বাংলা সিনেমায় আবারও ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে আসছে নতুন ছবি ‘অদম্য’। সুন্দরবনের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে এক তরুণের লড়াই, বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং সমাজের কঠিন বাস্তবতার ছবি তুলে ধরা হবে। ২৩ বছরের পলাশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পে শিকারি থেকে শিকারে পরিণত হওয়ার এক তীব্র যাত্রা দেখানো হবে। প্রতিকূল পরিবেশ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কীভাবে একজন মানুষ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে—এই প্রশ্নই ছবির মূল সুর হয়ে উঠছে।
এই ছবির বিশেষ আকর্ষণ নিঃসন্দেহে অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। অভিনয় কিংবা পরিচালনার বাইরে গিয়ে এবার তিনি ‘অদম্য’-এর মাধ্যমে একেবারে অন্য ভূমিকায় ধরা দিচ্ছেন—একজন নিবেদক হিসেবে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বরাবরই শক্তিশালী বক্তব্য রেখেছেন, আর এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেন সেই অভিজ্ঞতাই আরও একবার সামনে আনছেন। তাঁর উপস্থিতি ছবির গুরুত্বকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে এসে অপর্ণা সেন যে মন্তব্য করেছেন, তা ইতিমধ্যেই টলিউডে আলোড়ন ফেলেছে। সরাসরি তিনি জানিয়েছেন, বাংলা সিনেমায় এখন যে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এমন এক অদৃশ্য চাপ কাজ করছে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে নতুন প্রযোজক বা বিনিয়োগকারীরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বাংলা সিনেমাকে একপ্রকার “মুমূর্ষু” অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। টলিউডে বাড়তে থাকা ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপর্ণা সেন। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই গভীর হয়েছে যে, অনেক সময় শিল্পী বা নির্মাতারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে সাহস পান না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে এতটা প্রকট নয়, যা বাংলার সিনেমার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
আরও পড়ুনঃ “সায়ন্তিকা গো ব্যাক, চো’র এমএলএ গো ব্যাক!” “আপনি কোথায় থাকেন, ভোটের পর তো দেখিনি!” প্রচারে উত্তেজনা, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এলাকাবাসীর কটাক্ষ! ‘জনসমক্ষে এই কদর্য ও নারীবিদ্বেষী ভাষা শুধু আমাকে নয়, বাংলার নারীদের অপমান’ ক্ষোভে উত্তর অভিনেত্রীর!
সবশেষে অপর্ণা সেন বোঝাতে চেয়েছেন, ‘অদম্য’-এর মতো ছবি এখন সময়ের দাবি। কারণ এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে সাধারণ মানুষ ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। পরিচালকও একই সুরে বলেছেন, যখন মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন তারা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়—তখন সেই মানুষকে চরমপন্থী না বিপ্লবী বলা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। আর ঠিক এই কারণেই, বর্তমান টলিউডের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ‘অদম্য’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে চলেছে।






