শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar)। ১৫ আগস্টের বিশেষ দিনে একটি অনাথ আশ্রমে গিয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটান তিনি। আশ্রমের শিশুদের সঙ্গে গল্প করা থেকে শুরু করে তাঁদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন অভিনেত্রী। জাতীয় উৎসবের দিনে নিজের আনন্দটুকু তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই দেখা যায় সোহিনীকে। শুধু সময় কাটানো নয়, শিশুদের হাতে উপহারও তুলে দেন তিনি। সোহিনীর কাছ থেকে উপহার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়ে ওঠে আশ্রমের ছোটরা। তাঁদের সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তগুলিই হয়ে ওঠে অভিনেত্রীর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ অংশ।
তারকা হিসেবে ব্যস্ততার মধ্যেও এমন একটি মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে অন্যরকম বার্তা দিলেন সোহিনী। স্বাধীনতা দিবস মানেই শুধু পতাকা উত্তোলন বা দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নয়। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও এই বিশেষ দিন উদযাপনের একটি উপায়। বিশেষ করে অনাথ শিশুদের জীবনে কিছুটা আনন্দের মুহূর্ত এনে দেওয়ার উদ্যোগটি নজর কেড়েছে। শিশুদের সঙ্গে গল্প করে এবং তাঁদের উপহার দিয়ে দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তোলেন অভিনেত্রী। সোহিনীর এই উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সঙ্গে মিশে যায় মানবিকতার বার্তাও। শিশুদের মুখের হাসিই যেন এদিন অভিনেত্রীর কাছে স্বাধীনতার আনন্দের সবচেয়ে বড় প্রকাশ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে সোহিনী সরকারের ব্যক্তিগত জীবনেও এখন নতুন আনন্দের অপেক্ষা। অভিনেত্রী ও গায়ক শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সংসারে খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে নতুন অতিথি। সম্প্রতি নিজেদের জীবনের এই সুখবর অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সোহিনী ও শোভন। অর্থাৎ এবার মা-বাবা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা দুজনেই। নতুন অতিথির আগমনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁদের পরিবারে খুশির আবহ। এই নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষার মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটালেন সোহিনী। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দের সঙ্গে এদিনের মানবিক উদ্যোগও যেন একসূত্রে মিশে গেল।
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঘরোয়াভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সোহিনী সরকার ও শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ কমেনি। এবার তাঁদের সংসারে নতুন সদস্য আসার খবর সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন অতিথিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির মধ্যেই সোহিনীকে দেখা গেল অন্যরকম এক ভূমিকায়। অনাথ আশ্রমের শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁদের আনন্দের অংশীদার হলেন অভিনেত্রী। নিজের জীবনে যখন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে, তখন শিশুদের সঙ্গে এই সময় কাটানোও বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিনে তাঁর এই উদ্যোগ তাই ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি মানবিকতার ছবিও তুলে ধরল।
আরও পড়ুনঃ “এত সব মন্ত্রীর ভিড়ে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই” ‘সতিমন্ত্রী’ হয়েই মঞ্চে মিঠুন চক্রবর্তী! ‘জলঢোড়া-বেলেবোড়া নই, আমি জাতগোখরো’, আয়ুষ্মান ভারতের অনুষ্ঠানে ফের সেই সংলাপে মাতালেন মহাগুরু! জোর গলায় বললেন, “আগে এই ডায়লগের জন্যই আমার ওপর মামলা হয়েছিল, তাই আজকে আরও জোরে বললাম!”
সোহিনী সরকারের এই দিনটির উদযাপনে ছিল না কোনও বড় আয়োজনের জাঁকজমক। বরং শিশুদের সঙ্গে সহজভাবে সময় কাটানো এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। গল্প, আনন্দ আর উপহারের মধ্য দিয়ে আশ্রমের ছোটদের সঙ্গে বিশেষ সময় কাটান তিনি। তাঁদের খুশির মুহূর্তে নিজেও সামিল হয়ে ওঠেন অভিনেত্রী। একদিকে নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষায় তাঁর নিজের সংসারে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীনতা দিবসে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিলেন তিনি। এই দুই আনন্দের আবহ মিলিয়েই সোহিনীর এবারের স্বাধীনতা দিবস হয়ে রইল অন্যরকম এবং বিশেষ।






