মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে দর্শক বা আয়োজকদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগেও বহুবার এমন ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে সম্মান, সময় আর দায়িত্বর সংঘাতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। বনগাঁর ওই অনুষ্ঠানেও ঠিক তেমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে মঞ্চে থাকা জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘মিমি চক্রবর্তী’ (Mimi Chakraborty) নিজেকে অপমানিত বোধ করেন আর আয়োজক পক্ষ দাবি করে, তারা প্রশাসনিক নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পাননি!
দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা হলেও, ঘটনা ধীরে ধীরে শুধুই ভুল বোঝাবুঝির সীমা ছাড়িয়ে যায়। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গান চলাকালীন মঞ্চে উঠে তাঁকে নেমে যেতে বলা হয়েছিল, যা তিনি সম্মানের পরিপন্থী মনে করছেন। তাঁর ক্ষোভের জায়গাটা ছিল মূলত এই ধারণা থেকে যে, শিল্পীরা ডাক পেয়ে মঞ্চে উঠলেই অনেকেই যেন তাঁদের ‘কেনা’ ভাবতে শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কেরিয়ারে প্রথম বলেই তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। তবে আয়োজকদের ব্যাখ্যা ছিল অন্য। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন অভিনেত্রী। পুলিশি অনুমতি ছিল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, তার পরে অনুষ্ঠান চালানো আইনত সম্ভব নয়। গ্রামের এলাকায় রাত বাড়লে দর্শকদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক জটিলতাও বেড়ে যায়, এই যুক্তিতেই দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে তারা জানায়।
এই বিতর্কে নতুন মোড় আসে গত পরশু, যখন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীকে হেন’স্থার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং পরে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। তনয় শাস্ত্রী নিজে অবশ্য জানান, সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করাই ছিল বাধ্যবাধকতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনও অসম্মান করতে চাননি, বরং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু এই গ্রেফতারির পর থেকেই বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে!
রাজ্য রাজনীতি থেকে বিনোদন মহল, সব জায়গাতেই মতভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে নিজের মত প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা ‘ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Bhaskar Banerjee)। তিনি সমাজ মাধ্যমে লেখেন, “এটা মানা যায় না! আমি কোনও দলের লোক নই, কিন্তু এটা অন্যায়। টাকা পেয়ে প্রোগ্রামে দেরী করে আসবে আবার অ্যাটিটিউড দেখাবে! এখানে অর্গানাইজার এর কোনও দোষ আমি দেখছি না। যেটা হলো তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি!
আরও পড়ুনঃ “ওই মানুষটা স্রেফ দু-মুঠো ভাতের জন্য টেবিলে টেবিলে ঘোরে, তাঁকে এমন অপমান অশিক্ষার প্রমাণ!” “পনেরো সেকেন্ডের জনপ্রিয়তার জন্য, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সাজে?” সায়কের ‘অলিপাব’ বিতর্কে, ওয়েটারের মানসিক স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিয়ে সরব রাহুল দেব বোস!
আরও পড়ুনঃ “ওই মানুষটা স্রেফ দু-মুঠো ভাতের জন্য টেবিলে টেবিলে ঘোরে, তাঁকে এমন অপমান অশিক্ষার প্রমাণ!” “পনেরো সেকেন্ডের জনপ্রিয়তার জন্য, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সাজে?” সায়কের ‘অলিপাব’ বিতর্কে, ওয়েটারের মানসিক স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিয়ে সরব রাহুল দেব বোস!
অবিলম্বে অর্গানাইজারকে ছেড়ে শিল্পীকে গ্রেফতার করা উচিত। তাঁর দেরীর জন্য অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারতো! ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে লজ্জিত। উক্ত শিল্পী শুড বি পানিশড!” অভিনেতার এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, তিনি পুরো ঘটনার মূলে শিল্পীর দোষই দেখছেন এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে যে এই ঘটনায় আসলে দোষ কার, আর কোথায় সীমারেখা টানা উচিৎ! আপনারাও কি অভিনেতার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত?






