বাবা বাজারে মাংস বিক্রি করেন, মেয়ের গলায় সাক্ষাৎ মা সরস্বতী! জন্মদিনে পাওয়া হারমোনিয়ামটাই তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী! অভাবের সংসার থামেনি সুরের সাধনা, ৩ বছর বয়সে শুরু, সপ্তম শ্রেণিতেই রিয়ালিটি শোয়ের চ্যাম্পিয়ন ঋধিমা বিশ্বাস! জানুন, মছলন্দপুরের খুদে গায়িকার লড়াইয়ের গল্প!

গ্রামবাংলার ছোট্ট এলাকা থেকে বড় মঞ্চে উঠে সাফল্যের নজির গড়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঋধিমা বিশ্বাস। কলকাতার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আয়োজিত গানের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মছলন্দপুরের এই খুদে গায়িকা। তার জয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবার থেকে স্কুল, সর্বত্র খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। মছলন্দপুর রাজবল্লভপুরের ছোট ধালাই রাস্তার শেষ প্রান্তে টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকে ঋধিমা। ভূদেব স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সে। আর্থিকভাবে সাধারণ পরিবারের মেয়ে হলেও ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই ভালোবাসাই ধীরে ধীরে তাকে বড় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।

ঋধিমার বাবা রানা বিশ্বাস মছলন্দপুর বিশ্বাসহাটি বাজারে মুরগির মাংসের ব্যবসা করেন। মা সোমা বিশ্বাস গৃহবধূ। সংসারে সচ্ছলতা খুব বেশি না থাকলেও মেয়ের গানের প্রতি ভালোবাসাকে কখনও থামিয়ে দেননি তাঁরা। বাড়িতে গান বাজলেই ছোট্ট ঋধিমা নিজের মতো করে সুর মেলাত। মেয়ের সেই আগ্রহ বুঝতে পেরে জন্মদিনে মামার বাড়ি থেকে তাকে একটি হারমোনিয়াম উপহার দেওয়া হয়। মাত্র তিন বছর বয়সে মছলন্দপুরের মনীষা ঘোষের কাছে তার গানের হাতেখড়ি হয়। পরে অশোকনগরের মানসী ঘোষ দস্তিদারের কাছে সঙ্গীতের তালিম নেয় সে। বর্তমানে অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও নিয়মিত গান শেখে ঋধিমা।

ছোটবেলা থেকেই গানকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিয়েছে ঋধিমা। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রার্থনা সঙ্গীতেও নিয়মিত অংশ নিত সে। সেই অনুশীলন আর গানের প্রতি ভালোবাসাই তাকে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করেছে। গানের রিয়েলিটি শোতে একের পর এক কঠিন প্রতিযোগিতার ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছয় সে। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার সময় ঋধিমার নামই উঠে আসে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। নিজের এই সাফল্য নিয়ে ঋধিমাও যথেষ্ট আবেগপ্রবণ। তার কথায়, এত বড় একটি মঞ্চে সে প্রথম হবে, এমনটা কখনও স্বপ্নেও ভাবেনি।

মেয়ের সাফল্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ঋধিমার বাবা-মাও। তাঁদের কাছে এই জয় শুধু একটি প্রতিযোগিতায় সাফল্য নয়, মেয়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতিও। তাঁরা মনে করেন, ঋধিমার পথচলা এখনও সবে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে গান নিয়ে মেয়ে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক, সেটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই পথচলায় সকলের আশীর্বাদ এবং শুভেচ্ছাও চেয়েছেন তাঁরা। ঋধিমার সাফল্যে গর্বিত তার স্কুলও। ভূদেব স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মহুয়া দাস বলেন, “ঋধিমা আমাদের স্কুলের গর্ব। ওর এই সাফল্যের কথা শুনে আমরা এবং স্কুলের সকল শিক্ষিকাবৃন্দ অত্যন্ত আনন্দিত। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

আরও পড়ুনঃ লাগাতার খু*নের হু’মকি ভরা ইংরেজিতে লেখা চিঠি, ছয় মাস ধরে অতিষ্ঠ স্বস্ত্রীক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়! শেষমেশ এফআইআর দায়ের করতেই সামনে এল কি সেই অপ’রাধী? কেন এমনটা করেছে সে, কী বললেন সৌরভ-পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়?

সাধারণ পরিবারের মেয়ে ঋধিমার এই সাফল্যে এখন উৎসবের আবহ মছলন্দপুরজুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এই জয় হয়ে উঠেছে নিজেদের এলাকার গর্বের কারণ। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি কিংবা গ্রামবাংলার পরিবেশ যে প্রতিভার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, ঋধিমার সাফল্য যেন তারই উদাহরণ। ছোটবেলার গানের প্রতি টান, নিয়মিত তালিম, অনুশীলন এবং নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। সামনে আরও বড় মঞ্চে গান গাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে এই খুদে শিল্পীর। আর ঋধিমার পরিবার, স্কুল এবং মছলন্দপুরবাসীর প্রত্যাশা, আগামী দিনে গান নিয়েই আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে তাদের এই কৃতী মেয়ে।

You cannot copy content of this page