দেশভাগ এবং স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে নানা সময়ে রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ কিংবা সাধারণ মানুষও মতামত প্রকাশ করেছেন। তবে যখন বিনোদন জগতের কোনও পরিচিত মুখ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, তখন তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। কারণ পর্দায় যাদের আমরা নানা চরিত্রে দেখি, বাস্তব জীবনে তাদের চিন্তা-ভাবনাও অনেক সময় দর্শকদের কাছে কৌতূহলের বিষয় হয়ে ওঠে।
বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অরুণ ব্যানার্জি বহু বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। বড় পর্দায় “পরিচয়”, “শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ”, “মালাবদল”, “প্রিয়তমা”, “নীল আকাশের চাঁদনী”, “সাগর কিনারে”, “শক্তি”, “দেবা”, “তান্ত্রিক”, “প্রতিদ্বন্দ্বী”, “লড়াই”-এর মতো একাধিক ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে ছোট পর্দায় “আলতা ফড়িং”, “বিন্নি ধানের খই”, “জয়ী”-সহ বহু ধারাবাহিকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
অরুণ ব্যানার্জিকে মূলত ভিলেন চরিত্রেই বেশি দেখা গিয়েছে। তার সংলাপ বলার ধরণ এবং অভিনয়ের তীক্ষ্ণতা দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন বা সিনেমায় তার উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে, তবুও দীর্ঘ কেরিয়ারের জন্য তিনি এখনও দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নানা সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও মাঝেমধ্যে মতামত প্রকাশ করেন, যা অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশভাগ এবং স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত বিভাজনের সময় তৎকালীন নেতাদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। বিশেষ করে জওহরলাল নেহেরু এবং মহম্মদ আলী জিন্না—এই দুই নেতার সিদ্ধান্তের মধ্যেই সেই তাড়াহুড়োর ছিলো বলে দাবি করেন অভিনেতা। যদিও দুজনের কারণ আলাদা হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই দেশভাগের মতো বড় ঘটনা ঘটে যায় বলে তার মত।
আরও পড়ুনঃ বধূ নি*র্যাতন থেকে শুরু করে দেবলীনার একাধিক বি’স্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় সমাজ মাধ্যম, তবু চুপ ছিলেন স্বামী প্রবাহ! প্রশ্ন উঠেছিল, কেন প্রকাশ্যে এলেন না? এতদিন পর মিলল তাঁর খবর! এই মুহূর্তে কোথায় তিনি?
অরুণ ব্যানার্জির মতে, সেই সময়ের তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল আজও সমাজে অনুভূত হয়। তিনি মনে করেন, দেশভাগের কারণে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন এবং বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। অভিনেতার কথায়, সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও থেকে যেতে পারে। এমনকি তিনি এও মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যে স্বাধীনতা এসেছে, তা আদৌ কাম্য ছিল কি না—সেই প্রশ্নও থেকে যায়। অভিনেতার এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই দেশভাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।€






