দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে, মিমি চক্রবর্তীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিতেই তুমুল বিতর্ক! সেই তনয় শাস্ত্রী এবার যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে! বনগাঁ কাণ্ডে লাগল রাজনৈতিক রঙ?

বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার নতুন দিকে মোড় নিল। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয় শাস্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, মিমি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অনুষ্ঠানে পৌঁছান। ফলে পুলিশের কাছ থেকে নেওয়া অনুমতির সময়সীমা পেরিয়ে যায়। এই কারণ দেখিয়ে তিনি মিমিকে মঞ্চ থেকে নামতে বলেন। ঘটনাটি তখনই চর্চায় উঠে আসে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। সময় মেনে অনুষ্ঠান না হওয়াই এই বিরোধের মূল কারণ বলে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি, পরে তা আরও জটিল আকার নেয়।

অন্যদিকে, মিমি চক্রবর্তী এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হন এবং তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, মঞ্চে তাঁর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতারও করে। ফলে ঘটনাটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা আইনি স্তরেও পৌঁছে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা অভিযোগের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা মতামত তৈরি হয়। কেউ আয়োজকের পক্ষে, আবার কেউ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ান। এই টানাপোড়েনই পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক রঙ পেতে শুরু করে।

এরই মধ্যে তনয় শাস্ত্রী হঠাৎ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাবরার একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডলের হাত থেকে তিনি দলের পতাকা গ্রহণ করেন। যোগদানের পর তনয় জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজের প্রতি তাঁর আস্থা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান বলেও জানান। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতাও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পিছনে বড় কারণ। এই পদক্ষেপে ঘটনাটি পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ নেয়।

এদিন হাবরায় দেবদাস মন্ডলের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হয়। দেশবন্ধু পার্ক থেকে শুরু করে হাবরা সুপার মার্কেট পর্যন্ত এই মিছিল হয়। তবে এই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে একটি জনপ্রিয় হিন্দি গানের সুর বাজানো হয়, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে অপসংস্কৃতি বলে আক্রমণ করেছে। রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। ফলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘটনা এখন রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মত তুলে ধরছে।

আরও পড়ুনঃ ক্যা’ন্সারের সঙ্গে লড়াই করেও পর্দায় দাপট, তবুও ব্যক্তিজীবন অশান্ত চন্দন সেনের! ভেঙেছে তিন তিনটি বিয়ে? প্রথমে সুদীপা বসু, তারপর দ্বিতীয় দাম্পত্য, আর কঠিন অসুস্থতার মধ্যেই তৃতীয়বার ভালোবাসা! সব সম্পর্কে এই ভাঙনের গল্পে লুকিয়ে আছে কোন অজানা সত্য?

প্রসঙ্গত, মিমির দেরিতে আসার অভিযোগ তুলে তনয় শাস্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মামলা করেছিলেন। তিনি প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, মিমিও পাল্টা হিসেবে তনয়ের কাছে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এই আর্থিক দাবি-পাল্টা দাবির ঘটনাও বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তোলে। দুই পক্ষের এই আইনি লড়াই এখনও আলোচনায় রয়েছে। এখন তনয়ের রাজনৈতিক পদক্ষেপে বিষয়টি আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগামী দিনে এই ঘটনা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

You cannot copy content of this page