবনেও তাঁদের সরলতা, রসবোধ এবং আন্তরিকতা অনুরাগীদের মন জয় করেছে।






