“সাধারণ মানুষও বুঝছে দায় প্রযোজনা সংস্থার, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন?” নিতেই হবে দায়! রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে, লেখিকাকে সরাসরি তো,প অঞ্জনা বসুর! যেখানে কাজ হারানোর ভয়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই নীরব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক কন্ঠে সরব হলেন অভিনেত্রী!

টলিউডে আবারও এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, একজন অভিনেতার অকাল মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনও গাফিলতি? গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও স্পষ্ট নয় ঠিক কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক পরিণতি। বরং যত সময় যাচ্ছে, ততই বাড়ছে জল্পনা, প্রশ্ন আর পাল্টা প্রশ্ন।

ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসছে। কেউ বলছেন দুর্ঘটনা, কেউ বা ইঙ্গিত করছেন অব্যবস্থাপনার দিকে। এই অবস্থায় সরাসরি মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার এখানে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষোভ, হতাশা এবং একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্ন কেন এখনও কেউ দায় স্বীকার করছে না?

অঞ্জনা বসুর কথায়, এই ঘটনার মূল দায় প্রযোজনা সংস্থার। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, প্রযোজনা সংস্থার তরফে যে ধরনের দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল, তা দেখা যায়নি। এমনকি সংস্থার অন্যতম কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অঞ্জনার মতে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ মানুষ এই পরিস্থিতিতে সামনে এসে অন্তত স্বীকার করতে পারতেন কোথায় ভুল হয়েছে বা কোথায় যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। কিন্তু সেই স্বচ্ছতা এখনও দেখা যায়নি।

এখানেই থেমে থাকেননি অঞ্জনা বসু। তিনি আরও বড় একটি সমস্যার দিকেও আঙুল তুলেছেন, টেকনিশিয়ান নিয়োগের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক চাপ ও নিয়মের অসঙ্গতি। তাঁর দাবি, যেখানে ৪-৫ জন টেকনিশিয়ানে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেখানে গিল্ডের নিয়ম দেখিয়ে ১৫-১৬ জনকে যুক্ত করা হয়। এতে কাজের মান বা নিরাপত্তা কতটা বজায় থাকে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে কার্ড দেওয়া এবং কাজের অপ্রয়োজনীয় চাপ এই পুরো ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ও তো খুব ভালো সাঁতার জানত, জলে ডুবে যাবে, এটা মানা যায়?” চোখে জল নিয়ে বি*স্ফোরক তথ্য ফাঁস, রাহুল অরুণোদয়ের মাসির! ‘মাসি মাং’স রেঁধে রাখ, আমি আসছি’ বলা ছেলেটি আর ফিরবে না! ফাঁকা পড়ে প্রিয় চেয়ার, শিলিগুড়ির বাড়িতে এখন শুধুই শো’কের ছায়া!

সব অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মাঝে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এখনও ঝুলে আছে রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? দায় স্বীকারের আহ্বান জানিয়ে অঞ্জনা বসু বলেছেন, এখনই সময় সামনে এসে সত্যিটা বলার। তাঁর কথায়, দায় নিলে সম্মানই বাড়বে, কমবে না। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি অস্বস্তিকর আয়না হয়ে থাকবে, যেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সমস্যা শুধু একটি ঘটনার নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার।

You cannot copy content of this page