কলকাতা মানেই তাঁর শিকড়, আর স্বাভাবিকভাবেই সেই শহরেই ফেরার টান আলাদা। বহুদিন পরে কলকাতায় ফিরেছেন জিঙ্গলস কুইন অর্থাৎ রেডিও কুইন শ্রাবন্তী মজুমদার। উপলক্ষ তাঁর কালজয়ী গান ‘আয় খুকু আয়’-এর ৫০ বছর। শহরের কলামন্দিরে এই গানকে ঘিরেই বিশেষ অনুষ্ঠানে কথায়-গানে নিজের দীর্ঘ সঙ্গীতযাত্রার স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
১৯৭৬ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাওয়া সেই গান আজও বাঙালির আবেগ। বাবার সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক, দূরে চলে যাওয়ার যন্ত্রণা আর নস্ট্যালজিয়ার মিশেলে তৈরি গানটি সময় পেরিয়েও অমলিন। আজও একলা দুপুরে রেডিয়োয় গানটা বাজলে অনেকের চোখ ভিজে যায়। সেই গানকে কেন্দ্র করেই ৫০ বছরের উদযাপন, আর তাই বহু দূর থেকে নিজের শহরে ফেরা শ্রাবন্তীর।
এই বিশেষ সফরে নিজে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কাজ আর নিজের ভাবনার কথা অকপটে বলেছেন শিল্পী। নিজেকে তিনি আজও গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমি বিজ্ঞাপনের মেয়ে।” রেডিওর জিঙ্গলস দিয়েই তাঁর সঙ্গীতজগতে প্রবেশ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখলেও বিজ্ঞাপনী গানে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বাড়িতে আপত্তি ছিল। তবু থেমে থাকেননি। হেয়ার ভাটালাইজার, অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম থেকে শাড়ির দোকানের বিজ্ঞাপন—তাঁর কণ্ঠ পৌঁছে গিয়েছে ঘরে ঘরে।
বর্তমান সময়ের গান তৈরির ধারা নিয়ে তিনি যথেষ্ট হতাশ। তাঁর কথায়, আগে সুরকার-গীতিকাররা ফ্লোরে থাকতেন, শিল্পীকে গান তুলে দিতেন, বসে শুনতেন। এখন অনেকেই গান পাঠিয়েও দেন না, স্টুডিওতেও আসেন না। এটা তাঁর কাছে “শকিং”। এভাবে গান গাইতে তিনি শেখেননি, বিশ্বাসও করেন না।
আরও পড়ুনঃ “মঞ্চটা এখন আমার, টাকা নিয়েছি কেউ নামাতে পারবে না আমাকে!” “শিল্পীর অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চে ওঠা যায় না!” বনগাঁ কণ্ডে মিমির পাশে দাঁড়ালেন সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়! তনয় শাস্ত্রীকে তুলোধোনা করে, একহাত নিলেন অভিনেতা!
রেডিও জকি বা ট্যালেন্ট শো নিয়েও স্পষ্ট মত শ্রাবন্তীর,তাঁর মতে, আরজে হওয়া শেখানো যায় না, এটা ভিতরে থাকতে হয়। কপি করে কেউ শিল্পী হতে পারে না। ট্যালেন্ট শো থেকেও প্রকৃত শিল্পী খুব কমই বেরোয়। আজকের প্রজন্মকে নিয়ে আরও কঠোর মন্তব্য করেন তিনি—“RJ শব্দটাই আমি পছন্দ করি না। আমরা যা করে গেছি, এই প্রজন্ম তা ভাঙাতেও জানে না। ভাঙাতেও বুদ্ধি আর কল্পনা লাগে।” শ্রাবন্তীর মতে, সময় বদলালেও শিল্পীর আসল পরিচয় বোঝা যায় নিজের মৌলিকতায়, নিজের গানে। আর সেখানেই আজকের সময় সবচেয়ে পিছিয়ে।






