“অভিনয় শুরু করতেই মেকআপ রুম থেকে বের করে দিয়েছিল…বাড়ি, গাড়ি আর হলো না” অতীতের সেই অপমান নিয়ে মুখ খুললেন অর্পিতা মুখার্জী! পর্দার আড়ালের কোন অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী? কারা করেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন ব্যাবহার?

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা বিনোদন জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন অর্পিতা মুখার্জী। বড় পর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ছোট পর্দাতেই তিনি হয়ে উঠেছেন ঘরের মেয়ে। সময় বদলেছে, চরিত্র বদলেছে, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর একাগ্রতা এতটুকু কমেনি। আজ বহু দর্শক তাঁকে তাঁর আসল নামের চেয়ে চরিত্রের নামেই বেশি চেনেন—এটাই একজন অভিনেত্রীর সাফল্য বলেই মনে করেন তিনি।

ছোট পর্দায় তাঁকে কখনও দেখা গেছে মায়ের চরিত্রে, কখনও কাকিমা, কখনও বা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে। দীর্ঘ কেরিয়ারে জনপ্রিয়তা যেমন পেয়েছেন, তেমনই মুখোমুখি হয়েছেন অপমানেরও। কেরিয়ারের শুরুর দিকে একবার এক সিনিয়র অভিনেতা মেকআপ রুম ভাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয়, “জুনিয়র আর্টিস্টের সঙ্গে রুম শেয়ার করা হবে না।” অথচ তখন তিনি ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকে কাজ করে ফেলেছেন। সেই দিন গাছতলায় বসেই মেকআপ করতে হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনাই তাঁকে শিখিয়েছে—সম্মান চাওয়া নয়, কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

অর্পিতার অভিনয়জীবনে প্রথমেই বড় পর্দায় সুযোগ পান ‘পাগল প্রেমী’ ছবিতে। পরে একের পর এক ধারাবাহিকে কাজ করে তিনি নিজের জায়গা পাকাপাকি করেন। তবে কখনও নিজেকে ‘গ্ল্যামারাস হিরোইন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভাল অভিনেত্রী হওয়া। বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে না পারার আক্ষেপ আছে, কিন্তু কাজের অভাব নিয়ে কোনও আফসোস নেই—কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, যা পাওয়ার তা ঠিক সময়েই আসে।

ইন্ডাস্ট্রিতে ‘কমপ্রোমাইজ’ প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে সুযোগ আদায় করার পথে হাঁটেননি কখনও। তাঁর মতে, ভাল চরিত্র স্বাভাবিক পথেই আসা উচিত। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার দেখে কাস্টিং হওয়ার প্রবণতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ফলোয়ার নয়—পারফরম্যান্সই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি। সমালোচনাকে স্বাগত জানান তিনি, কারণ সেটাই একজন শিল্পীকে আরও শানিত করে।

আরও পড়ুনঃ “কেউ নাম বাঁচিয়ে রাখল না…এঁদের নিয়ে কোনও সংগ্রহশালা বা নামাঙ্কিত পুরস্কারও নেই!” এঁরা না থাকলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হতো? ভারতী দেবীকে স্মরণ করে, স্বর্ণযুগের শিল্পীদের বিস্মৃতির আক্ষেপ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের!

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—ধৈর্যই আসল চাবিকাঠি। হঠাৎ সাফল্য যেমন আসে, তেমনই হারিয়েও যেতে পারে। তাই মাটিতে পা রেখে এগোতে হবে। আজ ব্যর্থতা এলেও কাল আবার সুযোগ আসবে—এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলাই শিল্পীর কাজ। অর্পিতা মুখার্জীর অভিজ্ঞতা বলছে, এই অনিশ্চিত ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে প্রতিভার পাশাপাশি দরকার মানসিক শক্তি, সংযম আর নিরন্তর অনুশীলন।

You cannot copy content of this page