দুর্গাপুরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া স্যান্ডির জীবনের গল্প আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ। ছোটবেলা ও কৈশোরের প্রায় ১৮ বছর কেটেছে দুর্গাপুরেই। পরিবারের স্নেহের পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা স্যান্ডি স্বপ্ন দেখতেন বড় কিছু করার। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে একদিন তিনি পা রাখেন কলকাতায়। নতুন শহর, অচেনা মানুষ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিলিয়ে শুরু হয় তাঁর সংগ্রামের অধ্যায়। বাবা মা এখনও দুর্গাপুরেই থাকেন আর দিদির সংসার আলাদা হলেও পরিবারের সমর্থনই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি জুগিয়েছে।
কলকাতায় প্রথম জীবনে তাঁর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। কাজের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে এমন সময়ও এসেছে যখন থাকার জায়গা না পেয়ে শিয়ালদহ স্টেশনেই রাত কাটাতে হয়েছে তাঁকে। প্রতিদিন সেখান থেকে স্টুডিও পাড়ায় গিয়ে কাজের সুযোগ খুঁজতেন। কিন্তু তখন স্টুডিওতে নতুনদের ঢোকার সুযোগ খুবই কম ছিল। ফলে বারবার প্রত্যাখ্যান আর বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও হাল ছাড়েননি স্যান্ডি। কঠিন বাস্তবের মাঝেই তিনি নিজের লক্ষ্য আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয় যখন তিনি ব্যাকআপ ড্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নাচের প্রতি ভালোবাসা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কোরিওগ্রাফির জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। একের পর এক রিয়েলিটি শো, অ্যাওয়ার্ড শো এবং চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। তাঁর কোরিওগ্রাফির তালিকায় রয়েছে চিরদিনই তুমি যে আমার, কবির, ক্লাসরুম, বলো দুগ্গা মাইকি সহ একাধিক জনপ্রিয় বাংলা ছবি। এই সময়েই শিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ “অনির্বাণের মতো আমাকেও বলা হচ্ছে ব্যান করবে, টেকনিশিয়ানদেরও থ্রে’ট করছে” ভালো করতে গেলেই হু’মকি, অভিযোগ তুললেন দেব! ‘এসিতে বসে দাদাগিরি নয়, মানুষের কথা ভাবুন’ স্বরূপ বিশ্বাসকে আ’ক্রমণ অভিনেতা-সাংসদের! টলিপাড়ায় ‘থ্রে’ট কালচার’-এর পর্দা করলেন ফাঁস?
২০১৬ সালে বিগ বস বাংলা সিজন ২ এ অংশ নেওয়ার পর স্যান্ডির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং তিনি ফাইনালিস্ট হন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের দিকে মন দেন তিনি। যদিও ২০২১ সালের দিকে আবারও এক কঠিন সময় আসে, যখন আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও খরচ চলতেই থাকে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও তিনি নতুন করে শুরু করেন এবং ছোটপর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একের পর এক কাজ করে দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করেন।
মাধবীলতা, আলোর ঠিকানা ও রোশনাই ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে। সম্প্রতি পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর জনপ্রিয় সিরিজ আবার প্রলয় ২ এ মনীশ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বড় পর্দাতেও নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন স্যান্ডি। তাঁর আসন্ন ছবি পরবর্তী স্টেশন বেগুনকোদর এ তিনি মুস্তাক চরিত্রে অভিনয় করছেন যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সোহম মজুমদার ও দেবরাজ সহ আরও অনেকে। স্টেশন থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা আজ সত্যিই স্বপ্নপূরণের গল্প হয়ে উঠেছে।






“মঞ্চকে ‘মাচা’ বলে অপমান করবেন না…এই টাকা দিয়েই যেমন আমার পেট চলেছে, অনেকের বাড়ি-গাড়িও হয়েছে” শিল্পী হয়েও অন্যের শিল্প সাধনাকে তাচ্ছিল্য! মঞ্চভিত্তিক অনুষ্ঠানকে ছোট করে দেখার প্রবণতা নিয়ে সরব, গায়িকা কেকা ঘোষাল!