“ধারাবাহিক তো এমনই হওয়া উচিত, যা শেষ হওয়ার পরেও বছরের পর বছর মনে থাকে!” “পল্লবী বেঁচে নেই, কিন্তু লুৎফা আজও আমাদের হৃদয়ে আছে!” শনের অভিনয় সিরাজকে জীবন্ত করে তুলেছিল, এত বছর পরেও আলোচনায় ‘আমি সিরাজের বেগম’! দর্শকদের মতে এমন ধারাবাহিক বারবার তৈরি হয় না, আপনারাও কি একমত?

স্টার জলসার ইতিহাসভিত্তিক জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আমি সিরাজের বেগম’ (Ami Sirajer Begum) সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। মাত্র কয়েক মাস চলার পর ২০১৯ সালের মে মাসে শেষ হলেও আজও এই ধারাবাহিককে ভুলতে পারেননি বহু দর্শক। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও লুৎফুন্নিসা বেগমের সম্পর্ক, বাংলার ইতিহাস, রাজনীতি এবং বিশ্বাসঘাতকতার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ধারাবাহিক সেই সময় আলাদা করে নজর কেড়েছিল। মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন শন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রয়াত অভিনেত্রী পল্লবী দে। ধারাবাহিকের কাহিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, তেমনই দুই প্রধান চরিত্রের অভিনয়ও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

এত বছর পরেও সামাজিক মাধ্যমে এই ধারাবাহিক নিয়ে নতুন করে আবেগ প্রকাশ করছেন অনুরাগীরা। সম্প্রতি এক দর্শকের দীর্ঘ মন্তব্য আবারও আলোচনায় এনেছে ‘আমি সিরাজের বেগম’-কে। তাঁর কথায়, “ধারাবাহিক তো এমনই হওয়া উচিত, যেটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বছরের পর বছর দর্শকের মনে থেকে যায়। যার মূল্যায়ন কখনও শুধু টিআরপি দিয়ে হয় না। দর্শকদের কাছে যেটা অন্যতম সেরা ধারাবাহিকের উদাহরণ হয়ে থাকে, ‘আমি সিরাজের বেগম’ ঠিক তেমনই একটি কাজ।” ওই দর্শক আরও লিখেছেন, “পল্লবী দি আজ আমাদের মধ্যে নেই, অনেক বছর কেটে গেছে। তবুও মনে হয় তিনি যেন এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন। তাঁর অভিনীত লুৎফা চরিত্রটি আজও আমাদের কাছে সমান প্রিয়।”

এই মন্তব্যে বহু মানুষ সহমত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়েও প্রশংসা করেছেন সেই দর্শক। তাঁর কথায়, “শন আমার সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন এই ধারাবাহিক থেকেই। এক সাক্ষাৎকারে শুনেছিলাম, চরিত্রের উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব এবং উপস্থিতির জন্যই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বাংলায় তাঁর উচ্চারণ পুরোপুরি সাবলীল ছিল না, কারণ পড়াশোনার বড় একটা সময় তিনি বাইরে কাটিয়েছিলেন। তবুও নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের জন্য প্রযোজনা সংস্থার কাছে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে উপযুক্ত পছন্দ।” দর্শকের দাবি, চরিত্রটিকে নিখুঁত করে তুলতে শন দীর্ঘ সময় ধরে কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন এবং নিজের অভিনয়কে আরও পরিণত করেছিলেন।

মন্তব্যে আরও বলা হয়েছে, “নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তিনি সিরাজের চরিত্রকে এত বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন যে পরে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কারও পেয়েছিলেন।” যদিও এই ধারাবাহিক শেষ হয়েছে বহু বছর আগে, তবুও দর্শকদের মতে এর প্রতিটি চরিত্র, সংলাপ এবং আবহ আজও স্মৃতিতে অমলিন। বিশেষ করে শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিরাজ এবং পল্লবী দে-র লুৎফা চরিত্র এখনও বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম স্মরণীয় জুটি হিসেবে অনেকে মনে করেন। ইতিহাসভিত্তিক ধারাবাহিক হয়েও এটি সাধারণ দর্শকের আবেগের সঙ্গে সহজেই মিশে গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ইন্দ্রজালে ভ্যানিশ একের পর এক জিনিস! প্যান্ডেলে ঢুকলেই পৌঁছে যাবেন ম্যাজিকের দুনিয়াতে! পি সি সরকারকে শ্রদ্ধার্ঘ্য, তাক লাগাবে এই বছরের দুর্গাপুজোর থিম! জেনে নিন, দেখতে হলে যাবেন কোথায়?

সময়ের সঙ্গে বহু নতুন ধারাবাহিক এসেছে, আবার হারিয়েও গেছে। কিন্তু কিছু কাজ থেকে যায় দর্শকের মনে, কারণ সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনুভূতি এবং স্মৃতি। ‘আমি সিরাজের বেগম’-কে ঘিরে সাম্প্রতিক দর্শক প্রতিক্রিয়াও সেই কথাই যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিল। পল্লবী দে আজ আর আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত লুৎফা চরিত্র এখনও অনুরাগীদের মনে সমান উজ্জ্বল। অন্যদিকে শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়েও প্রশংসার শেষ নেই। তাই এত বছর পরেও দর্শকদের একাংশের মতে, এই ধারাবাহিক শুধুমাত্র একটি সফল টেলিভিশন সিরিজ নয়, বরং বাংলা ধারাবাহিকের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি অধ্যায়।

You cannot copy content of this page