“পুলিশ কিছু করার আগে আপনি দু-চার ঘা হাত চালিয়ে নিজের রাগ মেটান, ব্যপক পি’টিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিন!” “এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করলে আজ…” সমাজকে যা শেখাবেন সেটাই ঘুরে আপনার কাছে আসবে, ফের সরব অরিত্র দত্ত বনিক! এবার বিদেশি অর্থ, ‘ডিপ স্টেট’ তত্ত্ব থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলা নিয়ে তুললেন একগুচ্ছ প্রশ্ন?

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই নিজের মতামত প্রকাশ করে আসছেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বনিক (Aritra Dutta Banik)। কয়েকদিন আগেই তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে আন্দোলনের কৌশল, বিচারব্যবস্থা এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। এবার ফের একটি নতুন পোস্ট করে তিনি বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে আরও বিস্তৃতভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

নতুন পোস্টে অরিত্র লেখেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল অফিশিয়াল প্রেস স্টেটমেন্টে বলেছেন, বিদেশের টাকায় দেশজুড়ে আন্দোলন হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই শেয়ার করার মতো (‘No information to share’)। কিন্তু ফেসবুকের বিদেশমন্ত্রীরা হাতে অলরেডি তথ্য পেয়েছেন যে ডিপ স্টেট কিভাবে টাকা ঢুকিয়ে দিয়েছে এই ছাত্র মুভমেন্টটাকে দিয়ে নেপাল বাংলাদেশ বানানোর জন্যে। দিল্লীতে শাসক ও বিরোধী উভয় দলের লোকেরাই Dr. S. Jaishankar কে অত্যন্ত পন্ডিত এবং যোগ্য বিদেশমন্ত্রী ও ডিপ্লোম্যাসি বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকার করেন কিন্তু আজ দেখছি জয়শঙ্কর স্যার অত্যন্ত ফালতু লোক, বিদেশনীতির সর্বোচ্চ চেয়ারে বসে উনি তথ্য পাচ্ছেনা কিন্তু ফেসবুকের বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের সাথে কথা বলে সব ডিপ স্টেটের ফান্ডিং তথ্য হাতে পাচ্ছে।

এই বিদেশমন্ত্রীকে কিভাবে ভরসা করবো? Dr. S. Jaishankar আপনি চাকরি ছেড়ে ফেসবুক থেকে কাউকে বসান, আপনার দ্বারা হবেনা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি নিয়েই তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। এরপর তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অরিত্রর কথায়, “নিয়মের পরোয়া না করে আদালত চত্ত্বরে ডিম মারার রীতি চালু হয়েছিল, আমরা সবাই তৃণমুলের উপদ্রবে বিরক্ত ক্রুদ্ধ ছিলাম সেই উত্তর ভোটে জনগণ দিয়ে দিয়েছে তারপরেও ব্যক্তিগত আক্ষেপ মেটাতে আইন কানুনের পরোয়া না করে ডিম থেরাপি আয়োজন শুরু করেছিলো কিছু অসভ্য রাজনৈতিক হোতা, সেইদিন সংবাদমাধ্যম জনরোষ, প্রভৃতি বলে ব্যপক সেলিব্রেশন করেছিলো নয়তো চুপ করে মজা দেখছিলো।”

আরও পড়ুন: “আপনি সিস্টেমকে ভয় পেয়ে সিস্টেমকেই বদলাতে চাইছেন, দেশদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর…” দেশজুড়ে নিট আন্দোলন নিয়ে বি*স্ফোরক মন্তব্য অরিত্র দত্ত বনিক! গান্ধীর উদাহরণ টেনে আন্দোলনের দিশা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা

একইসঙ্গে বারুইপুরের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বারুইপুর কান্ডে বে-আইনি এনকাউন্টারকে সিনেমার মতো সেলিব্রেট করে সন্ধ্যেবেলা টিভিতে উল্লাস করেছে মিডিয়া। মানুষকে দেখানো হয়েছে এসব আদালতের বিচার প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘসময়ের ব্যাপার ‘ইন্সট্যান্ট জাস্টিস’ দিতে হবে।” পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “তৃণমূলের নেতা আগে আপনাকে জ্বালিয়েছে, পুলিশ কিছু করার আগে আপনি দু-চার ঘা হাত চালিয়ে নিজের রাগ মেটান, স্টেশনে চোর ধরে থানায় না দিয়ে আগে ব্যপক পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিন।” তাঁর দাবি, এই ধরনের মানসিকতাকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

অরিত্রর মতে, সেই সময় যদি সংবাদমাধ্যম একজোট হয়ে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব হতো এবং প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করত, তাহলে আজ ব্যক্তিগত ভালো লাগা বা খারাপ লাগার কারণে কোনও সাংবাদিকের উপর হামলা চালানোর সাহস কেউ পেত না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, সংবাদমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পোস্টের শেষ অংশে অরিত্র সকলকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “এই থেকে সজাগ হোন, আপনি সমাজকে যা শেখাবেন সেই প্রশিক্ষণ ঘুরে আপনার কাছে ফিরে আসবে, তাই দরকার মতো রুখে দাঁড়ান সঠিক জিনিস শেখান দেখবেন এই চিত্র আর কোনোদিন আসবেনা। সকল সাংবাদিক বন্ধুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।” তাঁর এই নতুন পোস্টও প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন, আবার কেউ তাঁর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

You cannot copy content of this page