দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে এখনও চলছে তীব্র বিতর্ক। স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতাতেও ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন সংগঠন রাস্তায় নেমেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেতা অরিত্র দত্ত বনিক (Aritra Dutta Banik) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করলেও, তার বর্তমান রূপ এবং পরিচালনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিজের পোস্টের শুরুতেই অরিত্র লেখেন, “আপনি সিস্টেমকে ভয় পেয়ে সিস্টেম সংশোধন করতে পারবেন না।” তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘ককরোচ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা দল বা সিজেপি তৈরি হলেও, সেই বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি তোলা হয়নি। এমনকি বিচারব্যবস্থার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যখন আদালতের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলা হচ্ছে, তখন সেই মন্তব্য থেকেই সংগঠনের নাম নেওয়ার যুক্তি কী?
এরপর নিজের বক্তব্য বোঝাতে মহাত্মা গান্ধীর একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, দেশদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে দাঁড়িয়ে গান্ধী নির্ভয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছেন এবং অহিংস পথে সেই প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাঁর রয়েছে। অরিত্রর মতে, গান্ধীর সেই স্পষ্ট অবস্থান এবং সততাকে বিচারপতি ব্রুমফিল্ডও সম্মান জানিয়েছিলেন। যদিও আইন মেনেই তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবুও সত্যের পক্ষে তাঁর অবস্থান ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: “ভগবানকে নিজে এসেও যদি বলে তোমরা ভুল, অন্ধভক্তরা বলবে আপনি নিশ্চই মুসলিম!” পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যোগ দিয়েই, চিন আর পাকিস্তান থেকে ফান্ডিংয়ের অভিযোগে পেলেন মৃ’ত্যু হু’মকি! ‘হ্যাটস অফ, চুমু…’ ভিডিও করে বি*স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র! ইনবক্সে ক্রমাগত ভয়ানক বার্তা, কারা চুপ করাতে চাইছে অভিনেত্রীকে?
বর্তমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অরিত্র আরও দাবি করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ককরোচ জনতা দলের আন্দোলন তার মূল লক্ষ্য থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কোন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব থাকবে তা নিয়েই এখন ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু মানুষের প্রবেশের কারণেও আন্দোলনের স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে এবং স্পষ্ট রূপরেখা আর চোখে পড়ছে না। তাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
পোস্টের শেষে অরিত্র দত্ত বনিক লেখেন, “গান্ধীর মতো ড্রেস পরে, হাতে সংবিধান নিয়ে মঞ্চে বসে ছবি তোলা সহজ কাজ। কিন্তু গান্ধীর মতো নির্ভীক, সৎ থেকে একটি দেশের আইন ও সমাজব্যবস্থার সংস্কারের জন্য লড়াই করা অনেক কঠিন।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই আন্দোলন সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণের বিরোধিতাও করেছেন। ফলে নিট আন্দোলনের বিতর্কের পাশাপাশি অভিনেতার এই পোস্টও এখন আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।






