টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক তথাগত মুখার্জির ব্যক্তিগত জীবন এবং প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে চর্চা নতুন কিছু নয়। অভিনয় ও পরিচালনার পাশাপাশি তাঁর সম্পর্ক, বিবাহিত জীবন এবং প্রেম নিয়ে নানা সময়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা, বিতর্ক ও কৌতূহল। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তথাগত যে ভাবে সম্পর্ক নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন, তাতে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক সামনে এসেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্পর্ককে তিনি কখনও শুধুমাত্র সামাজিক নিয়ম বা প্রচলিত সংজ্ঞার মধ্যে বেঁধে দেখতে চান না। বরং মানুষের আবেগ, যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকেই তিনি একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে মনে করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তথাগত দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রথমে অভিনেত্রী কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক বছর একসঙ্গে থাকার পর তাঁদের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয় এবং বর্তমানে তাঁরা আলাদা জীবনযাপন করছেন। এই সময়ে অভিনেত্রী বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও তিনি কখনও প্রকাশ্যে সেই সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। পরবর্তীতে তাঁর জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। সহকারী পরিচালক আলোকবর্ষা বসুর সঙ্গে সম্পর্কের কথা তিনি নিজেই প্রকাশ্যে আনেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি প্রচারের বদলে তিনি বরাবরই সংযত থাকতে পছন্দ করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তথাগত জানান, মানুষের জীবনে সম্পর্কের রূপ সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাঁর মতে, ক্লাস এইটের প্রেম হোক কিংবা বহু বছর আগের কোনও সম্পর্ক মানুষের প্রতি টান, স্মৃতি বা আবেগ একেবারে মুছে যায় না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জীবনের অনেক পুরনো মানুষও আজও কখনও কখনও যোগাযোগ করেন, কথা বলতে চান, খোঁজখবর নেন। এই বিষয়টিকে তিনি খুব স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। তথাগতর কথায়, একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই একজন মানুষকে জীবনের বাইরে সরিয়ে দিতে হবে, এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করেন না। বরং সম্পর্কের স্মৃতি এবং মানবিক সংযোগকে সম্মান দেওয়াটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্ক নিয়ে তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্য ছিল ‘ব্লক’ সংস্কৃতি নিয়ে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাউকে ব্লক করে দেওয়ার ধারণায় তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার বদলে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অনেক বেশি জরুরি। প্রেম এবং ভালোবাসাকে তিনি কোনও কৃত্রিম বা সাজানো বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং মানুষের মধ্যে যে আকর্ষণ, বন্ধুত্ব, আবেগ এবং মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়, সেখান থেকেই সম্পর্কের জন্ম হয় বলে তাঁর বিশ্বাস। তাই প্রেমকে শুধুমাত্র রোম্যান্টিকতার চোখে নয়, একজন মানুষের জীবনের স্বাভাবিক এবং চলমান অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখতে চান তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতির ময়দানে দাপট দেখিয়ে এবার ‘দুর্গা’ রূপে ফের বড়পর্দায় পাপিয়া অধিকারী! ‘নবদুর্গা’ নিয়ে দেবী অবতারে ফিরছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক! বিশেষ প্রদর্শনীর দিনক্ষণ সহ ছবির ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু জোর চর্চা!
তথাগতর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে আত্ম-অনুসন্ধানের বিষয়টিও। তিনি মনে করেন, একটি সফল সম্পর্কের আগে একজন মানুষের নিজের শক্তি, দুর্বলতা এবং মানসিক চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভাঙাগড়া এবং সম্পর্কের ওঠাপড়া তাঁকে এই শিক্ষা দিয়েছে। তাই বর্তমানে তিনি সম্পর্ককে অধিকার বা সামাজিক স্বীকৃতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন বোঝাপড়া, স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে। তাঁর মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সততা এবং খোলামেলা যোগাযোগ। আর সেই কারণেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক বা গুঞ্জনের মাঝেও তিনি নিজের অনুভূতি ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে সম্পর্ককে দেখতে চান। তাঁর এই খোলামেলা এবং পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে টলিউডের অন্য অনেক তারকার থেকে আলাদা করে তুলেছে।






