বাংলা আধুনিক গান ও প্লেব্যাকের জগতে বহু বছর ধরে সমান জনপ্রিয় নাম জোজো মুখোপাধ্যায়। স্টেজ শো, চলচ্চিত্রের গান এবং বিভিন্ন সঙ্গীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে আজও তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যেই সাক্ষাৎকারে পরিবার, সন্তান এবং দাম্পত্য জীবন নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সেই কারণেই তাঁর সংসার এবং সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও কম নয়।
জোজোর ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল অল্প বয়সে প্রেম করে বিয়ে করা। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি কিংশুক মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন, যিনি সঙ্গীত জগতে বাবলু নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে, যার ডাকনাম বাজো। পরে আরও একবার মাতৃত্বের স্বাদ পান জোজো, যখন তিনি ছেলে আদিকে দত্তক নেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়েই তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটে যায়। কাজের ফাঁকেও পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি এবং মা হিসেবে নিজের দায়িত্বকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
তবে এত বছরের সুখী দাম্পত্যের মাঝেও একটি বিষয় নিয়ে প্রায়ই কৌতূহল দেখা যায়। অনেকেই জানতে চান, স্বামীর সঙ্গে এক ছাদের তলায় না থেকেও কীভাবে এত সুন্দর সম্পর্ক ধরে রেখেছেন জোজো। সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনাও ছড়ায়। কিন্তু সেই সমস্ত গুঞ্জনকে গুরুত্ব না দিয়ে গায়িকা একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং বোঝাপড়ার ওপর। দূরত্ব কখনও তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতাকে কমিয়ে দিতে পারেনি।
আসলে জোজো এবং কিংশুকের দাম্পত্য একটি লং ডিস্ট্যান্স সম্পর্ক। কর্মসূত্রে কিংশুক মুখোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এলাকায় থাকেন, যেখানে তাঁর একটি হোমস্টে ও পর্যটন সংক্রান্ত ব্যবসার দেখভাল করতে হয়। সেই কারণেই তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। অন্যদিকে জোজো কলকাতায় থেকে নিজের গানের কাজ, অনুষ্ঠান এবং ছেলে আদির দেখাশোনা সামলান। মেয়ে বাজোও চাকরির কারণে শহরের বাইরে থাকেন। তাই কাজ এবং পারিবারিক দায়িত্বের প্রয়োজনেই স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা শহরে থাকতে হয়।
আরও পড়ুনঃ “অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তাররাও পিছিয়ে গিয়েছিলেন…” বাদ দিতে হয়েছে দুটি স্ত’নই, প্রতিদিন মাপা হচ্ছে শরীর থেকে বের হওয়া র’ক্ত! দ্বিতীয়বার ক্যা*ন্সারকে হারানোর লড়াই, বড় অ’স্ত্রোপচারের পর বাড়িতে ফিরলেন এষা ভট্টাচার্য! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী? মায়ের বর্তমান অবস্থা ও সাহসী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চোখ ভেজালেন মেয়ে প্রেরণা!
যদিও তাঁদের ঠিকানা আলাদা, তবুও সম্পর্কে কোনও দূরত্ব তৈরি হয়নি বলেই জানিয়েছেন জোজো। সময় ও সুযোগ পেলেই তিনি স্বামীর কাছে উত্তরবঙ্গে যান, আবার প্রয়োজন হলে কিংশুকও কলকাতায় আসেন। একে অপরের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই এত বছর ধরে তাঁরা সংসারকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের ৩২ বছর পার করেও এই বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থাকেই নিজেদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন জোজো। সেই কারণেই আলাদা থাকলেও তাঁদের দাম্পত্য আজও সুখী এবং অটুট।






