মিমি নুসরতের ছায়াসঙ্গী স্যান্ডির জীবনে নেমে এল নিঃসঙ্গতার অন্ধকার, নিজের শারীরিক, মানসিক অসু’স্থতার মাঝেই নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেললেন তিনি

টলিপাড়ার অন্দরমহলে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে সন্দীপ ঘোষাল ওরফে স্যান্ডি এক পরিচিত নাম। একসময় মিমি চক্রবর্তী নুসরত জাহান সহ বহু নামী নায়িকার সাজপোশাকের দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। রেড কার্পেট থেকে শুটিং ফ্লোর সর্বত্র তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময় বদলেছে। আলো ঝলমলে সেই জীবন আজ অনেকটাই স্মৃতি। একের পর এক ঝড় এসে আছড়ে পড়েছে স্যান্ডির জীবনে, আর সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই আঘাত আরও গভীর হয়েছে।

চলতি বছরের চার জানুয়ারি স্যান্ডি হারিয়েছেন তাঁর মাকে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল, চিকিৎসাও চলছিল নিয়মিত। তবুও শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হল না। মায়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই ভেঙে পড়েছেন স্যান্ডি। পরিবার বলতে তাঁর মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাবার মৃত্যুর পর মা আর ছেলেই ছিলেন একে অপরের একমাত্র ভরসা। সেই মানুষটিকেই হারিয়ে আজ কার্যত নিঃসঙ্গ তিনি।

স্যান্ডির নিজের শরীরও ভালো নেই। দুই হাজার বাইশ সাল থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। মস্তিষ্কে যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ এবং কঠিন চিকিৎসা পর্ব। স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যেই মায়ের অসুস্থতা তাঁকে মানসিকভাবে আরও দুর্বল করে তোলে। কিছুদিন আগে মায়ের হাত ভেঙে যাওয়ায় তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন।

মায়ের মৃত্যুর পর স্যান্ডিকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁর বন্ধুরা। শোনা যাচ্ছে, সারাক্ষণ কেউ না কেউ তাঁর পাশে থাকছেন। আনন্দবাজার ডট কমের তরফে স্যান্ডির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে খবর, এই কঠিন সময়ে বিয়াসই মূলত সব দিক সামলাচ্ছেন। বন্ধুরা চাইছেন, কোনওভাবেই যেন স্যান্ডি একা না থাকেন।

আরও পড়ুনঃ “দেবলীনাকে অনেকদিন চিনি…বনগাঁতে অনুষ্ঠানে গিয়ে রাত তিনটেতে ফোন করেছিল আমায়!” দেবলীনার খোঁজে, হাসপাতালে মদন মিত্র! সুস্থ হতেই, কামারহাটিতে অনুষ্ঠানের ডাক শাসকদলের বিধায়কের!

একসময় যাঁকে ঘিরে ছিল ব্যস্ততা কাজ আর পরিচিত মুখের ভিড়, আজ তাঁর জীবন অনেকটাই স্তব্ধ। তবু আশার আলো খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বন্ধুত্ব আর সহানুভূতির হাত ধরেই হয়তো আবার একটু শক্ত হবেন স্যান্ডি। টলিপাড়ার অনেকেই চাইছেন, এই কঠিন সময়ে তিনি মানসিক জোর ফিরে পান। জীবনের এই অধ্যায় পার করে আবার নতুন করে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করুক সেই পরিচিত হাসিমুখ মানুষটি।

You cannot copy content of this page