বাংলা অভিনয় জগতে ফের নেমে এল শোকের ছায়া। মাতৃহারা হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ভাস্কর ব্যানার্জি। গত ২০ মে তাঁর মা শমিতা ব্যানার্জির মৃত্যু হয়েছে। এই দুঃসংবাদ নিজেই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন অভিনেতা। ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “মা চলে গেলো।” সেই পোস্ট সামনে আসতেই অনুরাগী থেকে সহকর্মী, বহু মানুষ শোকপ্রকাশ করতে শুরু করেন। জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর মায়ের। মৃত্যুকালে শমিতা ব্যানার্জির বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন পরিবারকে আগলে রাখা মানুষটিকে হারিয়ে এখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা। তাঁর পোস্টে মায়ের প্রতি আবেগ এবং শূন্যতার অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মাকে নিয়ে শেষ কয়েক বছরের স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন ভাস্কর ব্যানার্জি। তিনি জানান, “মা ফিটই ছিল। এক বছর আগে মাদার্স ডে-তে মাকে নিয়ে অ্যাক্রোপলিস মলে ‘আমার বস’ সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।” অভিনেতার কথায়, পুজোর পর থেকেই মায়ের শরীর কিছুটা খারাপ হতে শুরু করে। তবে প্রথম দিকে পরিস্থিতি খুব গুরুতর ছিল না। ধীরে ধীরে বয়সজনিত সমস্যার কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাও সব ঠিক ছিল। আস্তে আস্তে বয়সজনিত কারণে অবস্থার অননতি হতে থাকে।” পরিবারের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত গত ২০ মে বিকেল ৫টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই ঘুমের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শমিতা ব্যানার্জি।
এই মৃত্যু অভিনেতার কাছে আরও বেশি আবেগের হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণেও। কারণ, বহু বছর আগে একই মে মাসেই তিনি বাবাকেও হারিয়েছিলেন। ভারাক্রান্ত গলায় অভিনেতা বলেন, “২১ বছর আগে ১৮ মে বাবা চলে গিয়েছে। আর মা চলে গেল ২০ মে।” শুধু তাই নয়, বাবা-মায়ের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি। জানান, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ৪ মে। সেই স্মৃতি মনে করেই তিনি বলেন, “‘এক বৈশাখে দেখা হল দুজনার’, এই গানটা যেন বাবা-মায়ের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।” খুব কাছাকাছি সময়ের এই তারিখগুলো এখন তাঁর জীবনে গভীর আবেগের স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল। বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো পুরনো দিনের কথা মনে করে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা।
মাকে হারানোর কষ্ট নিয়ে ভাস্কর ব্যানার্জি আরও বলেন, “‘সবাইকে একদিন যেতে হবে। আমি অনেকদিন মা-কে পেয়েছি। তবে বয়স যাই হোক, মা-তো মা-ই হয়।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, বয়স যতই হোক, মায়ের চলে যাওয়া কোনও সন্তানই সহজে মেনে নিতে পারেন না। মা-সন্তানের সম্পর্ক যে কত গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও মনে করছেন অনেকে। জীবনের নানা কঠিন সময়ে মায়ের উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে থাকে। সেই মানুষটি হঠাৎ না থাকলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেটাই এখন অনুভব করছেন অভিনেতা। তাঁর ফেসবুক পোস্টেও সেই আবেগের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বহু অনুরাগী কমেন্ট করে তাঁকে শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: “বাবা মা’রা যাওয়া পর্যন্ত আমার চাকরি করাটা মেনে নেননি…আমি কি করব খুব নিশ্চিত ছিলাম, কিন্তু কারও সঙ্গে ঝগড়া করিনি” শ্বশুরবাড়িতে বউদের চাকরি করার স্বাধীনতা ছিল না, যৌথ পরিবারের কড়া আপত্তির মধ্যেও কীভাবে নীরব লড়াইয়ে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন শাশ্বতী গুহ ঠাকুরতা?
বৃহস্পতিবার রাতে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বাংলা বিনোদন জগতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিনেতার সহকর্মী ও ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত অনেকেই সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই শমিতা ব্যানার্জির আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ হিসেবে কাজ করে আসছেন ভাস্কর ব্যানার্জি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই তাঁকে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময়েও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন অনুরাগী ও সহকর্মীরা। অভিনেতার পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন সকলে।






