“চুরি যে চুরি নয়, সেটা প্রমাণ করতে লড়বেন?” “যাদের দুর্নী’তিতে নিরীহ মানুষ খু’ন হয়, তাদের হয়ে লড়াইকে আপনি ‘কাজ’ বলেন!” এটা কেমন কমরেডশিপ? অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর ঢাল হয়েছেন বিকাশরঞ্জন! ক্ষোভে ফুঁসছেন সিপিএম সমর্থকেরা, চাঁচাছোলা ভাষায় কী বার্তা সৌরভ পালোধীর?

আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনি লড়াই ঘিরে এবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল। কলকাতা হাই কোর্টে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেছেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। যদিও আগাম জামিনের আবেদন শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়, তবুও আদালতে তাঁর উপস্থিতি নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলায় সিপিএমের পরিচিত মুখ বিকাশ ভট্টাচার্যের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারছেন না অনেক বাম সমর্থক। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভাজন। আলিমুদ্দিনের অন্দরেও এই নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই আবহেই সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করেন সিপিএম সমর্থক সৌরভ পালোধী। যদিও কোথাও সরাসরি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম লেখেননি, তাঁর মন্তব্য যে বিকাশকে ঘিরেই তা স্পষ্ট। ক্ষোভ প্রকাশ করে সৌরভ লেখেন, “যে পার্টির চুরি আর দুর্নীতির জন্য আপনার পার্টির হাজার হাজার কর্মী খুন হল তাদের চুরি যে চুরি নয় এটা প্রমাণ করতে আপনি কোর্টে লড়বেন?” এখানেই থামেননি তিনি। আরও লেখেন, “এটাকে আবার আপনি আপনার ‘কাজ’ বলে ন্যারেটিভ সেট করবেন। এটা কেমন কমরেডশিপ।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাম সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন সরব ছিল বাম শিবির, তাঁদের পক্ষেই কীভাবে আদালতে দাঁড়ালেন বিকাশ।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সৌরভ আরও লেখেন, “আমরা রইলাম আমাদের আদর্শ আঁকড়ে। পার্টির খারাপ সময় থেকে পার্টির সমর্থক। জিতেছে বলে আখের গোছানোর জন্য পার্টি সমর্থক হইনি।” তিনি দাবি করেন, আদর্শের জায়গা থেকে সিপিএমকে সমর্থন করেছেন তাঁরা। সেই কারণেই এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর আরও বক্তব্য, “আমরা রইলাম সিপিএম আঁকড়ে। আপনি প্রার্থী ছিলেন অনেকবার। আপনি আপনার শত্রু শিবিরের হয়ে কোর্টে সওয়াল করবেন?” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনার শুধু ‘কাজ’ আছে। সুদীপ্ত, মইদুলের কোনো ‘কাজ’ ছিল না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছে সিপিএম। রাজারহাট অঞ্চলে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি তৈরির অভিযোগ নিয়ে ভোটের সময়েও প্রচার চালান সিপিএম কর্মী ও নেতারা। এলাকায় দুর্নীতি ইস্যুতে সরব ছিল বাম শিবির। সেই পরিস্থিতিতে একই মামলায় সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবীর উপস্থিতি অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও বিকাশ ভট্টাচার্যের সমর্থকদের দাবি, তিনি পেশাদার আইনজীবী হিসেবেই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবুও বিতর্ক থামছে না।

আরও পড়ুনঃ “এত তাড়াতাড়ি রং বদলানোর দরকার নেই, লাভ হবে না” “নিজেদের শিরদাঁড়াটা এইভাবে ভেঙে ফেললে মানুষ আর চিনবে না” পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ‘দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা’র সপাটে জবাব লকেট চট্টোপাধ্যায়ের! একসময় বিজেপিকে ‘অচ্ছুত’ ভাবা শিল্পীদের উদ্দেশ্যে কি জানালেন অভিনেত্রী?

এদিকে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বাংলায় ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি সরকার গঠনের পর একাধিক পুরনো অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই আবহেই দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি আদালতের দ্বারস্থ হন আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে। তবে হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। তদন্ত আরও এগোতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার আইনি লড়াই এখন শুধু আদালতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে রাজনৈতিক আদর্শ ও নৈতিকতার বিতর্কেও। আর সেই কারণেই বিকাশ ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে সমাজমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক অন্দর, সর্বত্রই আলোচনা তুঙ্গে।

You cannot copy content of this page