“ভুল বোঝাবুঝিতে দূরে সরে গেছে আপন মানুষ, বন্ধুত্বের উপর ভরসা ভেঙেছে, একদিন না একদিন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারবে!” বৌদি সুস্মিতাকে নিয়ে আবেগঘন স্বীকারোক্তি সায়কের

বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ সক্রিয় অভিনেতা সায়েক চক্রবর্তী। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিদিনের জীবনের নানা মুহূর্ত ভ্লগ আকারে ভাগ করে নেন দর্শকদের সঙ্গে। হাসি মজা আনন্দের মাঝেই মাঝেমধ্যে উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টের গল্পও। সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে সায়েক এমনই কিছু সম্পর্ক ভাঙনের কথা বলেছেন যা তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে। ২০২৫ সাল যে তাঁর কাছে শুধুই সাফল্যের নয় বরং বড় পরিবর্তনের বছর সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

গত বছর সায়েকের দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে স্ত্রী সুস্মিতার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। সুস্মিতাকে সায়েক আদর করে কুটনি বৌদি বলেই ডাকতেন। তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুঁটির মুহূর্ত বারবার জায়গা পেত সায়েকের ভ্লগে এবং দর্শকরাও সেই সম্পর্কটিকে ভীষণভাবে ভালোবাসতেন। সেই উষ্ণ সম্পর্ক আজ অতীত। ভিডিওতে সায়েক স্বীকার করেন এই দূরত্ব তাঁকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছে এবং সেই শূন্যতা তিনি আজও অনুভব করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সায়েক বলেন তাঁর জীবন থেকে এমন অনেক মানুষ চলে গেছেন যারা তাঁকে ভুল বুঝেছেন। কারও মুখে শোনা কথা বিশ্বাস করে তাঁরা কখনও সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসেননি। সায়েক একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন যেন মুখোমুখি বসে সবকিছু পরিষ্কার করা যায়। কে কী বলেছে কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে তা আলোচনা করলেই অনেক ভুল বোঝাবুঝি মিটে যেতে পারত বলে মনে করেন তিনি।

অভিনেতা আরও বলেন তিনি বারবার চেষ্টা করলেও যখন দেখেছেন অপর পক্ষের কোনও আগ্রহ নেই তখন তিনি বুঝে নিয়েছেন জোর করে কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি কর্মফলে বিশ্বাসী এবং মনে করেন একদিন না একদিন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারবে। তবে এই অভিজ্ঞতার পর থেকে সম্পর্ক বিশেষ করে বন্ধুত্ব শব্দটি তাঁকে ভীত করে তোলে। বিশ্বাস আর ভরসার জায়গাটা ভেঙে গেছে বলেই অকপটে জানান সায়েক।

আরও পড়ুনঃ “এটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের সমস্যা…রিল আজ শর্টকাট তারকাখ্যাতির রাস্তা!” “কয়েক মিনিটের রিল, বহু বছরের থিয়েটার অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে!” বিনোদন জগতে রিল-নির্ভর জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রেশমি সেনের! সমাজ মাধ্যমের অন্ধ দৌড় শিল্পের কতটা ক্ষতি করছে?

ভিডিওর শেষে সায়েক স্পষ্ট করে বলেন এখন সবাই নিজের নিজের জীবনে ভালো আছে এবং সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ৩০ বছর বয়সে এসে বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। যে বিশ্বাস একসময় সহজ ছিল তা আর ফিরে আসে না বলেই তাঁর উপলব্ধি। ২০২৫ সাল তাঁর জীবনে যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে তা হল সম্পর্কের প্রতি এই নতুন বাস্তববোধ। সায়েকের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

You cannot copy content of this page