বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতকে ঘিরে নানান বিতর্ক, ঝামেলা এবং মতবিরোধ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রাজনীতি নিয়ে বিভাজন, অন্যদিকে ‘ব্যান কালচার’, আবার কখনও সহকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য বিবাদ সব মিলিয়ে টলিপাড়ার অন্দরমহল এখন প্রায়ই চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসছে। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে একসঙ্গে দেখা গেলেও, তার পিছনের সম্পর্কের টানাপোড়েন বারবার সামনে চলে আসছে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে। এই পরিস্থিতি নিয়েই এবার মুখ খুললেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra)। বর্তমান সময়ে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত জানিয়েছেন।
অঙ্কুশ হাজরার মতে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মানুষের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজেদের মধ্যেকার সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়া। কিন্তু বর্তমানে ঠিক তার উল্টোটাই হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। অভিনেতা বলেন, আগে কোনও সমস্যা হলে একজন আরেকজনকে ফোন করে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এখন সেই জায়গায় এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ইনস্টাগ্রাম স্টোরি বা প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি। তাঁর কথায়, “একটা ফোন করলেই যে সমস্যার সমাধান হতে পারে, সেটা না করে সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছে।” এর ফলে সাধারণ মানুষও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের সমস্ত ঝামেলা জেনে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, অভিনেতার মতে বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দর্শকেরা হয়তো শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনের খবরই বেশি জানেন। কার বাড়িতে কী রান্না হচ্ছে, কে কাকে পছন্দ করেন না, কে কাকে কী বললেন, এই ধরনের বিষয়ই এখন সমাজমাধ্যমে বেশি চর্চিত হচ্ছে। অঙ্কুশের মতে, এই প্রবণতা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, “আমরা একে অপরকে বেসিক রেসপেক্টটা দিচ্ছি না। সেই কারণেই সাধারণ মানুষের চোখে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সম্মান নিচে নেমে যাচ্ছে।” অভিনেতার বক্তব্য, শিল্পীদের নিজেদের মধ্যেই যদি সম্মান ও বোঝাপড়া না থাকে, তাহলে বাইরের মানুষের কাছেও সেই প্রভাব পড়বে।
অঙ্কুশ আরও জানান, তাঁর এক বন্ধু সম্প্রতি তাঁকে এই বিষয়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সেই বন্ধু নাকি তাঁকে বলেছিলেন, বাংলা ছাড়া অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণত কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর নতুন ছবি, নতুন কাজ বা সাফল্য নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে বিষয়টা যেন পুরো উল্টো। এখানে কে কার সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালেন, কার সম্পর্ক কার সঙ্গে খারাপ, কে কাকে কী মন্তব্য করলেন, এই বিষয়গুলোই বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসে। ফলে সিনেমা বা কাজের আসল আলোচনা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘দিদিতেই শান্তি’ বলেছিলেন একদিন, এবার ‘দাদা’ শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই সুর বদল সোহেল দত্তের! একুশে বিজেপি, পরে তৃণমূল, ছাব্বিশের ফল বেরোতেই ফের ‘ঘর ওয়াপসি’? পদের মোহ না পদ্মের? অভিনেতার ‘অভিনব ডিগবাজি’তে সরগরম নেটপাড়া!
অভিনেতার বন্ধু আরও নাকি আক্ষেপ করে বলেছেন, “তোদের বাংলা সিনেমার খবর কোথায়?” অঙ্কুশের মতে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা সিনেমার বিষয়বস্তু, নতুন প্রজেক্ট, অভিনেতাদের কাজ বা সৃজনশীল দিক নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত, তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বই বেশি সামনে আসছে। আর এর ফলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিবেশও নেতিবাচক হয়ে উঠছে। অভিনেতার বক্তব্য, যদি সবাই একে অপরকে সম্মান দিয়ে, সমস্যার সমাধান নিজেরা বসে করার চেষ্টা করেন, তাহলে আবারও বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আগের মতো সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ ফিরে পেতে পারে।






