“ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেলাম” পাঁচ বছর পরেও অম্বরীশের জন্মদিনে, বার্তা পাঠাতে ভুল হয় না অমিতাভ বচ্চনের! কীভাবে তৈরি হয়েছে ‘বিগ বি’র সঙ্গে এমন সম্পর্ক? বিশেষ দিনে কোন গল্প শোনালেন অভিনেতা?

জন্মদিনে অনেকেই শুভেচ্ছা জানান, কিন্তু কোনও কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব যদি নিজে থেকে মনে রেখে বার্তা পাঠান, তা যে কত বড় প্রাপ্তি তা সহজেই বোঝা যায়। ঠিক এমনই এক আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা অম্বরীশ। তাঁর জন্মদিনে গত পাঁচ বছর ধরে নিয়ম করে শুভেচ্ছা জানান বলিউডের মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন। একটি ছোট্ট বার্তা আসে, তাতেই ভরে ওঠে অম্বরীশের মন। বার্তাটি খুবই সহজ সরল। শুভ জন্মদিন, ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন। এই আশীর্বাদকেই নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানালেন কী ভাবে শুরু হয়েছিল তাঁদের যোগাযোগ এবং কী ভাবে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে উঠেছে।

অম্বরীশ জানান, প্রথম আলাপ হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন তিনি অভিনয় করছিলেন ওপেনটি বায়োস্কোপ ছবিতে। ছবিটির প্রযোজক ছিলেন সুজিত সরকার। সেই সময় কলকাতায় পিকু ছবির শুটিং করছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ছবির পোস্টার মুক্তির অনুষ্ঠানে সুজিত সরকার নিজেই নিয়ে এসেছিলেন অমিতাভকে। সেখানেই প্রথম মুখোমুখি হন অম্বরীশ এবং অমিতাভ। তবে সেই সময় আলাপ খুব বেশি দূর এগোয়নি। শুধু সৌজন্যমূলক কথা হয়েছিল। তবুও সেই প্রথম সাক্ষাৎ অভিনেতার মনে গভীর ছাপ ফেলে দেয়। তিনি ভাবতেও পারেননি, এই ছোট্ট আলাপই একদিন এমন একটি সম্পর্কের সূচনা করবে।

এরপর ২০১৮ সালে আবার তাঁদের দেখা হয় একটি বিজ্ঞাপনী ছবির শুটিংয়ে। সেখানেই অম্বরীশ অবাক হয়ে যান। কারণ অমিতাভ বচ্চন তাঁর আগের কাজের কথা মনে রেখেছিলেন। ওপেনটি বায়োস্কোপ ছবির কথা তুলতেই অমিতাভ জানান তিনি ছবিটি দেখেছেন এবং তাঁর ভালও লেগেছে। একজন নবীন অভিনেতার কাছে এমন স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বিরাট প্রাপ্তি। সেই কাজের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ কিছুটা ঘনিষ্ঠ হয়। পরবর্তীতে আবার একটি বিজ্ঞাপনী ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আসে। অম্বরীশের কথায়, সেই সময় থেকেই সম্ভবত তিনি অমিতাভের মনে একটি স্থায়ী জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।

তারপর থেকেই শুরু হয় এক বিশেষ প্রথা। প্রতি বছর অম্বরীশের জন্মদিনে অমিতাভ বচ্চনের কাছ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা আসে। অভিনেতা মজা করে বলেন, হয়তো বিগ বি নিজের ফোনে রিমাইন্ডার সেট করে রেখেছেন। না হলে এত বছর ধরে কী ভাবে মনে রাখেন। শুধু শুভেচ্ছা নয়, মাঝে মাঝে নিজের নতুন ছবির ঝলক বা প্রচারের কিছু অংশও পাঠান অমিতাভ। অন্যদিকে অম্বরীশও পাল্টা শুভেচ্ছা জানান নতুন বছর এবং অমিতাভের জন্মদিনে। আশ্চর্যের বিষয়, অনেক সময় দশ মিনিটের মধ্যেই উত্তরও পেয়ে যান তিনি। এই ছোট ছোট মুহূর্তই অভিনেতার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ব্রাত্যদা তো নিজেই একটা ‘ইনস্টিটিউশন’, এমন ভালো অভিনয় অনেকেই পারে না” ‘কর্পূর’ ছবি নিয়ে ব্রাত্য বসুর ভূয়সী প্রশংসা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর! “উনি যদি ইনস্টিটিউশন হন, শিশির ভাদুরী, উৎপল দত্ত কী?” “উনি কি উত্তম নাকি সৌমিত্র?” সামাজিক মাধ্যমে সবর নেটিজেনরা!

এদিকে নিজের জন্মদিন নিয়েও খুব বেশি জাঁকজমক করতে চান না অম্বরীশ। এ বছর তিনি ৪৭ বছরে পা দিলেন। জন্মদিনের দিনেও তাঁর শুটিং রয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেই দিন কাটবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সকালে মায়ের হাতে বানানো বাতাসা দিয়ে তৈরি পায়েসের দু চামচ খেয়েই দিন শুরু করেছেন। তবে এখন কড়া ডায়েটে রয়েছেন অভিনেতা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কেজি ওজন কমিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ৭৫ কেজিতে পৌঁছনো। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সেই লক্ষ্য পূরণ করবেন বলেও আত্মবিশ্বাসী অম্বরীশ। জন্মদিনে অমিতাভের আশীর্বাদ আর নিজের কঠোর পরিশ্রমই এখন তাঁর এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

You cannot copy content of this page