বিনোদন জগতের সম্পর্কগুলি বাইরে থেকে যতটা সহজ এবং ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে বহু না বলা গল্প, মানসিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রণা। অনেক সময় দর্শকদের কাছে একটি বিবাহবিচ্ছেদ শুধুই দুই মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে ধরা পড়ে। কিন্তু সেই বিচ্ছেদের পিছনে কী কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বা কী কী ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের অজানাই থেকে যায়। এমনই এক চর্চিত সম্পর্ক ছিল বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাম্পত্য জীবন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা সেই সম্পর্কের ভাঙনের নেপথ্যের একাধিক অজানা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এবং নবমিতা চট্টোপাধ্যায় একসময় বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চিত দম্পতি ছিলেন। নবমিতা শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রীই নন, তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতনি হিসেবেও পরিচিত। তাঁদের বিয়ে নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস ছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে তৈরি হয় একাধিক সমস্যা। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বহু বছর ধরে এই বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও সম্প্রতি অভিনেতা নিজেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিয়ের পর এক আত্মীয়ের বিয়েবাড়ি থেকে রাতে বাড়ি ফেরার পর ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ তিনি লক্ষ্য করেন যে নবমিতা ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
বাথরুমে যাওয়ার কথা বললেও অনেকক্ষণ পরেও তিনি ঘরে ফিরে আসেননি। পরে বাড়ির বাইরের বাথরুমে আলো জ্বলতে দেখলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। সারা বাড়ি খুঁজেও নবমিতাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি নবমিতার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁর এক পুলিশ বন্ধুকেও বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণ পর নবমিতা বাড়ি ফিরে এলে তাঁর মা সরাসরি জানতে চান তিনি রণজিতের সঙ্গে গিয়েছিলেন কি না। ভাস্বরের দাবি অনুযায়ী, নবমিতা সেই কথা স্বীকার করেন এবং জানান, এই বিয়ে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি এই বিয়ে করতে চাননি। এরপর তিনি নিজের পরিবারের সঙ্গে সেদিনই চলে যান।
অভিনেতার দাবি, এরপরেও তিনি সম্পর্কটিকে আরেকবার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। পরবর্তীকালে দীর্ঘ মনোমালিন্যের পর ২০১৯ সালে তাঁরা আইনত বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি আরও একটি সাক্ষাৎকারে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনেন। অভিনেতার দাবি, আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও নবমিতা তাঁকে একাধিকবার ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি আবার ফিরে আসতে চান। সেই সময় অভিনেতার মনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, যদি তিনি সত্যিই এত খারাপ মানুষ হয়ে থাকেন এবং তাঁর মধ্যে এত সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে কেন আবার তাঁর কাছেই ফিরে আসতে চাওয়া হচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ পালিয়ে বিয়ে, ৩২ বছরের দাম্পত্যে এক ছাদের তলায় নয়! কেন কিংশুকের সঙ্গে থাকেন না জোজো মুখোপাধ্যায়? এর পিছনে রয়েছে এমন এক কারণ, যা অনেকেই জানেন না? গায়িকা এবং তাঁর স্বামীর সম্পর্কের অজানা সমীকরণ জানলে চমকে যাবেন!
এই প্রশ্ন তিনি সরাসরি নবমিতার কাছেও করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, তাঁর প্রশ্নের উত্তরে নবমিতা নাকি তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি আর বিয়ে করতে চান না কিংবা সংসার করতে চান না, বরং লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে চান। কিন্তু সেই প্রস্তাবে তিনি স্পষ্টভাবে অসম্মতি জানান। অভিনেতার কথায়, তিনি কখনও সেই ধরনের সম্পর্কে রাজি ছিলেন না। তাঁর মতে, একটি সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেই কারণেই তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। বহু বছর পর নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন, বিনোদন জগতের আলো-ঝলমলে সম্পর্কের আড়ালেও অনেক না বলা গল্প এবং কঠিন বাস্তব লুকিয়ে থাকে।






