“ছাতা লাঠি বো’ম ভারাক” এক মুহূর্তে স্তব্ধ ঘর, তারপর যা হয়েছিল তা আজও ভুলতে পারেন না মীর! আব্বার ভবিষ্যদ্বাণী আর একটা ছড়াই বদলে দিয়েছিল জীবন! জানেন, কীভাবে হয়ে উঠলেন তিনি সকলের প্রিয় মীর আফসার আলি?

শৈশব জীবনের ছোট ছোট ঘটনা অনেক সময় মানুষের জীবনের দিশা বদলে দেয়। তখন সেই মুহূর্তগুলোর গুরুত্ব বোঝা না গেলেও, সময়ের সঙ্গে সেগুলিই হয়ে ওঠে জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এমনই এক শৈশবের স্মৃতির কথা সম্প্রতি এক ইন্টারভিউতে ভাগ করে নিয়েছেন জনপ্রিয় রেডিও জকি ও অভিনেতা মীর আফসার আলী।

মীর আফসার আলী বহুদিন আগে থেকেই বাংলার ঘরের ছেলে। রেডিও থেকে টেলিভিশন—সব মাধ্যমেই তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকের মন জয় করেছে। বিশেষ করে জি বাংলার জনপ্রিয় শো ‘মীরাক্কেল’ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। ব্যঙ্গ, বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতা আর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনার জন্য মীর হয়ে উঠেছেন দর্শকের খুব কাছের একজন মুখ।

সম্প্রতি এক ইন্টারভিউতে তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি নিজে নিজেই ছড়া বানিয়ে বলতে পারতেন। একদিন তাঁদের বাড়িতে অতিথি এলে তাঁর বাবা তাঁকে বলেন, “বাবি, একটা ছড়া বলে শোনাও।” সেই অতিথিদের মধ্যেই ছিলেন আবুল ফারাক নামে একজন ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে মাথায় ছড়া আসে মীরের। এবং তিনি সবার সামনে সেটা শুনিয়েছিলেন। ‘ছাতা লাঠি বোম ভারাক, কে পেদেছে আবুল ফারাক’।

এই ছড়া শুনে গোটা ঘর পিন-ড্রপ সাইলেন্ট হয়ে যায়। সবাই চুপ করে গেলেও যাঁর উদ্দেশে ছড়াটি বলা হয়েছিল, সেই আবুল ফারাক হেসে ফেলেন। তিনি মীরের বাবাকে বলেন, “সুলতান সাহেব, আপনার ছেলেটা কিন্তু ভারী মজার আর দুষ্টু।” কিন্তু মীর তখনই বাবার চোখ দেখে বুঝে যান তার বাবা জিনিসটি পছন্দ করেননি এবং বিপদ আসন্ন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ হতেই বাবার রাগ নেমে আসে মীরের ওপর।

আরও পড়ুনঃ শহরতলির মঞ্চে হে’নস্থা! চরম অ’পমানের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন মিমি চক্রবর্তী! পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের অভিনেত্রীর! কি হয়েছিল মঞ্চে?

ঘরে নিয়ে গিয়ে কাঠের হাঙ্গার দিয়ে মারতে থাকেন তিনি। মীরের মা ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও স্বামীকে থামাননি, বরং নিজেও মেরেছিলেন ছেলেকে। মীরের কথায়, ‘আব্বা সেদিন মাকে বলেছিল, তোর ছেলে একদিন লোক হাসাবে’ আব্বার সেই কথাই যেন হয়ে উঠল ভবিষ্যৎ!’ সেই দিনের মার আজও ভুলতে পারেন না মীর। তবে সেই ঘটনাই যেন তাঁর জীবনের পথ ঠিক করে দেয়। সেদিন থেকেই মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যাত্রা শুরু হয়েছিল মীর আফসার আলীর—যা আজও চলছে অবিরাম।

You cannot copy content of this page