বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়েদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন অভিভাবকরা সন্তানদের মতামতকে গুরুত্ব দেন, তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেও অনেক বেশি সম্মান করা হয়। কিন্তু কয়েক দশক আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ে বাড়ির বড়দের কথা অমান্য করার সাহস খুব কম ছেলেমেয়েই দেখাত। শাসন, নিয়ম এবং সময় মেনে চলা ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়া, এমনকি বাড়ি ফেরার সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকত। সেই প্রজন্মের অনেকের কাছেই ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কঠোর শাসনের নানা গল্প। সম্প্রতি নিজের শৈশবের এমনই কিছু মজার এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়।
বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে আবির চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতেই থাকবে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়ে তিনি দর্শকদের মনে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। গোয়েন্দা চরিত্র থেকে শুরু করে পারিবারিক গল্প সব ধরনের চরিত্রেই তিনি নিজের অভিনয়ের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। পর্দায় তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং সহজাত অভিনয় দর্শকদের বারবার মুগ্ধ করেছে। তবে এই সফল অভিনেতার জীবনেও রয়েছে ছোটবেলার এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা তাঁর ভাষায় শুনলে আজও অনেকের কাছে রীতিমতো ভয়ঙ্কর বলে মনে হতে পারে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের নানা স্মৃতি ভাগ করে নিতে গিয়ে আবির জানান, ছোটবেলায় তিনি মায়ের কাছে প্রচুর বকুনি এবং মার খেয়েছেন। তবে সেই ঘটনাগুলো তিনি আজ মজার ছলেই স্মরণ করেন। অভিনেতার কথায়, তাঁকে শাসন করার জন্য বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করা হতো। যদিও সেই সব জিনিসের নাম তিনি আর প্রকাশ করতে চাননি। মজা করেই বলেন, মায়ের সম্মান রক্ষার স্বার্থেই তিনি সেই ‘অস্ত্রের’ পরিচয় গোপন রাখছেন। কথার ফাঁকেই হাসতে হাসতে তিনি জানান, সেই সময়ে শাসন ছিল জীবনের স্বাভাবিক অংশ এবং তা নিয়ে বিশেষ প্রশ্ন তোলার সুযোগও ছিল না।
আবির আরও বলেন, মার খাওয়ার পর তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল বাড়ির বাথরুম। কারণ সেখানে গিয়ে তিনি একা বসে নানা চিন্তাভাবনা করতেন। বিশেষ করে মায়ের ওপর কীভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনাও নাকি মাথায় ঘুরত। যদিও সেই প্রতিশোধ কোনওদিন বাস্তবে নেওয়া হয়নি। অভিনেতার কথায়, ছোটবেলার রাগ, অভিমান এবং কল্পনার জগৎ মিলিয়ে সেই মুহূর্তগুলো আজ ভাবলে হাসিই পায়। কিন্তু তখন বিষয়টি তাঁর কাছে যথেষ্ট গুরুতর ছিল। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যেই তিনি বুঝেছিলেন পরিবারে শাসনের গুরুত্ব এবং বড়দের নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই, ৭৬ বছরে প্রয়াত বর্ষীয়ান শিল্পী! দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, শেষ রক্ষা হল না! এক যুগের অবসান, বিনোদন মহলে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া!
শুধু নিজের গল্পই নয়, সেই সময়কার সামাজিক পরিবেশেরও একটি মজার ছবি তুলে ধরেন আবির। তিনি জানান, তখন বাড়ির নিয়মকানুন এতটাই কঠোর ছিল যে বাইরে যাওয়া, চুল বা দাড়ির স্টাইল বদলানো সবকিছুতেই পরিবারের অনুমতির প্রয়োজন পড়ত। উদাহরণ হিসেবে তিনি এক বন্ধুর কথা বলেন। দুর্গাপুজোর সময় দক্ষিণ কলকাতায় ঘুরতে যাওয়ার আগে সেই বন্ধু ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় সে বুঝতে পারে, ওই দাড়ি দেখে বাড়িতে বকুনি খেতে হতে পারে। ফলে বাড়ি ঢোকার আগে বাধ্য হয়ে পুরো দাড়িটাই কেটে ফেলতে হয় তাকে। শুধু তাই নয়, রাত দশটার মধ্যে বাড়ি ফেরাও ছিল বাধ্যতামূলক। সেই সময়ের কঠোর শাসনের কথা বলতে গিয়েই আবিরের এই মজার স্মৃতিচারণ এখন নেটমাধ্যমে দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।






