অদিতি মুন্সি ও দেবরাজের পর, আরজিকর কা’ণ্ডের অভিযুক্ত সন্দীপের কে’স লড়বেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য? “মমতার পাশে আমি থাকব”, বি’স্ফোরক মন্তব্যের জেরে তুমুল বিতর্ক! চাপে কমরেড আইনজীবী! কী বলছেন অভয়ার বিচার চেয়ে পথে নামা শিল্পীরা?

তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ‘দেবরাজ চক্রবর্তী’ (Debraj Chakraborty) এবং তাঁর স্ত্রী, সংগীতশিল্পী তথা প্রাক্তন বিধায়ক ‘অদিতি মুন্সি’র (Aditi Munshi) হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করার পর থেকেই প্রবল বিতর্কের মুখে আইনজীবী ‘বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য’ (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন তিনি। অথচ সেই তিনিই দুর্নীতি ও আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তির মামলায় তৃণমূল নেতার হয়ে আদালতে দাঁড়ানোয় ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সেই আবহেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে আরজি করের অভয়া কাণ্ড (RG Kar Abhaya Case)!

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পক্ষেই কি তবে এবার দাঁড়াবেন বিকাশ? প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে সওয়াল করেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তারপর থেকেই বাম সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, শিল্পীমহলের একাধিক পরিচিত মুখও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমাজ মাধ্যমে এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন সরব ছিলেন, তাঁদের পক্ষেই আদালতে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই ফের সামনে আসে আরজি করের অভয়া কাণ্ডের প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিরুদ্ধে ওই ঘটনার তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূলের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ ছিল বলেও বিভিন্ন সময়ে বিরোধীরা দাবি করেছে। যদিও সরকারি ভাবে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে সেই মামলার অভিযুক্তদের পক্ষেও কি দাঁড়াতে পারেন বিকাশ?

সেই প্রসঙ্গ টেনেই অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্য এখন ভাইরাল। তাঁর পোস্টে লেখা, “আপনি এক কাজ করুন, অভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের কেসটাও নিয়ে নিন, ওটাই বা বাকি থাকে কেন?” যদিও বিকাশ এই প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, পরিচালক ও অভিনেতা সৌরভ পালোধীও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, “এটাই কি আপনার কোমরেডশিপ? চুরি যে চুরি নয় সেটাই প্রমাণ করতে আদালতে লড়বেন? যে দলের দুর্নীতির জন্য এত মানুষের জীবন বিপন্ন, চাঁদের হয়ে লড়াই করা কি আপনি ‘কাজ’ বলছেন?” অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও দীর্ঘ পোস্টে হতাশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: রবিবাসরীয় সকালেই দুঃসংবাদ! শারীরিক অবস্থার অবনতিতে আইসিইউতে ভর্তি বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের মা! চিন্তায় অভিনেতা, হঠাৎ কী হলো মায়ের?

তিনি লেখেন, “কাউকে দেখে কমিউনিস্ট রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হইনি। ব্যক্তির থেকে আদর্শ সর্বদা উপরে রেখেছি।” সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই মহলেই বড় বিতর্কের আকার নিয়েছে। যদিও এত সমালোচনার পরেও নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরেননি বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব আলাদা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা। বিকাশ বলেন, “যে পেশায় আমি আছি সেখানে নীতিগত সংঘর্ষ না থাকলে বিচার দেওয়া আমার দায়িত্ব। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব।” কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতোই যে কাজ করেছে এই মন্তব্য, তা বলাই বাহুল্য!

You cannot copy content of this page