দেবলীনার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা ঘিরে, সায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ ফের আলোচনায়! বন্ধুত্বের সীমা কি ভাঙছিল কোথাও? অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কি দেবলীনার দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলেছিল? প্রশ্ন তুলছে নেটিজেনরা!

“নিজের দাদার সংসার ভেঙেছে, এবার বান্ধবীরটাও শেষ করে দিল…” নেটপাড়ায় চোখ রাখলেই কমবেশি চোখে পড়ছে এই উক্তিটি! সমাজ মাধ্যমে ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) এবং ‘দেবলীনা নন্দী’কে (Debolina Nandy) নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। ডেইলি ভ্লগিংয়ে সক্রিয় সায়ক, জীবনের প্রতি মুহূর্ত ভাগ করে নিতে বরাবরই স্বচ্ছন্দ আর সেই পরিসরে দেবলীনার উপস্থিতিও বহুদিনের। বন্ধুত্বের ছবি, আড্ডার ভিডিও থেকে ঘুরতে যাওয়া মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ককে অনেকেই স্বাভাবিক বলেই দেখেছেন। আবার একাংশের চোখে এই ঘনিষ্ঠতা ছিল অস্বস্তিকর! সেই দ্বিধাবিভক্ত প্রতিক্রিয়াই সময়ের সঙ্গে আরও জোরালো হয়েছে।

বিশেষ করে দেবলীনা বিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি বারবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই বিতর্ক এক সময় প্রকাশ্যেই উঠে এসেছিল, যখন একটি পুরনো ভিডিও ঘিরে নেটমাধ্যমে কটাক্ষ শুরু হয়। বিবাহিত বন্ধুর কাঁধে হাত, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল বন্ধুত্বের ‘সীমা’ নিয়ে। দেবলীনা তখন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিয়ের পরেও তাঁর আচরণ বা কাজের ধরন বদলাবে না আর বন্ধুত্বকে তিনি বন্ধুত্বের জায়গাতেই রাখেন! স্বামীর পক্ষ থেকেও নাকি কোনও আপত্তি নেই, এই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। তবু নেটপাড়ার বিচারে সেই ব্যাখ্যা সকলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

এর মাঝেই নতুন বছরের শুরুতে এক ছবি ঘিরে পরিস্থিতি হঠাৎ গুরুতর মোড় নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনাকে নিয়ে সায়কের একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই নানা জল্পনা শুরু হয়। আগের রাতে দেবলীনাই একটি লাইভে নিজের মানসিক চাপ, পেশাগত সমস্যার কথা বলেছিলেন, এই তথ্য সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরে সায়কের বক্তব্যে জানা যায়, দেবলীনা মারাত্মক মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, যদিও দ্রুত সাহায্য পাওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার উপস্থাপন নিয়েই প্রশ্ন উঠতে থাকে।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় ব্যক্তিগত মুহূর্তকে প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে! অনেকের মতে, এমন স্পর্শকাতর সময়ে বন্ধুর ছবি পোস্ট না করাই শ্রেয় ছিল। আবার পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, সায়ক ও দেবলীনাকে ঘিরে যে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার আলোচনা চলছিল, তার কোনও প্রভাব কি দেবলীনারের দাম্পত্য জীবনে পড়েছিল? যদিও দেবলীনা ও তাঁর স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে আগে কখনও তিক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবু হঠাৎ উঠে আসা অভিযোগ, মানসিক টানাপোড়েনের কথা অনেককে বিস্মিত করেছে।

আরও পড়ুনঃ SIR শুনানিতে এবার হাজিরা দিতে ডাক লাবণী সরকার ও কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! ডাক পেয়ে কী বললেন তারকা দম্পতি?

এই মুহূর্তে নিশ্চিত উত্তর কারও হাতেই নেই। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব আর ব্যক্তিগত সংকট, সবকিছু একসূত্রে বাঁধা যায় না। তবু নেটপাড়ার কৌতূহল থামছে না, কারণ পরিচিত মুখের জীবনের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে সবারই। প্রশ্ন একটাই ঘুরপাক খাচ্ছে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব কি কখনও অজান্তেই অন্য সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে? নাকি এটি শুধুই সমাজের চোখে তৈরি হওয়া একটি গল্প? সময়ই হয়তো এই প্রশ্নগুলোর প্রকৃত উত্তর দেবে। আপনাদের কী মত, সত্যিই কি দেবলীনা ও প্রবাহের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরির কারণ সায়ক?

You cannot copy content of this page