বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্যের (Esha Bhattacharjee) ক্যা*ন্সারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার লড়াই এখনও চলছে। কয়েকদিন আগেই মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য (Prarona Bhattacharjee) জানিয়েছিলেন, তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল এবং একাধিক জটিলতার কারণে আইসিইউতেও ভর্তি করতে হয়েছিল। এবার নতুন একটি ভিডিওতে তিনি চিকিৎসার পরবর্তী ধাপের কথা জানিয়েছেন। প্রেরণার কথায়, দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবশেষে তাঁর মায়ের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না। অপারেশনের আগে এবং পরে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের পরিবারকে।
ভিডিওতে প্রেরণা জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এষা ভট্টাচার্যের একটি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঝুঁকি আর না থাকে, সেই কারণেই চিকিৎসকেরা দুটি স্তনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার পর এষা ভট্টাচার্য কোনও দ্বিধা না করেই সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন। পরিবারের কাছেও তাঁর এই মানসিক দৃঢ়তা বড় শক্তি হয়ে ওঠে। সকলেই আশা করেছিলেন, অস্ত্রোপচার সফলভাবেই সম্পন্ন হবে এবং চিকিৎসার পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
তবে অপারেশনের দিন পরিস্থিতি আচমকাই জটিল হয়ে ওঠে। প্রেরণার দাবি, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা কিছু সময়ের জন্য অস্ত্রোপচার শুরু করা নিয়ে সংশয়ে পড়ে যান। সেই মুহূর্তে পরিবারের উদ্বেগও চরমে পৌঁছায়। পরে ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই দুটি স্তনই বাদ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের পর এষা ভট্টাচার্যের শরীরে একটি ড্রেন টিউব লাগানো হয়েছে বলে জানান প্রেরণা। এই নলের মাধ্যমে শরীরের ভিতরে জমে থাকা দূষিত রক্ত ও তরল পদার্থ বাইরে বের করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা প্রতিদিন সেই তরলের পরিমাণ মেপে রাখতে বলেছেন, যাতে বোঝা যায় শরীর কত দ্রুত সেরে উঠছে এবং ক্ষত কতটা ভালো হচ্ছে। প্রেরণা নিজেই নিয়ম করে সেই পরিমাণ নথিভুক্ত করছেন। চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনেই প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পালন করছে তাঁদের পরিবার।
প্রেরণা আরও জানান, অস্ত্রোপচারের তিন দিন পর চিকিৎসকেরা এষা ভট্টাচার্যকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই রয়েছেন। যদিও এখনও চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক যন্ত্রণা যেমন রয়েছে, তেমনই মানসিকভাবেও এই সময়টা সহজ নয়। পরিবারের সকলেই তাঁর পাশে থেকে যত্ন নিচ্ছেন এবং দ্রুত সুস্থ করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ মেনে চলছেন। আপাতত বিশ্রাম এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণই চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুনঃ “একজন মন্ত্রীর মুখে কথায় কথায় স্যাটা ভেঙে দেব…” “এক মহিলা মন্ত্রী বলছেন কে’টে রেখে দেব…আমি ভীষন ভীত, এই রাজ্যে থাকতেই ভয় পাচ্ছি” গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিদের মুখে এমন ভাষা আর হু’মকি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে, উদ্বেগ প্রকাশ চন্দন সেন ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের! ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই প্রতিবাদে নামতে হবে’ ক্ষো’ভ উগরে কী বললেন দুই প্রবীণ শিল্পী?
প্রেরণার কথায়, অপারেশনের ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপে এগোনো হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা করবেন চিকিৎসকেরা। এত বড় অস্ত্রোপচারের পরও এষা ভট্টাচার্যের মানসিক জোর পরিবারের সদস্যদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। আগেও তিনি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। তাই এবারও সকলের বিশ্বাস, চিকিৎসকদের পরামর্শ, পরিবারের ভালোবাসা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এষা ভট্টাচার্য আবারও এই কঠিন লড়াই জিতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।






